পরিবার পরিকল্পনা বিশ্বব্যাপী এক বিতর্কের বিষয় হয়েছে
“মানব জাতির কাছে বর্তমানে প্রাপ্তিসাধ্য অন্যান্য যে কোন ‘প্রযুক্তি বিদ্যা’-র থেকেও পরিবার পরিকল্পনা বহু লোকের জন্য কম খরচে বেশী উপকার আনতে পারে। . . . জনসংখ্যার মত কোন সমস্যা যদি নাও থাকে সেই ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি সত্য হবে।”
—দ্যা স্টেট অফ্ দ্যা ওয়ার্ল্ডস্ চিল্ড্রেন ১৯৯২.
পূর্বে বহু সন্তান থাকাটি ছিল আনন্দের বিষয়। প্রায় চার হাজার বছর আগে, রিবিকা ইস্হাককে বিবাহ করার জন্য মেসোপটেমিয়া ছেড়ে যাওয়ার সময় তার মা ও ভাইয়েরা তাকে এই কথাগুলি বলে আশীর্বাদ করে: “তুমি আমাদের ভগিনী, সহস্র সহস্র অযুতের জননী হও।” (আদিপুস্তক ২৪:৬০) এখন সময় বদলে গেছে। বর্তমানে বেশীরভাগ স্ত্রীলোকেরাই বলেন যে তারা কম সন্তান চান।
“সাতটি সন্তানের মধ্যে আমি তৃতীয় ছিলাম,” একটি কন্যার, ২২ বছরের ইন্দোনেশীয় মা, বু বলেন। “আমার বাবা মধ্য জাভার ক্লটানে তালের রস বিক্রেতা ছিলেন, আর এতগুলি ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে আমার বাপমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। . . . পরিবারে কম ছেলেমেয়ে থাকলে সেই পরিবারকে ভরণপোষণ করা সহজ হয়।”
জগদ্ব্যাপী অন্যান্য পিতামাতার মনোভাব বুয়ের মতোই। বেশীরভাগ দম্পতিই পরিকল্পনা করতে চায় কখন তাদের সন্তান হবে, কতগুলি হবে, কতটা ব্যবধানে হবে এবং কখন তারা আর সন্তান চাইবে না। এই বিষয়টি রাষ্ট্রসঙ্ঘ পরিসংখ্যানে এই ইঙ্গিত করে প্রতিফলিত হয় যে, উন্নতিশীল দেশগুলিতে গর্ভনিরোধক দ্রব্যাদির স্বেচ্ছায় ব্যবহার নাটকীয়রূপে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ১৯৬০ সালে ১০ শতাংশ দম্পতি ব্যবহার করত, এখন সেই সংখ্যা ৫১ শতাংশে এসে পৌঁছেচে।
পরিবার পরিকল্পনা প্রবর্তন করতে সরকারও বেশ আগ্রহী। উন্নতিশীল দেশগুলির মধ্যে অর্দ্ধেকেরও বেশী দেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস করার জন্য কার্যক্রম নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জনসংখ্যা ফান্ড গণনা করে যে জনসংখ্যা-নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এখন বছরে মোট প্রায় $৪,৫০,০০,০০,০০০ খরচা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে চাহিদা পূরণ করতে এই সংখ্যাটি ২০০০ সালে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
জন্মের হার নিয়ন্ত্রণ করতে দেশগুলি ও ব্যক্তি বিশেষগণ কেন আগ্রহী? আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি খ্রীষ্টীয় দৃষ্টিকোণ কী? পরবর্তী দুটি প্রবন্ধ এই প্রশ্নগুলি আলোচনা করবে। (g93 2/22)