অদ্ভুত এবং ভয়বহ ঘটনাগুলি ওজোন রন্ধ্রের নিচে
চিলির সম্পূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলের শহর পুন্টা আরিনাস্-এর ১,২৫,০০০ জন বসবাসকারীরা বহু দিন যাবৎ “জগতের শেষে বাস করছি” বলে ঠাট্টা করতেন। কিন্তু গত বছর বহু অদ্ভুত ও ভয়াবহ ঘটনাগুলি এই ঠাট্টাকে বেশ আক্ষরিক করে তুলেছে। কিছু বিজ্ঞানী চিন্তা করতে আরম্ভ করেছেন যে “সূর্যের নিচে এখানে কোন নতুন কিছু আছে।” দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, জানুয়ারি ১২, ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধ কিছুটা বিশদ বিবরণ দেয়।
ম্যগ্যাইয়োনিস স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণা দলের সদস্য, ফেলিক্স স্মোরনো বলেন: “অক্টোবরে আমরা সবচেয়ে কম ওজোন স্তরের পরিমাপ পাই। তিন দিনের জন্য যা সাধারণ তার থেকে ওজোন স্তর প্রায় অর্দ্ধেক কমে গেছে এবং যাকে বিপজ্জনক সীমা হিসাবে ধরা হয় তার থেকে নিচে নেমে যায়।” ওজোন স্তরে রন্ধ্রের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত আলট্রাভায়লেট বিকিরণের প্রতিক্রিয়ার জন্য “ত্বক ক্যানসার হয় ও চোখে ছানি পড়ে, তাছাড়া ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, যা হল সামুদ্রিক খাদ্য-শৃঙ্খলের ভিত্তি, তার সমস্যা দেখা দেয়,” বলে জার্নাল।
গত বছর “রডোভন্ ভিল্সিস্-এর ১,২০০ টি গবাদি পশুর মধ্যে অর্দ্ধেকের নেত্রবত্মকলার প্রদাহের জন্য এত অন্ধ হয়ে যায় যে তারা বাম্পার গাড়ির মত পরস্পরকে ধাক্কা দেয় এবং পাঁচটি গরু না খেয়ে মারা যায় কারণ তারা খাদ্য খুঁজে পায়নি।”
জার্নালের প্রবন্ধটি আরও বলে: “হোসা বোমন্ডে অনেকটা একই ধরনের গল্প বলে। তার গবাদি পশু থাকার জন্য বিস্তৃত এলাকাটি ছিল এখান থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে, যেখান থেকে ম্যাগেয়ান সমভূমি অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়, কিন্তু তার ৪,৩০০টি ভেঁড়ার পালের বহু ভেঁড়া তা দেখতে পায় না বা কোন কিছুই দেখতে পায় না। তাদের মধ্যে প্রায় ১০% কে চোখের সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা করা হয়েছে এবং গত বছর ২০০টি ভেঁড়া অন্ধ হয়ে গেছে।”
ত্বক-বিশেষজ্ঞ হিমে অবারকা, যুক্তি দিয়ে বলেন যে “এখানে যা ঘটছে তা বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ এক নতুন বিষয়। এটি যেন সেই মঙ্গল গ্রহের মানুষ নেমে আসার মত অদ্ভুত।” তিনি দিনের পর দিন বহু রোগীকে ত্বকের সমস্যায় ভুগতে দেখছেন, রৌদ্রে গায়ের চামড়া জ্বলে যাওয়ার ঘটনা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেছে এবং নতুন ধরনের ত্বক ক্যানসার দেখা দিচ্ছে যা হল বিপজ্জনক মেলানোমা ক্যানসার, সাধারণত যতটা দেখা যায় তার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয় নিশ্চিত যে এর সাথে অতিরিক্ত আলট্রাভায়লেট বিকিরণের সম্পর্ক আছে।
পুন্টা আরিনাস-এর জনসাধারণ এই বিষয়টি এখন গুরুতরভাবে নিয়েছেন। একটি ফার্মাসী গত বছরের থেকে ৪০ শতাংশ বেশি সান্স্ক্রীন বিক্রি করে। সানবার্ন হটলাইন আলট্রাভায়লেট বিকিরণের মাত্রা বলে। তিনটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনও তা প্রচার করে। স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের টুপি, রোদ-চশমা পরতে ও সানস্ক্রীন লাগাতে বলে। একটি দোকানে রোদ-চশমা বিক্রি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। আর “এক স্থানীয় কৃষক ভেঁড়াদের জন্য রোদ-চশমা তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
রাজ্যপাল স্করপা বলেন: “আমি এই বিষয়গুলিকে অস্বীকার করতে পারি না। . . . আপনারা কী করতে চান? আমরা সমস্ত অঞ্চলটিকে তো একটি ছাদের তলায় রাখতে পারি না।” (g93 9/22)