পাঠ ২৪
তারা তাদের প্রতিজ্ঞা পূরণ করেনি
যিহোবা মোশিকে বলেন: ‘তুমি পর্বতের উপরে আমার কাছে আসো। আমি আমার আজ্ঞা পাথরের ফলকের উপর লিখে তোমাকে দেব।’ মোশি পর্বতের উপরে ওঠেন আর সেখানে ৪০ দিন এবং ৪০ রাত ধরে থাকেন। সেইসময় যিহোবা পাথরের দুটো ফলকের উপর দশ আজ্ঞা লেখেন এবং তা মোশিকে দেন।
কিছুসময় পর, ইজরায়েলীয়দের মনে হয়েছিল যে, মোশি তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাই, তারা হারোণকে বলে: ‘আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কারো প্রয়োজন। আমাদের জন্য এক দেবতা নির্মাণ করুন!’ হারোণ বলেন: ‘ঠিক আছে, তোমাদের সবার কাছে যে-সোনা আছে, তা আমাকে দাও।’ তিনি সোনা গলিয়ে তা থেকে বাছুরের একটা মূর্তি তৈরি করেন। লোকেরা বলতে থাকে: ‘এই বাছুরই আমাদের দেবতা, যিনি মিশর থেকে আমাদের বের করে এনেছেন!’ তারা সেই সোনার বাছুরের উপাসনা করতে শুরু করে আর সেইসঙ্গে একটা উৎসব পালন করে। এমনটা করা কী ভুল ছিল? হ্যাঁ, কারণ লোকেরা প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, তারা কেবল যিহোবারই উপাসনা করবে। কিন্তু, তারা এখন সেই প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী কাজ করছে না।
যিহোবা এই সমস্ত কিছু দেখছিলেন আর তাই তিনি মোশিকে বলেন: ‘নীচে লোকদের কাছে যাও। তারা আমার অবাধ্য হয়েছে এবং মিথ্যা দেবতার উপাসনা করছে।’ মোশি ফলক দুটো হাতে নিয়ে পর্বত থেকে নেমে আসেন।
মোশি যখন লোকদের কাছে আসছিলেন, তখন তিনি গানের আওয়াজ শুনতে পান। তিনি দেখেন, লোকেরা নাচানাচি করছে এবং বাছুরের সামনে মাথা নত করে সেটার উপাসনা করছে। মোশি ভীষণ রেগে যান। তিনি ফলকগুলো মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন এবং সেগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তিনি সঙ্গেসঙ্গে সেই মূর্তি ধ্বংস করে দেন। এরপর, তিনি হারোণকে জিজ্ঞেস করেন: ‘লোকেরা তোমাকে এমন কী বলেছে যে, তুমি তাদের কথা শুনে এত খারাপ একটা কাজ করলে?’ হারোণ বলেন: ‘তুমি রাগ কোরো না। তুমি তো জান, এরা কেমন লোক। তারা একটা দেবতা চেয়েছিল আর তাই তারা যে-সমস্ত সোনা দিয়েছিল, সেগুলো আমি আগুনে ফেলে একটা বাছুর তৈরি করি।’ হারোণের এমনটা করা উচিত ছিল না। মোশি আবারও পর্বতের উপরে যান এবং তিনি যিহোবার কাছে অনুরোধ করেন, যেন তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন।
যিহোবা কেবল সেই লোকদের ক্ষমা করেছিলেন, যারা তাঁর কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল। তুমি কি বুঝতে পারছ, যিহোবা এবং তাঁর মনোনীত নেতা মোশির কথা শোনা ইজরায়েলীয়দের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
“তুমি ঈশ্বরের কাছে কোনো অঙ্গীকার করলে সেটা পূর্ণ করতে দেরি কোরো না কারণ ঈশ্বর মূর্খ ব্যক্তিদের প্রতি সন্তুষ্ট হন না। তুমি যে-অঙ্গীকার করবে, সেটা পূর্ণ কোরো।”—উপদেশক ৫:৪, NW