ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • nwt প্রকাশিত বাক্য ১:১-২২:২১
  • প্রকাশিত বাক্য

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • প্রকাশিত বাক্য
  • পবিত্র বাইবেল—নতুন জগৎ অনুবাদ
পবিত্র বাইবেল—নতুন জগৎ অনুবাদ
প্রকাশিত বাক্য

যোহনের কাছে প্রকাশিত বাক্য

১ যিশু খ্রিস্টের দ্বারা প্রকাশিত* বাক্য, যে-বাক্য ঈশ্বর তাঁকে দিয়েছেন, যেন তিনি তাঁর দাসদের সেই বিষয়গুলো দেখান, যেগুলো শীঘ্রই ঘটবে। আর যিশু তাঁর স্বর্গদূতকে পাঠিয়ে বিভিন্ন চিহ্নের মাধ্যমে তাঁর দাস যোহনকে তা জানিয়েছেন। ২ আর যোহন ঈশ্বরের বাক্যের বিষয়ে এবং যিশু খ্রিস্টের সাক্ষ্যের বিষয়ে, হ্যাঁ, তিনি যা-কিছু দেখেছেন, সেই সমস্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ৩ সুখী সেই ব্যক্তি, যে এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর কথাগুলো জোরে জোরে পড়ে এবং সুখী সেই ব্যক্তিরা, যারা এই ভবিষ্যদ্‌­বাণীতে লেখা বিষয়গুলো শোনে এবং পালন করে, কারণ নিরূপিত সময় কাছে এসে গিয়েছে।

৪ আমি যোহন, এশিয়া প্রদেশের সাতটা মণ্ডলীর প্রতি লিখছি:

“যিনি আছেন এবং যিনি ছিলেন এবং যিনি আসছেন, সেই ঈশ্বরের” এবং তাঁর সিংহাসনের সামনে থাকা সাতটা শক্তির মহাদয়া ও শান্তি তোমাদের উপর বর্ষিত হোক। ৫ আর যিনি “বিশ্বস্ত সাক্ষি,” “মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত” এবং “পৃথিবীর রাজাদের শাসক,” সেই যিশু খ্রিস্টও যেন তোমাদের প্রতি মহাদয়া দেখান এবং তোমাদের শান্তি দান করেন।

যিশু, যিনি আমাদের ভালোবাসেন এবং নিজের রক্ত দিয়ে আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছেন ৬ আর আমাদের রাজা ও যাজক করেছেন, যেন আমরা তাঁর ঈশ্বর ও পিতার সেবা করি, চিরকাল তাঁরই গৌরব হোক এবং ক্ষমতা থাকুক। আমেন।

৭ দেখো! তিনি মেঘ-সহ আসছেন এবং প্রত্যেকে তাঁকে দেখবে, এমনকী যারা তাঁকে বিদ্ধ করেছিল, তারাও তাঁকে দেখবে; আর পৃথিবীর সমস্ত জাতির লোক তাঁর কারণে প্রচণ্ড দুঃখে নিজেদের বুক চাপড়াবে। হ্যাঁ, এমনটা সত্যিই ঘটবে। আমেন।

৮ যিহোবা* ঈশ্বর বলেন, “আমিই আলফা ও ওমেগা।* আমি আছি এবং আমি ছিলাম এবং আমি আসব। আমিই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।”

৯ আমি যোহন, তোমাদের ভাই এবং আমি যিশুর অনুসারী হিসেবে তোমাদের সঙ্গে একই কষ্ট, একই ক্লেশ ভোগ করছি এবং তোমাদের সঙ্গে রাজত্বও করব। আমি ঈশ্বরের বিষয়ে কথা বলার এবং যিশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে পাট্‌ম দ্বীপে ছিলাম। ১০ পবিত্র শক্তির অনুপ্রেরণায় আমি প্রভুর দিনে উপস্থিত হলাম এবং আমি আমার পিছন থেকে তূরীর আওয়াজের মতো এক জোরালো কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: ১১ “তুমি যা যা দেখছ, সেগুলো একটা গোটানো পুস্তকে লেখো এবং সেটা এই সাতটা নগরের মণ্ডলীতে পাঠাও: ইফিষ, স্মুর্ণা, পর্গাম, থুয়াতীরা, সার্দি, ফিলাদিল্‌ফিয়া ও লায়দিকেয়া।”

১২ কে আমার সঙ্গে কথা বলছেন, তা দেখার জন্য আমি যখন পিছনে ঘুরে তাকালাম, তখন দেখলাম, সাতটা সোনার দীপবৃক্ষ ১৩ আর সেই দীপবৃক্ষগুলোর মাঝখানে মনুষ্যপুত্রের মতো একজন ব্যক্তি রয়েছেন; তিনি পা পর্যন্ত লম্বা পোশাক এবং বুকে সোনার বন্ধনী পরে আছেন। ১৪ তাঁর মাথার চুল মেষলোমের ও তুষারের মতো সাদা, তাঁর চোখ আগুনের শিখার মতো, ১৫ তাঁর পা অগ্নিকুণ্ডে পরিষ্কৃত চকচকে তামার মতো এবং তাঁর কণ্ঠস্বর জোরে বয়ে চলা জলস্রোতের শব্দের মতো। ১৬ আর তাঁর ডান হাতে সাতটা তারা রয়েছে এবং তাঁর মুখ থেকে তীক্ষ্ণ ও লম্বা এবং দু-দিকেই ধার রয়েছে এমন একটা খড়্গ বের হয়ে আসছে এবং তাঁর মুখমণ্ডল তেজোময় সূর্যের মতো উজ্জ্বল। ১৭ তাঁকে দেখার সঙ্গেসঙ্গে আমি মরার মতো তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়লাম।

আর তিনি তাঁর ডান হাত আমার উপর রেখে বললেন: “ভয় পেয়ো না। আমি প্রথম ও শেষ ১৮ এবং জীবন্ত ব্যক্তি। আমি মারা গিয়েছিলাম, কিন্তু দেখো! এখন আমি বেঁচে আছি এবং যুগে যুগে চিরকাল ধরে বেঁচে থাকব আর আমার কাছে মৃত্যু ও কবরের* চাবিগুলো রয়েছে। ১৯ অতএব, তুমি যা যা দেখলে এবং এখন যা যা ঘটছে আর এগুলোর পরে যা যা ঘটবে, সেই সমস্তই লেখো। ২০ তুমি আমার ডান হাতে যে-সাতটা তারা দেখলে এবং যে-সাতটা সোনার দীপবৃক্ষ দেখলে, সেগুলোর পবিত্র রহস্য এই: সাতটা তারা সাতটা মণ্ডলীর বার্তাবাহকদের* চিত্রিত করে আর সাতটা দীপবৃক্ষ সাতটা মণ্ডলীকে চিত্রিত করে।

২ “ইফিষের মণ্ডলীর বার্তাবাহকের* প্রতি লেখো: যিনি তাঁর ডান হাতে সাতটা তারা ধরে আছেন এবং যিনি সাতটা সোনার দীপবৃক্ষের মাঝখানে চলাফেরা করেন, তিনি এই কথা বলেন: ২ ‘আমি তোমার কাজ এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য সম্বন্ধে জানি; আর আমি এও জানি, তুমি মন্দ লোকদের সহ্য করতে পার না এবং যারা প্রেরিত নয়, অথচ প্রেরিত হওয়ার দাবি করে, তাদের তুমি পরীক্ষা করেছ এবং তারা যে মিথ্যাবাদী, তা জানতে পেরেছ। ৩ আর তুমি ধৈর্যও দেখাচ্ছ এবং তুমি আমার নামের জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছ, ক্লান্ত হয়ে পড়নি। ৪ তা সত্ত্বেও, তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা রয়েছে। প্রথমে তোমার যে-প্রেম ছিল, তা তুমি পরিত্যাগ করেছ।

৫ “‘অতএব, স্মরণ করে দেখ, তুমি কোন অবস্থা থেকে কোথায় পতিত হয়েছ; তুমি অনুতপ্ত হও এবং তুমি প্রথমে যে-কাজগুলো করতে, সেগুলো আবারও করো। তুমি যদি অনুতপ্ত না হও, তা হলে আমি তোমার কাছে আসব এবং তোমার দীপবৃক্ষ যেখানে রয়েছে, সেই স্থান থেকে সেটা সরিয়ে ফেলব। ৬ তবে, তোমার মধ্যে এই ভালো বিষয় রয়েছে: তুমি নীকলায়­তীয়দের* কাজগুলোকে ঘৃণা কর, যেগুলোকে আমিও ঘৃণা করি। ৭ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে: যে জয় করে, তাকে আমি জীবনবৃক্ষের ফল খেতে দেব, যে-বৃক্ষ ঈশ্বরের পরমদেশে রয়েছে।’

৮ “আর স্মুর্ণার মণ্ডলীর বার্তা­বাহকের* প্রতি লেখো: যিনি ‘প্রথম ও শেষ,’ যিনি মারা গিয়েছিলেন এবং আবারও জীবিত হয়েছেন, তিনি এই কথা বলেন: ৯ ‘আমি তোমার ক্লেশ ও দরিদ্রতা সম্বন্ধে জানি। কিন্তু তবুও, তুমি ধনী। আর আমি এও জানি, যারা নিজেদের যিহুদি বলে দাবি করে, অথচ যিহুদি নয়, বরং শয়তানের দলের লোক,* তারা তোমার নিন্দা করে। ১০ তুমি খুব শীঘ্রই যা যা ভোগ করবে, সেগুলোর জন্য ভয় পেয়ো না। দেখো! দিয়াবল তোমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে কারাগারে বন্দি করতে থাকবে। তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পরীক্ষা করা হবে এবং দশ দিন ধরে তোমাদের ক্লেশ ভোগ করতে হবে। তুমি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো, তা হলে আমি তোমাকে জীবনমুকুট দেব। ১১ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে: যে জয় করে, সে কখনো দ্বিতীয় মৃত্যু ভোগ করবে না।’

১২ “পর্গামের মণ্ডলীর বার্তাবাহকের* প্রতি লেখো: যাঁর কাছে তীক্ষ্ণ ও লম্বা এবং দু-দিকেই ধার রয়েছে এমন একটা খড়্গ আছে, তিনি এই কথা বলেন: ১৩ ‘তুমি কোথায় বাস করছ, তা আমি জানি; সেখানে তো শয়তানের সিংহাসন রয়েছে। কিন্তু তবুও, তুমি আমার প্রতি অনুগত রয়েছ* আর তুমি আমার প্রতি তোমার বিশ্বাস অস্বীকার করনি, এমনকী সেই সময়ও, যখন আমার বিশ্বস্ত সাক্ষি আন্তিপাকে তোমাদের সেই নগরে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে শয়তানের বাসস্থান রয়েছে।

১৪ “‘তা সত্ত্বেও, তোমার বিরুদ্ধে আমার কিছু কথা রয়েছে। তুমি তোমার ওখানে এমন লোকদের থাকতে দিয়েছ, যারা বিলিয়মের শিক্ষা অনুসারে চলে। সে তো বালাককে শিখিয়ে দিয়েছিল, যেন বালাক প্রতিমার প্রসাদ খাওয়ার এবং যৌন অনৈতিক কাজ* করার জন্য ইজ­রায়েলীয়দের প্রলুব্ধ করে।* ১৫ একইভাবে, তুমি সেই লোকদেরও থাকতে দিয়েছ, যারা নীকলায়­তীয়দের* শিক্ষা অনুসারে চলে। ১৬ অতএব, অনুতপ্ত হও। যদি না হও, তা হলে আমি শীঘ্রই তোমার কাছে আসব আর আমার মুখ থেকে যে-লম্বা খড়্গ বের হয়ে আসছে, সেটা দিয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

১৭ “‘যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে: যে জয় করে, তাকে আমি গুপ্ত মান্না থেকে কিছুটা মান্না দেব এবং তাকে একটা সাদা নুড়িপাথরও দেব। সেই নুড়িপাথরের উপর একটা নতুন নাম লেখা আছে, যে-নাম অন্য কেউ জানে না, কেবল সে-ই জানে, যে তা পায়।’

১৮ “থুয়াতীরার মণ্ডলীর বার্তা­বাহকের* প্রতি লেখো: যাঁর চোখ আগুনের শিখার মতো এবং যাঁর পা চকচকে তামার মতো, ঈশ্বরের সেই পুত্র এই কথা বলেন: ১৯ ‘আমি তোমার কাজ এবং তোমার প্রেম ও বিশ্বাস ও সেবা ও ধৈর্য সম্বন্ধে জানি; আর আমি এও জানি, তুমি প্রথমে যে-সমস্ত কাজ করেছিলে, সেগুলোর চেয়ে এখন আরও উত্তম কাজ করছ।

২০ “‘তা সত্ত্বেও, তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা রয়েছে। ঈষেবলের মতো সেই মহিলাকে তুমি থাকতে দিয়েছ, যে নিজেকে ভাববাদিনী বলে। সে তার শিক্ষাগুলোর মাধ্যমে আমার দাসদের ভ্রান্ত করছে, যাতে তারা যৌন অনৈতিক কাজ* করে এবং প্রতিমার প্রসাদ খায়। ২১ আমি তাকে অনুতপ্ত হওয়ার জন্য সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তার যৌন অনৈতিকতার* জন্য অনুতপ্ত হতে চায় না। ২২ দেখো! আমি খুব শীঘ্রই তাকে রোগে আক্রান্ত করে বিছানায় ফেলে রাখব এবং যারা তার সঙ্গে ব্যভিচার* করে, তাদের প্রচণ্ড ক্লেশের মধ্যে ফেলব, যদি না তারা সেই কাজগুলোর জন্য অনুতপ্ত হয়, যেগুলো করার জন্য সে তাদের প্ররোচিত করেছিল। ২৩ আর আমি তার সন্তানদের মারাত্মক মহামারি দ্বারা হত্যা করব। এতে সমস্ত মণ্ডলী জানতে পারবে, আমিই মানুষের গভীরতম চিন্তা* ও হৃদয় অনুসন্ধান করি। আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তোমাদের কাজ অনুযায়ী ফল দেব।

২৪ “‘তবে, থুয়াতীরার বাকি লোকেরা, তোমরা যারা ঈষেবলের শিক্ষা গ্রহণ কর না এবং যে-বিষয়গুলোকে “শয়তানের গভীর বিষয়” বলা হয়, সেগুলো সম্বন্ধে কিছুই জান না, তোমাদের আমি বলছি: আমি তোমাদের উপর অন্য আর কোনো বোঝা চাপাচ্ছি না। ২৫ কেবল এটা বলছি, তোমাদের যা আছে, আমি না আসা পর্যন্ত তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো। ২৬ আর যে জয় করে এবং শেষ পর্যন্ত আমার আজ্ঞা পালন করে, তাকে আমি জগতের লোকদের উপর শাসন করার অধিকার দেব, ২৭ ঠিক যেমন আমি আমার পিতার কাছ থেকে লাভ করেছি। আর সে লোহার দণ্ড দিয়ে লোকদের এমনভাবে শাসন করবে যে, তারা মাটির পাত্রের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ২৮ আর আমি তাকে শুকতারা দেব। ২৯ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে।’

৩ “সার্দির মণ্ডলীর বার্তাবাহকের* প্রতি লেখো: যাঁর কাছে ঈশ্বরের সাতটা শক্তি এবং সাতটা তারা রয়েছে, তিনি এই কথা বলেন: ‘তোমার কাজ সম্বন্ধে আমি জানি। তোমাকে জীবিত বলে মনে হয়, কিন্তু আসলে তুমি মৃত। ২ তুমি সতর্ক হও এবং অবশিষ্ট মৃতপ্রায় ব্যক্তিদের* শক্তিশালী করো, কারণ আমি আমার ঈশ্বরের সামনে তোমার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে দেখিনি। ৩ অতএব, তুমি যা যা পেয়েছ এবং যা যা শুনেছ, সেগুলো সবসময় স্মরণ করো এবং পালন করো আর অনুতপ্ত হও। তুমি যদি জেগে না ওঠ, তা হলে চোর যেভাবে আসে, আমিও সেভাবে আসব আর তুমি জানতেও পারবে না, আমি কোন সময় আসব।

৪ “‘কিন্তু, সার্দিতে এমন কয়েক জন ব্যক্তি* রয়েছে, যারা নিজেদের পোশাক কলুষিত করেনি। তারা সাদা পোশাক পরে আমার সঙ্গে হাঁটবে, কারণ তারা এই সমাদর পাওয়ার যোগ্য। ৫ যে জয় করে, সে একইভাবে সাদা পোশাক পরবে আর আমি কোনোমতে তার নাম জীবনপুস্তক থেকে মুছে ফেলব না, বরং আমি আমার পিতা এবং তাঁর বার্তাবাহকদের* সামনে সেই ব্যক্তির নাম স্বীকার করব। ৬ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে।’

৭ “ফিলাদিল্‌ফিয়ার মণ্ডলীর বার্তা­বাহকের* প্রতি লেখো: যিনি পবিত্র ও সত্যময়, যাঁর কাছে দায়ূদের চাবি রয়েছে, যিনি কোনো দরজা খুললে কেউ সেটা বন্ধ করতে পারে না এবং বন্ধ করলে কেউ সেটা খুলতে পারে না, তিনি এই কথা বলেন: ৮ ‘তোমার কাজ সম্বন্ধে আমি জানি। (দেখো! আমি তোমার সামনে একটা দরজা খুলেছি, যেটা কেউ বন্ধ করতে পারে না।) আর আমি জানি, যদিও তোমার খুব বেশি শক্তি নেই, তবুও তুমি আমার কথার বাধ্য হয়েছ এবং আমার নাম অস্বীকার করনি। ৯ দেখো! শয়তানের দলের* যে-লোকেরা নিজেদের যিহুদি বলে দাবি করে, অথচ যিহুদি নয়, কিন্তু মিথ্যা কথা বলে, দেখো! আমি তাদের তোমার কাছে এনে তোমার পায়ের সামনে মাথা নত* করাব এবং তাদের জানাব যে, আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। ১০ যেহেতু তুমি আমার ধৈর্যের উদাহরণ অনুসরণ করেছ, তাই আমিও তোমাকে পরীক্ষার সময় রক্ষা করব। পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের পরীক্ষা করার জন্য পুরো পৃথিবীর উপর এই পরীক্ষা আসবে। ১১ আমি শীঘ্রই আসছি। তোমার যা আছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো, যেন কেউ তোমার মুকুট কেড়ে নিতে না পারে।

১২ “‘যে জয় করে, তাকে আমি আমার ঈশ্বরের মন্দিরে স্তম্ভ করে তুলব এবং কোনো কিছুই তাকে সেখান থেকে সরাতে পারবে না। আর আমি তার কপালে আমার ঈশ্বরের নাম এবং স্বর্গে আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসা আমার ঈশ্বরের নগরের অর্থাৎ নতুন জেরুসালেমের নাম এবং আমার নিজের নতুন নাম লিখব। ১৩ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে।’

১৪ “লায়দিকেয়ার মণ্ডলীর বার্তা­বাহকের* প্রতি লেখো: যিনি বিশ্বস্ত ও সত্যময় সাক্ষি এবং ঈশ্বরের সৃষ্টির শুরু, সেই আমেন এই কথা বলেন: ১৫ ‘তোমার কাজ সম্বন্ধে আমি জানি। তুমি না ঠাণ্ডা, না গরম। তুমি হয় ঠাণ্ডা, নাহয় গরম হলে ভালো হতো। ১৬ অতএব, তুমি যেহেতু ঈষদুষ্ণ অর্থাৎ না গরম, না ঠাণ্ডা, তাই আমি আমার মুখ থেকে তোমাকে বের করে ফেলে দেব। ১৭ তুমি বলে থাক, “আমি ধনী, ধনসম্পদ অর্জন করেছি এবং আমার কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই,” কিন্তু তুমি জান না, তুমি দুর্দশাগ্রস্ত, তোমার অবস্থা করুণ এবং তুমি দরিদ্র ও অন্ধ ও উলঙ্গ। ১৮ তাই, আমি তোমাকে এই উপদেশ দিচ্ছি, তুমি আমার কাছ থেকে আগুনে পরিশোধিত সোনা কেনো, যাতে তুমি ধনী হতে পার; সাদা পোশাক কেনো, যাতে তুমি পোশাক পরতে পার আর এতে অন্যেরা যেন তোমার উলঙ্গতা দেখতে না পায় এবং তুমি লজ্জিত না হও; আর চোখে লাগানোর মলম কেনো, যাতে তুমি দেখতে পাও।

১৯ “‘আমি যাদের ভালোবাসি,* তাদের সকলকে আমি তিরস্কার ও শাসন করি। তাই, উদ্যোগী হও এবং অনুতপ্ত হও। ২০ দেখো! আমি দরজায় দাঁড়িয়ে আঘাত করছি। কেউ যদি আমার গলার স্বর শুনে দরজা খুলে দেয়, তা হলে আমি তার বাড়িতে প্রবেশ করব এবং আমি তার সঙ্গে রাতের খাবার খাব আর সে-ও আমার সঙ্গে রাতের খাবার খাবে। ২১ যে জয় করে, আমি তাকে আমার সঙ্গে আমার সিংহাসনে বসতে দেব, ঠিক যেমন আমি জয় করেছি এবং আমার পিতার সঙ্গে তাঁর সিংহাসনে বসেছি। ২২ যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র শক্তি মণ্ডলীগুলোকে কী বলছে।’”

৪ এরপর আমি তাকালাম আর দেখো! স্বর্গে একটা দরজা খোলা রয়েছে এবং প্রথম যে-কণ্ঠস্বর আমি শুনতে পেলাম, সেটা তূরীর আওয়াজের মতো। সেই কণ্ঠস্বর আমাকে বলল: “এখানে উঠে এসো, আমি তোমাকে সেই বিষয়গুলো দেখাব, যেগুলো অবশ্যই ঘটবে।” ২ আর তখনই ঈশ্বরের পবিত্র শক্তি আমার উপর নেমে এল আর দেখো! স্বর্গে একটা সিংহাসন এবং সিংহা­সনে একজন বসে আছেন। ৩ আর যিনি বসে আছেন, তিনি দেখতে সূর্যকান্ত ও সার্দীয় মণির* মতো এবং সিংহাসনের চারপাশে একটা রংধনু রয়েছে, যেটা দেখতে পান্নার মতো।

৪ সিংহাসনের চারপাশে ২৪টা সিংহা­সন রয়েছে আর আমি দেখলাম, সেই সিংহাসনগুলোতে ২৪ জন প্রাচীন* বসে আছেন। তারা সাদা পোশাক পরে রয়েছেন এবং তাদের মাথায় সোনার মুকুট। ৫ সেই সিংহাসন থেকে বিদ্যুতের ঝলকানি ও কণ্ঠস্বর ও বজ্রধ্বনি বের হয়ে আসছে; আর সিংহাসনের সামনে আগুনের সাতটা বড়ো প্রদীপ জ্বলছে; এগুলো ঈশ্বরের সাতটা শক্তিকে চিত্রিত করে। ৬ সেই সিংহাসনের সামনে যেন স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এক কাচের সমুদ্র রয়েছে।

সিংহাসনের মাঝখানে* এবং সিংহা­সনের চারপাশে চার জন জীবিত প্রাণী রয়েছেন, যাদের দেহের সামনে ও পিছনে চোখে পরিপূর্ণ। ৭ প্রথম জীবিত প্রাণী দেখতে সিংহের মতো, দ্বিতীয় জীবিত প্রাণী দেখতে ষাঁড়ের মতো, তৃতীয় জীবিত প্রাণীর মুখমণ্ডল মানুষের মতো আর চতুর্থ জীবিত প্রাণী দেখতে উড়তে থাকা ঈগল পাখির মতো। ৮ সেই চার জন জীবিত প্রাণীর প্রত্যেকের ছ-টা করে পাখা রয়েছে; পাখাগুলোর সব জায়গা চোখে পরিপূর্ণ। আর তারা দিন-রাত ক্রমাগত এই কথা বলছেন: “যিনি সর্বশক্তিমান এবং যিনি ছিলেন এবং যিনি আছেন এবং যিনি আসছেন, সেই যিহোবা* ঈশ্বর হলেন পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র।”

৯ যিনি সিংহাসনে বসে আছেন এবং যিনি যুগে যুগে চিরকাল বেঁচে থাকেন, সেই ঈশ্বরকে যখনই সেই জীবিত প্রাণীরা গৌরব ও সমাদর ও ধন্যবাদ প্রদান করেন, ১০ তখনই সেই ২৪ জন প্রাচীন,* যিনি সিংহাসনে বসে আছেন এবং যিনি যুগে যুগে চিরকাল বেঁচে থাকেন, সেই ঈশ্বরের সামনে উবুড় হয়ে তাঁর উপাসনা করেন আর তারা সেই সিংহাসনের সামনে তাদের মুকুটগুলো নিক্ষেপ করে এই কথা বলেন: ১১ “হে আমাদের ঈশ্বর যিহোবা,* তুমিই গৌরব ও সমাদর ও ক্ষমতা পাওয়ার যোগ্য, কারণ তুমিই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছ এবং তোমার ইচ্ছার কারণেই সেগুলো অস্তিত্বে এসেছে এবং সৃষ্ট হয়েছে।”

৫ আর আমি দেখলাম, যিনি সিংহা­সনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরের ডান হাতে একটা গোটানো পুস্তক রয়েছে, যেটার উভয় দিকেই* লেখা রয়েছে আর সেটা সাতটা সিলমোহর দিয়ে বাঁধা। ২ পরে আমি দেখলাম, একজন শক্তিশালী স্বর্গদূত উচ্চস্বরে ঘোষণা করছেন: “কে এই গোটানো পুস্তক এবং এটার সিলমোহরগুলো খোলার যোগ্য?” ৩ কিন্তু স্বর্গে, কি পৃথিবীতে, কি পৃথিবীর ভূমির নীচে কেউই সেই গোটানো পুস্তক খুলতে এবং সেটার ভিতরে দেখতে আর সেটা পড়তে পারল না। ৪ তখন আমি খুব কাঁদতে লাগলাম, কারণ এমন কাউকেই পাওয়া গেল না, যে সেই গোটানো পুস্তক খোলার ও পড়ার যোগ্য। ৫ কিন্তু, সেই প্রাচীনদের* মধ্যে একজন আমাকে বললেন: “কেঁদো না। দেখো! যিনি যিহূদা বংশের সিংহ, দায়ূদের মূল, তিনি জয় করেছেন আর তাই তিনি সেই গোটানো পুস্তক এবং সেটার সাতটা সিলমোহর খোলার যোগ্য।”

৬ আর আমি দেখলাম, সেই সিংহা­সনের এবং সেই চার জন জীবিত প্রাণীর মাঝখানে আর সেই প্রাচীনদের* মাঝখানে এক মেষশাবক দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে দেখে মনে হয়, যেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর সাতটা শিং এবং সাতটা চোখ রয়েছে। সেই চোখগুলো ঈশ্বরের সাতটা শক্তিকে চিত্রিত করে, যেগুলোকে পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় পাঠানো হয়েছে। ৭ আর তখনই সেই মেষশাবক এগিয়ে এলেন এবং যিনি সিংহা­সনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরের ডান হাত থেকে গোটানো পুস্তকটা নিলেন। ৮ তিনি যখন গোটানো পুস্তকটা নিলেন, তখন সেই চার জন জীবিত প্রাণী এবং ২৪ জন প্রাচীন* সেই মেষশাবকের সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।* প্রত্যেক প্রাচীনের* হাতে একটা করে বীণা রয়েছে এবং তাদের কাছে ধূপে পূর্ণ সোনার বাটি রয়েছে। (এই ধূপ পবিত্র ব্যক্তিদের প্রার্থনাকে চিত্রিত করে।) ৯ আর তারা এক নতুন গান গাইতে লাগলেন: “তুমিই এই গোটানো পুস্তক নেওয়ার এবং এটার সিলমোহরগুলো খোলার যোগ্য, কারণ তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তুমি নিজের রক্ত দিয়ে সমস্ত বংশ ও ভাষা ও বর্ণ ও জাতির মধ্য থেকে ঈশ্বরের জন্য লোকদের কিনেছ ১০ আর তুমি তাদের রাজা ও যাজক করেছ, যেন তারা আমাদের ঈশ্বরের সেবা করে। তারা পৃথিবীর উপর রাজত্ব করবে।”

১১ পরে আমি তাকালাম আর সেই সিংহাসনের এবং জীবিত প্রাণীদের ও প্রাচীনদের* চারদিক থেকে অনেক স্বর্গদূতের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। সেই স্বর্গদূতদের সংখ্যা অযুত অযুত ও হাজার হাজার ১২ আর তারা উচ্চস্বরে বলছেন: “যাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই মেষশাবকই ক্ষমতা ও ধনসম্পদ ও প্রজ্ঞা ও শক্তি ও সমাদর ও গৌরব ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।”

১৩ পরে আমি স্বর্গের ও পৃথিবীর এবং পৃথিবীর ভূমির নীচের এবং সমুদ্রের সমস্ত প্রাণীকে আর সেগুলোর মধ্যে যা-কিছু আছে, সেগুলোকে এই কথা বলতে শুনলাম: “যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরের এবং মেষশাবকেরই যুগে যুগে চিরকাল প্রশংসা ও সমাদর ও গৌরব ও ক্ষমতা থাকুক।” ১৪ আর সেই চার জন জীবিত প্রাণী বললেন: “আমেন!” এবং সেই প্রাচীনেরা* উবুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন।

৬ পরে আমি যখন মেষশাবককে সেই সাতটা সিলমোহরের মধ্যে প্রথমটা খুলতে দেখলাম, তখন আমি সেই চার জন জীবিত প্রাণীর মধ্যে একজনকে বজ্রধ্বনির মতো আওয়াজে এই কথা বলতে শুনলাম: “যাও!” ২ এরপর আমি তাকালাম আর দেখো! একটা সাদা ঘোড়া এবং যিনি সেটার উপর বসে আছেন, তাঁর হাতে একটা ধনুক রয়েছে; আর তাঁকে একটা মুকুট দেওয়া হল এবং তিনি তাঁর জয় সম্পন্ন করার জন্য জয় করতে করতে চললেন।

৩ তিনি যখন দ্বিতীয় সিলমোহরটা খুললেন, তখন আমি দ্বিতীয় জীবিত প্রাণীকে এই কথা বলতে শুনলাম: “যাও!” ৪ এরপর আরেকটা ঘোড়া বেরিয়ে এল, যেটার রং আগুনের মতো লাল এবং যে সেটার উপর বসে আছে, তাকে পৃথিবী থেকে শান্তি কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হল, যাতে লোকেরা একে অপরকে হত্যা করে। আর তাকে একটা বড়ো খড়্গ দেওয়া হল।

৫ তিনি যখন তৃতীয় সিলমোহরটা খুললেন, তখন আমি তৃতীয় জীবিত প্রাণীকে এই কথা বলতে শুনলাম: “যাও!” এরপর আমি তাকালাম আর দেখো! একটা কালো ঘোড়া এবং যে সেটার উপর বসে আছে, তার হাতে একটা দাঁড়িপাল্লা রয়েছে। ৬ পরে আমি সেই চার জন জীবিত প্রাণীর মধ্য থেকে একটা কণ্ঠস্বরের মতো কিছু শুনতে পেলাম। সেই কণ্ঠস্বর বলছে: “এক কিলোগ্রাম* গমের মূল্য এক দিনার* আর তিন কিলোগ্রাম* যবের মূল্য এক দিনার; জলপাই তেল ও দ্রাক্ষারস* নষ্ট কোরো না।”

৭ তিনি যখন চতুর্থ সিলমোহরটা খুললেন, তখন আমি চতুর্থ জীবিত প্রাণীকে এই কথা বলতে শুনলাম: “যাও!” ৮ এরপর আমি তাকালাম আর দেখো! একটা ফ্যাকাশে রঙের ঘোড়া এবং যে সেটার উপর বসে আছে, তার নাম মৃত্যু। আর কবর* ঠিক তার পিছন পিছন চলছে। পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশের উপর তাদের কর্তৃত্ব দেওয়া হল, যেন তারা এক দীর্ঘ খড়্গ ও দুর্ভিক্ষ এবং মারাত্মক মহামারি এবং পৃথিবীর বন্যপশুদের দ্বারা লোকদের হত্যা করে।

৯ তিনি যখন পঞ্চম সিলমোহরটা খুললেন, তখন আমি দেখলাম, বেদির নীচে সেই লোকদের রক্ত রয়েছে, যাদের ঈশ্বরের বাক্য পালন করার জন্য এবং সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছিল। ১০ তারা চিৎকার করে বলল: “হে নিখিলবিশ্বের প্রভু, পবিত্র ও সত্যময় ঈশ্বর, পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের বিচার করতে এবং আমাদের রক্ত­পাতের জন্য তাদের প্রতিফল দিতে তুমি আর কত দিন অপেক্ষা করবে?” ১১ তখন তাদের প্রত্যেককে একটা করে সাদা পোশাক দেওয়া হল এবং তাদের আরও কিছুসময় অপেক্ষা করতে বলা হল, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের সেই সহদাসদের ও ভাইদের সংখ্যা পূর্ণ হয়, যাদের খুব শীঘ্রই তাদের মতোই হত্যা করা হবে।

১২ পরে আমি যখন তাঁকে ষষ্ঠ সিলমোহরটা খুলতে দেখলাম, তখন প্রচণ্ড ভূমিকম্প হল; আর সূর্য লোমের* তৈরি চটের মতো কালো হয়ে গেল এবং চাঁদ রক্তের মতো লাল হয়ে গেল ১৩ আর প্রচণ্ড বাতাসের ফলে ডুমুর গাছ থেকে যেমন কাঁচা ডুমুর ঝরে পড়ে, তেমনই আকাশমণ্ডলের তারাগুলো পৃথিবীতে খসে পড়ল। ১৪ আর একটা গোটানো পুস্তককে যেমন গুটিয়ে নেওয়া হয়, তেমনই আকাশমণ্ডলকে সরিয়ে ফেলা হল আর প্রতিটা পর্বত এবং প্রতিটা দ্বীপকে নিজ নিজ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। ১৫ আর পৃথিবীর রাজারা, উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা, সেনাপতিরা, ধনী ব্যক্তিরা, ক্ষমতাবান লোকেরা, প্রত্যেক দাস এবং প্রত্যেক স্বাধীন লোক গুহাতে গুহাতে এবং পর্বতের শিলার আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। ১৬ তারা পর্বত ও শিলাগুলোকে বলতে লাগল: “আমাদের ঢেকে রাখো আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে এবং মেষশাবকের ক্রোধ থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখো, ১৭ কারণ তাঁদের ক্রোধের মহাদিন এসে গিয়েছে; কে রক্ষা পেতে পারে?”

৭ এরপর আমি দেখলাম, পৃথিবীর চার কোণে চার জন স্বর্গদূত দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং তারা পৃথিবীর চার বায়ু দৃঢ়ভাবে আটকে রেখেছেন, যাতে পৃথিবীর কিংবা সমুদ্রের কিংবা কোনো গাছের উপর বায়ু বইতে না পারে। ২ পরে আমি আরেকজন স্বর্গদূতকে পূর্ব দিক* থেকে উঠতে দেখলাম, তার কাছে জীবন্ত ঈশ্বরের এক সিলমোহর রয়েছে; আর যে-চার জন স্বর্গদূতকে পৃথিবী ও সমুদ্রের ক্ষতি করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, তাদের তিনি উচ্চস্বরে ডেকে ৩ বললেন: “যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা আমাদের ঈশ্বরের দাসদের কপালে সিলমোহর দিয়ে চিহ্ন দিই, ততক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীর কিংবা সমুদ্রের কিংবা গাছপালার ক্ষতি কোরো না।”

৪ পরে আমি, যে-লোকদের সিল­মোহর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের সংখ্যা শুনলাম; ইজরায়েলীয়দের ­প্রতিটা বংশের মধ্য থেকে মোট ১,৪৪,০০০ জনকে সিলমোহর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে:

৫ যিহূদা বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে সিলমোহর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে;

রূবেণ বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

গাদ বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

৬ আশের বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

নপ্তালি বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

মনঃশি বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

৭ শিমিয়োন বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

লেবি বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

ইষাখর বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

৮ সবূলূন বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

যোষেফ বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে;

বিন্যামীন বংশের মধ্য থেকে ১২,০০০ জনকে সিলমোহর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৯ এরপর আমি তাকালাম আর দেখো! সমস্ত জাতি ও বংশ ও বর্ণ ও ভাষার মধ্য থেকে আসা এক বিরাট জনতা, যাদের গোনার সাধ্য কারো ছিল না। তারা সাদা পোশাক পরে সিংহা­সনের সামনে এবং মেষশাবকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে; আর তাদের হাতে খেজুর গাছের পাতা। ১০ তারা চিৎকার করে বলতে লাগল: “পরিত্রাণ, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, আমাদের সেই ঈশ্বরের এবং মেষ­শাবকেরই দান।”

১১ আর সমস্ত স্বর্গদূত সেই সিংহা­সনের ও প্রাচীনদের* এবং চার জন জীবিত প্রাণীর চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা সিংহাসনের সামনে উবুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে ১২ বললেন: “আমেন! প্রশংসা ও গৌরব ও প্রজ্ঞা ও ধন্যবাদ ও সমাদর ও ক্ষমতা ও শক্তি যুগে যুগে চিরকাল আমাদের ঈশ্বরেরই হোক। আমেন।”

১৩ তখন সেই প্রাচীনদের* মধ্য থেকে একজন আমাকে বললেন: “এই যে-লোকেরা সাদা পোশাক পরে আছে, এরা কারা এবং এরা কোথা থেকে এসেছে?” ১৪ আমি সঙ্গেসঙ্গে তাকে বললাম: “হে আমার প্রভু, আপনিই তা জানেন।” তিনি আমাকে বললেন: “এরা সেই লোক, যারা মহাক্লেশ পার হয়ে এসেছে এবং মেষশাবকের রক্তে নিজেদের পোশাক ধুয়ে সেগুলোকে সাদা করেছে। ১৫ এইজন্য তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে রয়েছে এবং তারা তাঁর মন্দিরে দিন-রাত তাঁকে পবিত্র সেবা প্রদান করছে; আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বর তাদের সুরক্ষিত রাখবেন।* ১৬ তারা আর ক্ষুধার্ত অথবা তৃষ্ণার্ত হবে না কিংবা তারা সূর্যের তাপ অথবা অন্য কিছুর উত্তাপের ফলে কষ্ট পাবে না, ১৭ কারণ যিনি সিংহাসনের মাঝখানে রয়েছেন, সেই মেষশাবক তাদের পালন করবেন এবং তাদের জীবনজলের উৎসের দিকে নিয়ে যাবেন। আর ঈশ্বর তাদের চোখের সমস্ত জল মুছে দেবেন।”

৮ তিনি যখন সপ্তম সিলমোহরটা খুললেন, তখন স্বর্গে প্রায় আধ ঘণ্টা পর্যন্ত নীরবতা বিরাজ করল। ২ পরে আমি সাত জন স্বর্গদূতকে দেখলাম, যারা ঈশ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আর তাদের সাতটা তূরী দেওয়া হল।

৩ পরে আরেকজন স্বর্গদূত এসে বেদির কাছে দাঁড়ালেন। তার হাতে একটা সোনার ধূপদানি রয়েছে আর তাকে প্রচুর পরিমাণে ধূপ দেওয়া হল, যেন সমস্ত পবিত্র ব্যক্তি যখন প্রার্থনা করে, তখন তিনি সিংহাসনের সামনে থাকা সোনার বেদিতে তা উৎসর্গ করেন। ৪ এতে সেই স্বর্গদূতের হাত থেকে ধূপের ধোঁয়া এবং পবিত্র ব্যক্তিদের প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে গিয়ে পৌঁছাল। ৫ আর সঙ্গেসঙ্গে সেই স্বর্গদূত ধূপদানিটা নিলেন এবং বেদি থেকে আগুন নিয়ে তা পূর্ণ করলেন আর সেই আগুন পৃথিবীতে নিক্ষেপ করলেন। এতে বজ্রধ্বনি ও কণ্ঠস্বর শোনা গেল এবং বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা গেল এবং ভূমিকম্প হল। ৬ আর যে-সাত জন স্বর্গদূতকে সাতটা তূরী দেওয়া হয়েছিল, তারা সেগুলো বাজানোর জন্য প্রস্তুত হলেন।

৭ প্রথম স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর রক্ত মেশানো শিলা ও আগুন পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হল; এতে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেল এবং গাছপালার এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেল এবং সমস্ত ঘাস পুড়ে গেল।

৮ পরে দ্বিতীয় স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর জ্বলন্ত এক বিশাল পর্বতের মতো কিছু-একটা সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হল। এতে সমুদ্রের এক-তৃতীয়াংশ রক্ত হয়ে গেল; ৯ আর সমুদ্রের এক-তৃতীয়াংশ প্রাণী মরে গেল এবং জাহাজগুলোর এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেল।

১০ পরে তৃতীয় স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর মশালের মতো জ্বলন্ত এক বড়ো তারা আকাশ থেকে খসে পড়ল এবং সেটা নদনদীর এক-তৃতীয়াংশের উপর এবং জলের উৎসের উপর পড়ল। ১১ সেই তারার নাম সোমরাজ।* আর জলের এক-তৃতীয়াংশ সোমরাজের মতো তেতো হয়ে গেল এবং তেতো জলের কারণে অনেক লোক মারা গেল।

১২ পরে চতুর্থ স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর সূর্যের এক-তৃতীয়াংশ এবং চাঁদের এক-তৃতীয়াংশ এবং তারা­গুলোর এক-তৃতীয়াংশকে আঘাত করা হল, যাতে সেগুলোর এক-তৃতীয়াংশের উপর অন্ধকার নেমে আসে এবং দিনের এক-তৃতীয়াংশে ও সেইসঙ্গে রাতের এক-তৃতীয়াংশে আলো না থাকে।

১৩ পরে আমি তাকালাম আর আমি আকাশের মাঝপথে উড়তে থাকা একটা ঈগল পাখিকে উচ্চস্বরে এই কথা বলতে শুনলাম: “বিপর্যয়, বিপর্যয়, বিপর্যয়! পৃথিবীতে বসবাসকারীদের উপর বিপর্যয়! কারণ বাকি তিন জন স্বর্গদূত খুব শীঘ্রই তূরী বাজাবেন!”

৯ পরে পঞ্চম স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর আমি আকাশ থেকে পৃথিবীতে খসে পড়া একটা তারা দেখলাম আর তাকে অতল গহ্বরের* মুখ খোলার চাবি দেওয়া হল। ২ এতে তিনি অতল গহ্বরের* মুখ খুললেন এবং সেই মুখ থেকে বিশাল অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়ার মতো ধোঁয়া বের হল আর সেই ধোঁয়ার কারণে সূর্য ও সেইসঙ্গে বায়ু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। ৩ সেই ধোঁয়ার মধ্য থেকে পঙ্গপাল বের হয়ে পৃথিবীতে এল এবং পৃথিবীর কাঁকড়াবিছের যেমন ক্ষমতা রয়েছে, তাদের তেমন ক্ষমতা দেওয়া হল। ৪ তাদের বলা হল, যেন তারা পৃথিবীর কোনো ঘাস, কি উদ্ভিদ, কি গাছের ক্ষতি না করে; তারা যেন কেবল সেই লোকদেরই ক্ষতি করে, যাদের কপালে ঈশ্বরের সিল­মোহরের চিহ্ন নেই।

৫ সেই পঙ্গপালকে তাদের হত্যা করার ক্ষমতা নয়, বরং পাঁচ মাস পর্যন্ত যন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হল। কাঁকড়াবিছে কোনো মানুষকে কামড়ালে যেমন যন্ত্রণা হয়, লোকদের যন্ত্রণা* ঠিক সেইরকম। ৬ সেই সময় লোকেরা মৃত্যুর অন্বেষণ করবে, কিন্তু কোনোভাবেই তা খুঁজে পাবে না; তারা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে, কিন্তু মৃত্যু তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।

৭ সেই পঙ্গপাল দেখতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এমন ঘোড়ার মতো; তাদের মাথায় সোনার মুকুটের মতো কিছু রয়েছে আর তাদের মুখমণ্ডল মানুষের মুখ­মণ্ডলের মতো, ৮ কিন্তু তাদের চুল মেয়েদের চুলের মতো। আর তাদের দাঁত সিংহের দাঁতের মতো ৯ এবং তাদের বুকপাটা লোহার বুকপাটার মতো। আর অনেকগুলো ঘোড়ায়টানা রথ যুদ্ধের দিকে ছুটে গেলে যেমন শব্দ হয়, তাদের পাখার শব্দ ঠিক সেইরকম। ১০ তাদের লেজ কাঁকড়াবিছের লেজের মতো হুলযুক্ত এবং তাদের লেজে পাঁচ মাস পর্যন্ত লোকদের আঘাত করার ক্ষমতা রয়েছে। ১১ তাদের রাজা হল অতল গহ্বরের* স্বর্গদূত। ইব্রীয় ভাষায় তার নাম আবদ্দোন* এবং গ্রিক ভাষায় আপল্লুয়োন।*

১২ প্রথম বিপর্যয় শেষ হল। দেখো! এইসমস্ত বিষয়ের পরে আরও দুটো বিপর্যয় আসছে।

১৩ পরে ষষ্ঠ স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর ঈশ্বরের সামনে যে-সোনার বেদি রয়েছে, সেই বেদির শিংগুলো* থেকে আমি এক কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। ১৪ সেই ষষ্ঠ স্বর্গদূত, যার হাতে তূরী রয়েছে, তাকে সেই কণ্ঠস্বর এই কথা বলল: “মহানদী ইউফ্রেটিসের কাছে যে-চার জন স্বর্গদূতকে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের ছেড়ে দাও।” ১৫ তখন সেই চার জন স্বর্গদূতকে ছেড়ে দেওয়া হল। এক-তৃতীয়াংশ লোককে হত্যা করার জন্য তাদের এই সময় ও দিন ও মাস ও বছরের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

১৬ ঘোড়ায়চড়া সৈন্যের সংখ্যা ২০ কোটি; আমি তাদের সেই সংখ্যা শুনলাম। ১৭ দর্শনে আমি সেই ঘোড়া­গুলোকে এবং যারা সেগুলোর উপর বসে আছে, তাদের এইরকম দেখতে পেলাম: তাদের বুকপাটা আগুনের মতো লাল এবং গাঢ় নীল এবং গন্ধকের মতো হলুদ; আর ঘোড়াগুলোর মাথা সিংহের মাথার মতো এবং তাদের মুখ থেকে আগুন ও ধোঁয়া ও গন্ধক বের হচ্ছে। ১৮ ঘোড়াগুলোর মুখ থেকে বের হয়ে আসা আগুন ও ধোঁয়া ও গন্ধক, এই তিনটে আঘাতের দ্বারা এক-তৃতীয়াংশ লোককে হত্যা করা হল। ১৯ সেই ঘোড়া­গুলোর ক্ষমতা এদের মুখে এবং এদের লেজে রয়েছে, কারণ এদের লেজগুলো দেখতে সাপের মতো আর সেগুলোর মাথা রয়েছে। এই ­লেজগুলো দিয়ে তারা লোকদের ক্ষতি করে।

২০ কিন্তু, এইসমস্ত আঘাতের দ্বারা যাদের হত্যা করা হয়নি, সেই অবশিষ্ট লোকেরা তাদের* কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়নি; তারা মন্দ স্বর্গদূতদের এবং সোনা ও রুপো ও তামা ও পাথর ও কাঠের তৈরি সেইসমস্ত প্রতিমার উপাসনা করা বন্ধ করেনি, যেগুলো দেখতে কিংবা শুনতে কিংবা চলতে পারে না। ২১ তারা খুন করার জন্য কিংবা প্রেতচর্চায় রত হওয়ার জন্য কিংবা যৌন অনৈতিক কাজ* করার জন্য কিংবা চুরি করার জন্য অনুতপ্ত হয়নি।

১০ পরে আমি আরেকজন শক্তিশালী স্বর্গদূতকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর পোশাক হল মেঘ এবং তাঁর মাথার উপরে রংধনু রয়েছে আর তাঁর মুখমণ্ডল সূর্যের মতো এবং তাঁর পা* আগুনের স্তম্ভের মতো। ২ আর তাঁর হাতে একটা ছোটো গোটানো পুস্তক, যেটা খোলা অবস্থায় রয়েছে। তিনি তাঁর ডান পা সমুদ্রের উপর এবং বাম পা স্থলভূমির উপর রাখলেন। ৩ আর তিনি সিংহের গর্জনের মতো উচ্চস্বরে চিৎকার করলেন। তিনি যখন চিৎকার করলেন, তখন আমি সাতটা বজ্রধ্বনির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।

৪ যখন সাতটা বজ্রধ্বনির কণ্ঠস্বর শোনা গেল, তখন আমি লিখতে যাচ্ছি, কিন্তু এমন সময় স্বর্গ থেকে আমি এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “সাতটা বজ্রধ্বনি যা বলল, সেগুলো সিলমোহর দিয়ে বন্ধ করে রাখো, সেগুলো লিখো না।” ৫ যে-স্বর্গদূতকে আমি সমুদ্র ও স্থল­ভূমির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তিনি স্বর্গের দিকে তাঁর ডান হাত তুললেন ৬ এবং যিনি যুগে যুগে চিরকাল বেঁচে থাকেন এবং যিনি আকাশমণ্ডল আর এর মধ্যে যা যা রয়েছে এবং পৃথিবী আর এর মধ্যে যা যা রয়েছে এবং সমুদ্র আর এর মধ্যে যা যা রয়েছে, সেই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই ঈশ্বরের নামে এই দিব্য করলেন: “তিনি আর দেরি করবেন না। ৭ কিন্তু, সপ্তম স্বর্গদূত যখন তূরী বাজানোর জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন ঈশ্বরের সেই পবিত্র রহস্য সমাপ্ত হবে, যা তিনি তাঁর দাসদের অর্থাৎ ভাববাদীদের কাছে সুসমাচার হিসেবে জানিয়েছিলেন।”

৮ পরে আমি স্বর্গ থেকে আবার আমার উদ্দেশে সেই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “যাও, সমুদ্র ও স্থলভূমির উপর যে-স্বর্গদূত দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর হাত থেকে সেই গোটানো পুস্তকটা নাও, যেটা খোলা অবস্থায় রয়েছে।” ৯ তখন আমি সেই স্বর্গদূতের কাছে গেলাম এবং আমাকে ছোটো গোটানো পুস্তকটা দিতে বললাম। তিনি আমাকে বললেন: “নাও, এটা খেয়ে ফেলো। এটা তোমার পেটকে তেতো করে ফেলবে, কিন্তু তোমার মুখে মধুর মতো মিষ্টি লাগবে।” ১০ আমি স্বর্গদূতের হাত থেকে ছোটো গোটানো পুস্তকটা নিয়ে খেয়ে ফেললাম আর এটা আমার মুখে মধুর মতো মিষ্টি লাগল, কিন্তু খেয়ে ফেলার পর এটা আমার পেটকে তেতো করে ফেলল। ১১ আর আমি এই কথাগুলো শুনতে পেলাম: “তোমাকে আবার বিভিন্ন বর্ণ এবং বিভিন্ন জাতি এবং বিভিন্ন ভাষার লোকদের বিষয়ে এবং অনেক রাজার বিষয়ে ভবিষ্যদ্‌বাণী করতে হবে।”

১১ পরে আমাকে লাঠির* মতো একটা নলখাগড়া দেওয়া হল এবং বলা হল: “ওঠো, ঈশ্বরের মন্দিরের পবিত্র স্থান ও বেদি পরিমাপ করো এবং যারা মন্দিরে উপাসনা করছে, তাদের সংখ্যা গোনো। ২ কিন্তু, মন্দিরের পবিত্র স্থানের বাইরে যে-প্রাঙ্গণ রয়েছে, সেটাকে বাদ দাও, সেটা পরিমাপ কোরো না, কারণ সেটা পরজাতীয় লোকদের দেওয়া হয়েছে। তারা ৪২ মাস পর্যন্ত সেই পবিত্র নগরকে পদদলিত করবে। ৩ আমি আমার দু-জন সাক্ষিকে পাঠাব, যারা চট পরে ১,২৬০ দিন ভবিষ্যদ্‌বাণী করবে।” ৪ এই দু-জন সাক্ষি হল দুটো জলপাই গাছ এবং দুটো দীপবৃক্ষ। তারা পৃথিবীর প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

৫ কেউ যদি তাদের ক্ষতি করতে চায়, তা হলে তাদের মুখ থেকে আগুন বের হয়ে তাদের শত্রুদের গ্রাস করে। কেউ যদি তাদের ক্ষতি করতে চায়, তা হলে তাকে এভাবে হত্যা করা হবে। ৬ এই দু-জন সাক্ষির আকাশ রুদ্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে, যাতে তারা যতদিন ভবিষ্যদ্‌বাণী বলবেন, ততদিন বৃষ্টি না হয়। আর জলকে রক্তে পরিণত করার এবং পৃথিবীর উপর যত বার ইচ্ছা, তত বার সমস্ত ধরনের আঘাত আনার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

৭ তাদের সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে পর, অতল গহ্বর* থেকে বের হয়ে আসা বন্যপশু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং তাদের পরাজিত করে তাদের হত্যা করবে। ৮ আর তাদের মৃতদেহ মহানগরের প্রধান সড়কে পড়ে থাকবে, যে-নগরকে রূপক অর্থে সদোম ও মিশর বলা হয়। সেখানে তাদের প্রভুকেও দণ্ডে বিদ্ধ করা হয়েছিল। ৯ বিভিন্ন বর্ণ ও বংশ ও ভাষা ও জাতির লোকদের মধ্যে অনেকে সাড়ে তিন দিন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ দেখবে। তারা তাদের মৃতদেহ কবর দিতে দেবে না। ১০ আর পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকেরা এতে আনন্দ ও উৎসব করবে এবং তারা পরস্পরকে উপহার পাঠাবে, কারণ সেই দু-জন ভাববাদী পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের যন্ত্রণা দিতেন।

১১ সাড়ে তিন দিন পর, ঈশ্বরের কাছ থেকে জীবনীশক্তি তাদের মধ্যে প্রবেশ করল এবং তারা পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। আর যারা তাদের দেখল, তারা খুব ভয় পেয়ে গেল। ১২ পরে সেই দু-জন সাক্ষি স্বর্গ থেকে উচ্চস্বরে বলা এই কথা শুনতে পেলেন: “এখানে উঠে এসো।” তখন তারা মেঘে করে স্বর্গে উঠলেন আর তাদের শত্রুরা তাদের দেখল।* ১৩ সেই মুহূর্তে প্রচণ্ড ভূমিকম্প হল এবং নগরের দশ ভাগের এক ভাগ ধ্বংস হয়ে গেল; আর সেই ভূমিকম্পে ৭,০০০ জন লোক মারা গেল। এতে অবশিষ্ট সকলে ভয় পেয়ে গেল এবং স্বর্গের ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান করল।

১৪ দ্বিতীয় বিপর্যয় শেষ হল। দেখো! শীঘ্রই তৃতীয় বিপর্যয় আসছে।

১৫ পরে সপ্তম স্বর্গদূত তূরী বাজালেন। আর স্বর্গে উচ্চস্বরে এই কথাগুলো শোনা গেল: “জগতের রাজ্য আমাদের প্রভুর এবং তাঁর খ্রিস্টের রাজ্য হল আর তিনি* যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব করবেন।”

১৬ পরে ২৪ জন প্রাচীন,* যারা ঈশ্বরের সামনে নিজ নিজ সিংহাসনে বসে আছেন, তারা উবুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন ১৭ এবং বললেন: “হে সর্বশক্তিমান যিহোবা* ঈশ্বর, যিনি আছেন এবং যিনি ছিলেন, আমরা তোমাকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি তোমার মহাক্ষমতার মাধ্যমে রাজত্ব করতে শুরু করেছ। ১৮ আর পরজাতীয় লোকেরা ক্রুদ্ধ হল এবং তুমি তোমার ক্রোধ প্রকাশ করলে আর মৃতদের বিচারিত হওয়ার এবং তোমার দাসদের অর্থাৎ ভাববাদীদের এবং পবিত্র ব্যক্তিদের এবং তোমার নাম ভয় করে এমন সাধারণ ও উঁচুশ্রেণীর লোকদের, সকলকে পুরস্কার দেওয়ার এবং যারা পৃথিবীকে ধ্বংস করছে, তাদের ধ্বংস করার নিরূপিত সময় উপস্থিত হল।”

১৯ পরে ঈশ্বরের স্বর্গীয় মন্দিরের পবিত্র স্থান খুলে গেল এবং তাঁর মন্দিরের পবিত্র স্থানের মধ্যে তাঁর চুক্তির সিন্দুক দেখা গেল। আর বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা গেল এবং কণ্ঠস্বর ও বজ্রধ্বনি শোনা গেল আর ভূমিকম্প এবং প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি হল।

১২ পরে স্বর্গে এক মহৎ চিহ্ন দেখা গেল: একজন নারী, যার পোশাক হল সূর্য এবং চাঁদ তার পায়ের নীচে রয়েছে আর তার মাথায় ১২টা তারা দিয়ে তৈরি একটা মুকুট রয়েছে ২ এবং সে গর্ভবতী। আর যেহেতু সে শীঘ্রই সন্তানের জন্ম দেবে, তাই সে প্রসববেদনায় চিৎকার করছে।

৩ এরপর, স্বর্গে আরেকটা চিহ্ন দেখা গেল। দেখো! আগুনের মতো লাল এক প্রকাণ্ড ভয়ংকর সাপ, যেটার সাতটা মাথা এবং দশটা শিং রয়েছে আর সাতটা মাথায় সাতটা মুকুট রয়েছে; ৪ আর সেই ভয়ংকর সাপ এর লেজ দিয়ে আকাশের এক-তৃতীয়াংশ তারা টেনে এনে সেগুলোকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করল। আর যে-নারী শীঘ্রই সন্তানের জন্ম দেবে, তার সামনে সেই ভয়ংকর সাপ দাঁড়িয়ে রইল, যেন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার সঙ্গেসঙ্গে সেই ভয়ংকর সাপ তার সন্তানকে গ্রাস করতে পারে।

৫ পরে সেই নারী এক ছেলের জন্ম দিল, যিনি লোহার দণ্ড দিয়ে সমস্ত জাতিকে শাসন করবেন। আর তার সন্তানকে কেড়ে নিয়ে* ঈশ্বর এবং তাঁর সিংহাসনের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। ৬ আর সেই নারী প্রান্তরে পালিয়ে গেল। সেখানে ঈশ্বর তার জন্য এক স্থান প্রস্তুত করে রেখেছেন, যেন সেখানে ১,২৬০ দিন পর্যন্ত তার যত্ন নেওয়া হয়।

৭ পরে স্বর্গে যুদ্ধ হল: মীখায়েল* এবং তাঁর স্বর্গদূতেরা সেই ভয়ংকর সাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল আর সেই ভয়ংকর সাপ এবং এর স্বর্গদূতেরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল, ৮ কিন্তু, এরা জয়ী হতে পারল না* এবং স্বর্গে এদের জন্য আর কোনো স্থান থাকল না। ৯ সেই প্রকাণ্ড ভয়ংকর সাপকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হল; এ সেই পুরোনো সাপ, যেটাকে দিয়াবল ও শয়তান বলা হয়। এ পৃথিবীতে বসবাসকারী সমস্ত লোককে ভ্রান্ত করে; এ-কে নিক্ষেপ করা হল এবং এর সঙ্গে এর স্বর্গদূতদেরও নিক্ষেপ করা হল। ১০ পরে আমি স্বর্গে উচ্চস্বরে এই কথাগুলো বলতে শুনলাম:

“দেখো! আমাদের ঈশ্বর লোকদের জন্য পরিত্রাণ এনেছেন এবং তাঁর ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে এবং তাঁর রাজ্য স্থাপিত হয়েছে এবং তাঁর খ্রিস্টের কর্তৃত্ব শুরু হয়েছে, কারণ আমাদের ভাইদের সেই দোষারোপকারীকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে, যে ঈশ্বরের সামনে দিনরাত তাদের নামে দোষারোপ করে! ১১ আর তারা মেষশাবকের রক্ত দ্বারা এবং তারা যে-বাক্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে, সেটার দ্বারা তাকে পরাজিত করল। আর তারা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তারা নিজেদের জীবনকে প্রিয় বলে মনে করেনি। ১২ অতএব, হে স্বর্গ এবং স্বর্গে বসবাসকারীরা, আনন্দ করো! কিন্তু, পৃথিবীর ও সমুদ্রের জন্য বিপর্যয়! কারণ দিয়াবল তোমাদের কাছে নেমে গিয়েছে। সে প্রচণ্ড রেগে আছে, কারণ সে জানে, তার সময় অল্প।”

১৩ সেই ভয়ংকর সাপ যখন দেখল যে, এ-কে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে, তখন এটা সেই নারীকে তাড়না করতে লাগল, যে ছেলের জন্ম দিয়েছিল। ১৪ কিন্তু, সেই নারীকে একটা বড়ো ঈগল পাখির দুটো পাখা দেওয়া হল, যাতে প্রান্তরে তার জন্য যে-স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, সেখানে সে উড়ে যেতে পারে। সেখানে সাপের চোখের আড়ালে এক কাল, দুই কাল ও অর্ধকাল* পর্যন্ত তার যত্ন নেওয়া হবে।

১৫ পরে সেই সাপ এর মুখ থেকে সেই নারীর পিছনে নদীর জলের মতো জলপ্রবাহ বের করল, যাতে সেই নারী নদীর জলে ডুবে যায়। ১৬ কিন্তু, পৃথিবী সেই নারীকে সাহায্য করল আর সেই ভয়ংকর সাপ এর মুখ থেকে যে-নদী বের করেছিল, পৃথিবী এর মুখ খুলে তা খেয়ে ফেলল। ১৭ এতে সেই ভয়ংকর সাপ সেই নারীর প্রতি ক্রুদ্ধ হল এবং তার বংশধরের* সেই অবশিষ্ট লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য গেল, যারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে এবং যাদের যিশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজ দেওয়া হয়েছে।

১৩ আর এটা* সমুদ্রের বালির উপর দাঁড়িয়ে রইল।

পরে আমি সমুদ্র থেকে একটা হিংস্র পশু উঠে আসতে দেখলাম। সেই পশুর দশটা শিং এবং সাতটা মাথা আর প্রতিটা শিঙে একটা করে মুকুট রয়েছে এবং মাথাগুলোর উপর ঈশ্বরনিন্দাজনক নাম রয়েছে। ২ আমি যে-হিংস্র পশুকে দেখলাম, সেটা দেখতে চিতাবাঘের মতো, কিন্তু এর পায়ের পাতা ভল্লুকের পায়ের পাতার মতো এবং এর মুখ সিংহের মুখের মতো। আর সেই ভয়ংকর সাপ এর শক্তি ও সিংহাসন এবং প্রচুর ক্ষমতা সেই পশুকে দিল।

৩ পরে আমি দেখলাম, সেই পশুর একটা মাথা যেন গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। যদিও সেই আঘাত মারাত্মক ছিল, কিন্তু সেই পশুর আঘাত সেরে উঠেছিল এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক সেই হিংস্র পশুর প্রশংসা করতে করতে এটার পিছন পিছন চলল। ৪ আর তারা সেই ভয়ংকর সাপের উপাসনা করল, কারণ এটা হিংস্র পশুকে ক্ষমতা দিয়েছিল; আর তারা এই কথা বলে সেই হিংস্র পশুরও উপাসনা করল: “কেই-বা এই হিংস্র পশুর মতো আর কেই-বা এই পশুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে?” ৫ সেই পশুকে গর্ব সহকারে কথা বলার এবং ঈশ্বরের নিন্দা করার ক্ষমতা দেওয়া হল আর এটাকে ৪২ মাস পর্যন্ত এর ইচ্ছামতো কাজ করার ক্ষমতাও দেওয়া হল। ৬ আর সেই পশু ঈশ্বরের নিন্দা করার জন্য এর মুখ খুলল, যেন এটা ঈশ্বরের নামের এবং তাঁর বাসস্থানের এবং স্বর্গে বসবাসকারীদের নিন্দা করতে পারে। ৭ সেই পশুকে পবিত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং তাদের জয় করার অনুমতি দেওয়া হল এবং সেটাকে প্রত্যেক বংশ ও বর্ণ ও ভাষা ও জাতির লোকদের উপর ক্ষমতা দেওয়া হল। ৮ পৃথিবীতে বসবাসকারী এমন সকলে সেই পশুর উপাসনা করবে, যাদের নাম মানবজাতির শুরু* থেকে সেই মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লেখা নেই, যাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।

৯ যার কান আছে, সে শুনুক। ১০ কাউকে যদি কারাগারে যেতে হয়, তা হলে সে কারাগারে যাবে। কেউ যদি খড়্গ দিয়ে হত্যা করে,* তা হলে তাকে খড়্গ দিয়ে হত্যা করা হবে। এই কারণে পবিত্র ব্যক্তিদের ধৈর্য ও বিশ্বাস বজায় রাখা প্রয়োজন।

১১ পরে আমি ভূমির মধ্য থেকে আরেকটা হিংস্র পশুকে উঠে আসতে দেখলাম। সেই পশুর মেষের মতো দুটো শিং রয়েছে, কিন্তু এটা ভয়ংকর সাপের মতো কথা বলতে লাগল। ১২ এটা প্রথম হিংস্র পশুর সমস্ত ক্ষমতা এটার সামনেই ব্যবহার করল। আর এটা পৃথিবী এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের সেই প্রথম হিংস্র পশুর উপাসনা করতে বাধ্য করল, যেটার মারাত্মক আঘাত সেরে গিয়েছিল। ১৩ আর এটা লোকদের সামনে বড়ো বড়ো অলৌকিক কাজ করল এবং আকাশ থেকে পৃথিবীতে আগুন নামিয়ে আনল।

১৪ সেই প্রথম হিংস্র পশুর সামনে এটাকে যে-সমস্ত অলৌকিক কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর দ্বারা এটা পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের ভ্রান্ত করল এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের সেই প্রথম হিংস্র পশুর* মূর্তি তৈরি করতে বলল, যেটা খড়্গের আঘাতে আহত হওয়া সত্ত্বেও বেঁচে গিয়েছিল। ১৫ আর এটাকে সেই প্রথম হিংস্র পশুর মূর্তির মধ্যে জীবন* দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, যাতে সেই হিংস্র পশুর মূর্তি কথা বলতে পারে এবং হিংস্র পশুর মূর্তিকে উপাসনা করতে প্রত্যাখ্যান করে এমন সমস্ত লোককে হত্যা করার আদেশ দিতে পারে।

১৬ আর প্রথম হিংস্র পশু সাধারণ ও উঁচুশ্রেণী, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও দাস, সকল লোককে তাদের ডান হাতে অথবা তাদের কপালে চিহ্ন গ্রহণ করতে বাধ্য করল। ১৭ আর যাদের এই চিহ্ন নেই অর্থাৎ হিংস্র পশুর নাম কিংবা এর নামের সংখ্যা নেই, তারা কেউই কিনতে অথবা বিক্রি করতে পারবে না। ১৮ এই বিষয়টা বোঝার জন্য একজন ব্যক্তির প্রজ্ঞার প্রয়োজন: যার অন্তর্দৃষ্টি আছে, সে সেই হিংস্র পশুর সংখ্যা গুনে দেখুক, কারণ এটা মানুষের সংখ্যা আর সেই সংখ্যা হল ৬৬৬।

১৪ পরে আমি তাকালাম আর দেখো! সেই মেষশাবক সিয়োন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন আর তাঁর সঙ্গে ১,৪৪,০০০ জন, যাদের কপালে তাঁর নাম এবং তাঁর পিতার নাম লেখা আছে। ২ পরে আমি স্বর্গ থেকে জোরে বয়ে চলা জলস্রোতের শব্দের মতো এবং প্রচণ্ড বজ্রধ্বনির মতো এক কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম; আর আমি যে-কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, তা এমন ছিল, যেন একদল গায়ক তাদের বীণা বাজিয়ে গান গাইছে। ৩ আর তারা সিংহাসনের সামনে এবং চার জন জীবিত প্রাণীর ও প্রাচীনদের* সামনে যেন এক নতুন গান গাইছে। পৃথিবী থেকে যাদের কেনা হয়েছে, সেই ১,৪৪,০০০ জন ছাড়া আর কেউ সেই গান শিখতে পারল না। ৪ তারা হল সেই ব্যক্তি, যারা নারীদের সঙ্গে যৌন অনৈতি­কতা করে নিজেদের কলুষিত করেনি; তারা কুমার। মেষশাবক যেখানেই যান, তারা সেখানেই তাঁকে অনুসরণ করে। ঈশ্বর ও মেষশাবকের উদ্দেশে প্রথম ফল* হিসেবে মানবজাতির মধ্য থেকে তাদের কেনা হয়েছে ৫ এবং তারা কোনো প্রতারণামূলক কথা বলেনি; তারা নিষ্কলঙ্ক।

৬ পরে আমি আরেকজন স্বর্গদূতকে দেখলাম, যিনি আকাশের মাঝপথে উড়ছেন। তার কাছে অনন্তকালীন সুসমাচার রয়েছে, যেন তিনি পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের কাছে অর্থাৎ প্রত্যেক জাতি ও বংশ ও ভাষা ও বর্ণের লোকদের কাছে তা ঘোষণা করেন। ৭ তিনি উচ্চস্বরে এই কথাগুলো বলছেন: “ঈশ্বরকে ভয় করো এবং তাঁকে গৌরব প্রদান করো, কারণ লোকদের বিচার করার সময় এসে গিয়েছে; যিনি আকাশ ও পৃথিবী ও সমুদ্র এবং জলের উৎস সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উপাসনা করো।”

৮ পরে তার পিছন পিছন দ্বিতীয় আরেকজন স্বর্গদূত এসে বললেন: “তার পতন হল! মহতী বাবিলের পতন হল! সে সমস্ত জাতিকে তার সেই দ্রাক্ষারস* খাইয়েছে, যা যৌন অনৈতিক কাজ* করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।”

৯ পরে তাদের পিছন পিছন তৃতীয় আরেকজন স্বর্গদূত এসে উচ্চস্বরে বললেন: “যদি কেউ সেই হিংস্র পশুর এবং এর মূর্তির উপাসনা করে এবং নিজ কপালে কিংবা নিজ হাতে চিহ্ন গ্রহণ করে, ১০ তা হলে সে-ও ঈশ্বরের ক্রোধের দ্রাক্ষারস* খাবে, যা ঈশ্বরের ক্রোধের পাত্রে অমিশ্রিত অবস্থায় ঢেলে দেওয়া হয়েছে; আর তাকে পবিত্র স্বর্গদূতদের সামনে এবং মেষশাবকের সামনে আগুনে ও গন্ধকে যন্ত্রণা দেওয়া হবে। ১১ ­যে-আগুনে তাদের যন্ত্রণা দেওয়া হবে, সেই আগুনের ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল ধরে উপরে উঠতে থাকবে; আর যারা সেই হিংস্র পশু এবং এর মূর্তির উপাসনা করে আর যে-কেউ এর নামের চিহ্ন গ্রহণ করে, তারা দিন-রাত অবিরাম যন্ত্রণা পাবে। ১২ এই কারণে সেই পবিত্র ব্যক্তিদের ধৈর্য বজায় রাখা প্রয়োজন, যারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে এবং যিশুর বিশ্বাস অনুসারে চলে।”

১৩ পরে আমি স্বর্গ থেকে এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, “এই কথাগুলো লেখো: সুখী সেই ব্যক্তিরা, যারা এখন থেকে প্রভুর সঙ্গে একতাবদ্ধ অবস্থায় মারা যায়। হ্যাঁ, পবিত্র শক্তি এই কথা বলছে, তারা তাদের পরিশ্রম থেকে বিশ্রাম নিক, কারণ তাদের কাজ ভুলে যাওয়া হবে না।”*

১৪ পরে আমি তাকালাম আর দেখো! একটা সাদা মেঘ এবং সেই মেঘের উপর মনুষ্যপুত্রের মতো একজন ব্যক্তি বসে রয়েছেন; তাঁর মাথায় সোনার মুকুট এবং তাঁর হাতে একটা ধারালো কাস্তে।

১৫ পরে মন্দিরের পবিত্র স্থান থেকে আরেকজন স্বর্গদূত বের হয়ে এলেন এবং যিনি মেঘের উপর বসে রয়েছেন, তাঁকে চিৎকার করে এই কথাগুলো বললেন: “আপনার কাস্তে নিন এবং শস্য কাটুন, কারণ শস্য কাটার সময় এসে গিয়েছে; পৃথিবীর শস্য পুরোপুরিভাবে পেকে গিয়েছে।” ১৬ তখন যিনি মেঘের উপর বসে রয়েছেন, তিনি পৃথিবীতে তাঁর কাস্তে চালালেন; আর পৃথিবীর শস্য কাটা হল।

১৭ পরে স্বর্গীয় মন্দিরের পবিত্র স্থান থেকে আরেকজন স্বর্গদূত বের হয়ে এলেন; তার হাতেও একটা ধারালো কাস্তে রয়েছে।

১৮ আর বেদির মধ্য থেকে আরেকজন স্বর্গদূত বের হয়ে এলেন; আগুনের উপর তার কর্তৃত্ব রয়েছে। যার হাতে ধারালো কাস্তে রয়েছে, তাকে তিনি চিৎকার করে এই কথাগুলো বললেন: “তোমার ধারালো কাস্তে নাও এবং পৃথিবীর আঙুর গাছের আঙুর সংগ্রহ করো, কারণ ফল পেকে গিয়েছে।” ১৯ তখন সেই স্বর্গদূত পৃথিবীতে তার কাস্তে চালালেন এবং পৃথিবীর আঙুর গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করলেন আর তিনি আঙুর গাছ এবং ফল আঙুর পেষার বিশাল গর্তে নিক্ষেপ করলেন, যা ঈশ্বরের ক্রোধকে চিত্রিত করে। ২০ শহরের বাইরে আঙুর পেষার সেই গর্তে আঙুর পেষা হল আর এতে গর্ত থেকে রক্ত বের হয়ে এল এবং ঘোড়ার লাগাম পর্যন্ত উঁচু হয়ে প্রায় ২৯৬ কিলোমিটার* পর্যন্ত গেল।

১৫ পরে আমি স্বর্গে আরেকটা মহৎ ও আশ্চর্য চিহ্ন দেখলাম। সাত জন স্বর্গদূত সাতটা আঘাত নিয়ে আসছেন। এগুলোই হল শেষ আঘাত, কারণ এগুলোর মাধ্যমে ঈশ্বরের ক্রোধ সমাপ্ত হবে।

২ পরে আমি দেখলাম, যেন আগুন মেশানো এক কাচের সমুদ্র; আর যারা সেই হিংস্র পশু এবং এর মূর্তি এবং এর নামের সংখ্যার উপর জয়ী হয়েছে, তারা ঈশ্বরের বীণা হাতে কাচের সমুদ্রের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ৩ তারা এই বলে ঈশ্বরের দাস মোশির গান এবং মেষশাবকের গান গাইছিল:

“হে সর্বশক্তিমান যিহোবা* ঈশ্বর, মহৎ ও আশ্চর্য তোমার কাজ সকল! হে অনন্তকালীন রাজা, ন্যায্য ও নির্ভরযোগ্য তোমার পথ সকল! ৪ হে যিহোবা,* কেই-বা তোমাকে ভয় করবে না? কেই-বা তোমার নামের গৌরব করবে না? একমাত্র তুমিই তো অনুগত। সমস্ত জাতি তোমার সামনে আসবে এবং তোমার উপাসনা করবে, কারণ তোমার ন্যায্য আইন প্রকাশ করা হয়েছে।”

৫ পরে আমি দেখলাম, স্বর্গে সাক্ষ্য-তাঁবুর* পবিত্র স্থান খুলে দেওয়া হল ৬ আর সাত জন স্বর্গদূত সাতটা আঘাত নিয়ে পবিত্র স্থান থেকে বের হয়ে এলেন। তারা পরিষ্কার ও উজ্জ্বল কাপড় পরে আছেন এবং তাদের বুকে সোনার বন্ধনী রয়েছে। ৭ চার জন জীবিত প্রাণীর মধ্যে একজন সেই সাত জন স্বর্গদূতকে সাতটা সোনার বাটি দিলেন। সেগুলো ঈশ্বরের ক্রোধে পরিপূর্ণ, যিনি যুগে যুগে চিরকাল বেঁচে থাকেন। ৮ আর ঈশ্বরের প্রতাপ থেকে এবং তাঁর শক্তি থেকে উৎপন্ন ধোঁয়ায় সেই পবিত্র স্থান পরিপূর্ণ হল এবং সাত জন স্বর্গদূতের সাতটা আঘাত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কেউই সেই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারল না।

১৬ পরে আমি মন্দিরের পবিত্র স্থান থেকে সেই সাত জন স্বর্গদূতের উদ্দেশে উচ্চস্বরে এই কথাগুলো বলতে শুনলাম: “যাও, পৃথিবীর উপর ঈশ্বরের ক্রোধ ঢেলে দাও, যা সাতটা বাটির মধ্যে রয়েছে।”

২ তখন প্রথম স্বর্গদূত গিয়ে পৃথিবীর উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে যে-সমস্ত লোক সেই হিংস্র পশুর চিহ্ন গ্রহণ করেছে এবং সেইসঙ্গে যারা এটার মূর্তির উপাসনা করে, তাদের গায়ে বেদনাদায়ক ও মারাত্মক ঘা দেখা দিল।

৩ পরে দ্বিতীয় স্বর্গদূত সমুদ্রের উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে সমুদ্রের জল মরা মানুষের রক্তের মতো হয়ে গেল আর সমুদ্রের সমস্ত প্রাণী মরে গেল।

৪ পরে তৃতীয় স্বর্গদূত নদনদী এবং জলের উৎসের উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে সেগুলো রক্ত হয়ে গেল। ৫ আর জলের উপর যে-স্বর্গদূতের ক্ষমতা রয়েছে, তাকে আমি এই কথাগুলো বলতে শুনলাম: “তুমিই অনুগত ঈশ্বর, তুমি আছ এবং তুমি ছিলে। তুমিই ধার্মিক, কারণ তুমি এইসমস্ত বিচার করেছ। ৬ তারা পবিত্র ব্যক্তিদের ও ভাববাদীদের রক্ত ঝরিয়েছে আর তাই তাদের তুমি রক্ত খেতে দিয়েছ; এটাই তাদের প্রাপ্য।” ৭ আর আমি বেদি থেকে এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “হ্যাঁ, হে সর্বশক্তিমান যিহোবা* ঈশ্বর, তোমার বিচার* নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য।”

৮ পরে চতুর্থ স্বর্গদূত সূর্যের উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন আর এতে সূর্যকে আগুন দিয়ে লোকদের ঝলসে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হল। ৯ তখন লোকেরা প্রচণ্ড উত্তাপে ঝলসে গেল আর এইসমস্ত আঘাতের উপর যাঁর ক্ষমতা রয়েছে, তারা সেই ঈশ্বরের নামের নিন্দা করল; তারা অনুতপ্ত হল না এবং তাঁকে গৌরব প্রদান করল না।

১০ পরে পঞ্চম স্বর্গদূত সেই হিংস্র পশুর সিংহাসনের উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে এটার রাজ্য অন্ধকার হয়ে গেল এবং ব্যথায় লোকেরা দাঁতে দাঁত ঘষতে লাগল ১১ আর তারা তাদের ব্যথা এবং তাদের ঘায়ের জন্য স্বর্গের ঈশ্বরের নিন্দা করল; তারা নিজেদের মন্দ কাজের জন্য অনুতপ্ত হল না।

১২ পরে ষষ্ঠ স্বর্গদূত মহানদী ইউ­ফ্রেটিসের উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে নদীর জল শুকিয়ে গেল, যাতে পূর্ব দিক* থেকে আসা রাজাদের জন্য পথ প্রস্তুত হয়।

১৩ পরে আমি দেখলাম, ভয়ংকর সাপের মুখ থেকে এবং হিংস্র পশুর মুখ থেকে এবং মিথ্যা ভাববাদীর মুখ থেকে তিনটে অশুচি বার্তা বের হয়ে এল, যেগুলো দেখতে ব্যাঙের মতো। ১৪ এই অশুচি বার্তাগুলো আসলে মন্দ স্বর্গদূতদের বার্তা আর সেগুলো বিভিন্ন অলৌকিক কাজ করে। সেগুলো পুরো পৃথিবীর রাজাদের কাছে গেল, যাতে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহাদিনের যুদ্ধের জন্য তাদের একত্রিত করে।

১৫ “দেখো! চোর যেভাবে আসে, আমিও সেভাবে আসব। সুখী সেই ব্যক্তি, যে জেগে থাকে এবং নিজের পোশাক রক্ষা করে, যাতে সে উলঙ্গ* হয়ে না বেড়ায় এবং লোকেরা তার লজ্জাজনক অবস্থা না দেখে।”

১৬ পরে অশুচি বার্তাগুলো সেই রাজাদের, ইব্রীয় ভাষায় যে-জায়গাকে হর্‌মাগিদোন* বলা হয়, সেখানে একত্রিত করল।

১৭ পরে সপ্তম স্বর্গদূত বায়ুর উপর তার বাটিতে থাকা ক্রোধ ঢেলে দিলেন। এতে মন্দিরের পবিত্র স্থানের মধ্য থেকে, সিংহাসন থেকে উচ্চস্বরে বলা এই কথাগুলো শোনা গেল: “সমাপ্ত হল!” ১৮ তখন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা গেল এবং কণ্ঠস্বর ও বজ্রধ্বনি শোনা গেল আর এমন প্রচণ্ড ভূমিকম্প হল, যা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার সময় থেকে কখনো হয়নি। সেই ভূমিকম্প সত্যিই তীব্র ছিল। ১৯ এতে সেই মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল এবং সমস্ত দেশের নগরগুলো পতিত হল; আর ঈশ্বর মহতী বাবিলের কথা স্মরণ করলেন, যাতে তিনি সেটাকে তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধের দ্রাক্ষারস* খেতে দেন। ২০ তখন প্রতিটা দ্বীপ পালিয়ে গেল এবং পর্বতগুলোকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। ২১ আর আকাশ থেকে লোকদের উপর বড়ো বড়ো শিলা পড়ল, যেগুলোর প্রত্যেকটার ওজন প্রায় ২০ কিলোগ্রাম;* শিলার আঘাতের জন্য লোকেরা ঈশ্বরের নিন্দা করল, কারণ সেই আঘাত খুবই ভয়ংকর ছিল।

১৭ পরে যে-সাত জন স্বর্গদূতের হাতে সাতটা বাটি ছিল, তাদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন: “এসো, আমি তোমাকে দেখাই, অনেক জলের উপর যে-মহাবেশ্যা বসে আছে, তাকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। ২ পৃথিবীর রাজারা তার সঙ্গে যৌন অনৈতিক কাজ* করেছে এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের তার যৌন অনৈতিকতার* দ্রাক্ষারস* খাইয়ে মাতাল করা হয়েছে।”

৩ পরে সেই স্বর্গদূত আমাকে পবিত্র শক্তির দ্বারা প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। আর আমি একজন মহিলাকে দেখলাম, যে গাঢ় লাল রঙের এক হিংস্র পশুর উপর বসে আছে। সেই হিংস্র পশু ঈশ্বরনিন্দাজনক নামে পরিপূর্ণ আর এর সাতটা মাথা এবং দশটা শিং রয়েছে। ৪ সেই মহিলা বেগুনি রঙের এবং গাঢ় লাল রঙের কাপড় পরে আছে আর তার গায়ে সোনা, মূল্যবান পাথর ও মুক্তোর অলংকার রয়েছে আর তার হাতে একটা সোনার পাত্র, যেটা ঘৃণ্য বিষয়বস্তু এবং তার যৌন অনৈতিকতার* অশুচি বিষয়গুলো দিয়ে পরিপূর্ণ। ৫ তার কপালে এই রহস্য­ময় নাম লেখা রয়েছে: “মহতী বাবিল, সমস্ত বেশ্যা এবং পৃথিবীর ঘৃণ্য বিষয়বস্তুর জননী।” ৬ আর আমি দেখলাম, সেই মহিলা পবিত্র ব্যক্তিদের রক্ত খেয়ে এবং যিশুর সাক্ষিদের রক্ত খেয়ে মাতাল হয়ে আছে।

তাকে দেখে আমি খুবই অবাক হয়ে গেলাম। ৭ তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন: “তুমি অবাক হচ্ছ কেন? আমি তোমাকে এই মহিলার এবং সেই হিংস্র পশুর রহস্য জানাচ্ছি, যে-পশুর উপর এই মহিলা বসে আছে এবং যেটার সাতটা মাথা এবং দশটা শিং রয়েছে: ৮ তুমি যে-হিংস্র পশুকে দেখলে, সেটা ছিল, কিন্তু এখন নেই, তবে শীঘ্রই অতল গহ্বর* থেকে বের হয়ে আসবে এবং এটাকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আর পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকেরা, যাদের নাম মানবজাতির শুরু* থেকে জীবনপুস্তকে লেখা হয়নি, তারা এটা দেখে অবাক হয়ে যাবে যে, হিংস্র পশুটা ছিল, কিন্তু এখন নেই, তবে ফিরে আসবে।

৯ “এটা বোঝার জন্য প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির প্রয়োজন: সাতটা মাথা সেই সাতটা পর্বতকে চিত্রিত করে, যেগুলোর উপর সেই মহিলা বসে আছে। ১০ এগুলো সাত জন রাজাকে চিত্রিত করে: পাঁচ জন পতিত হয়েছে, একজন আছে এবং আরেকজন এখনও আসেনি; সে আসার পর তাকে কেবল অল্পসময় থাকতে হবে। ১১ আর যে-হিংস্র পশু ছিল, কিন্তু এখন নেই, সেটা নিজেও অষ্টম রাজা, তবে সেটা সেই সাত জন রাজার মধ্য থেকে এসেছে আর সেটাকে অবশেষে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

১২ “আর তুমি যে-দশটা শিং দেখলে, সেগুলো দশ জন রাজাকে চিত্রিত করে, যারা এখনও রাজ্য লাভ করেনি, তবে তারা অল্প সময়ের* জন্য সেই হিংস্র পশুর সঙ্গে রাজা হিসেবে শাসন করার ক্ষমতা লাভ করবে। ১৩ তাদের উদ্দেশ্য একই আর তাই তারা সেই হিংস্র পশুকে তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দিয়ে দেয়। ১৪ তারা মেষশাবকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে আর মেষশাবক যেহেতু প্রভুদের প্রভু এবং রাজাদের রাজা, তাই তিনি তাদের পরাজিত করবেন। আর যারা তাঁর সঙ্গে রয়েছে অর্থাৎ যাদের আহ্বান করা হয়েছে এবং মনোনীত করা হয়েছে এবং যারা বিশ্বস্ত, তারাও তাদের পরাজিত করবে।”

১৫ সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন: “তুমি যে-জল দেখলে, যার উপর সেই বেশ্যা বসে আছে, সেই জল বিভিন্ন বর্ণ ও জনতা ও জাতি ও ভাষাকে চিত্রিত করে। ১৬ আর তুমি যে-দশটা শিং এবং হিংস্র পশুকে দেখলে, সেগুলো ওই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে আর তার সমস্ত কিছু কেড়ে নেবে এবং তাকে উলঙ্গ অবস্থায় ফেলে রাখবে; এরপর এগুলো তার মাংস খেয়ে ফেলবে এবং পরে তাকে আগুনে পুরোপুরিভাবে পুড়িয়ে দেবে। ১৭ কারণ এই ইচ্ছা ঈশ্বরই এদের হৃদয়ে দিলেন, যেন এরা নিজে­দেরই যে-একই উদ্দেশ্য রয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ করে, যেটা আসলে ঈশ্বরেরই উদ্দেশ্য। ঈশ্বর তা করলেন, যাতে এরা ঈশ্বরের বাক্য সফল না হওয়া পর্যন্ত এদের শাসন করার ক্ষমতা সেই হিংস্র পশুকে দিয়ে দেয়। ১৮ আর তুমি যে-মহিলাকে দেখলে, সে সেই মহানগরীকে চিত্রিত করে, যা পৃথিবীর রাজাদের উপর শাসন করে।”

১৮ এরপর আমি স্বর্গ থেকে আরেকজন স্বর্গদূতকে নেমে আসতে দেখলাম। তার মহাক্ষমতা রয়েছে এবং তার প্রতাপে পৃথিবী আলোকিত হয়ে উঠল। ২ তিনি জোরে চিৎকার করে বললেন: “তার পতন হল! মহতী বাবিলের পতন হল! সে মন্দ স্বর্গদূতদের আস্তানা হয়েছে এবং প্রত্যেক মন্দ স্বর্গদূত* এবং অশুচি ও ঘৃণ্য পাখির লুকিয়ে থাকার স্থান হয়েছে! ৩ কারণ সমস্ত জাতি তার সেই দ্রাক্ষারস* খেয়ে মাতাল হয়েছে, যা যৌন অনৈতিক কাজ* করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। আর পৃথিবীর রাজারা তার সঙ্গে যৌন অনৈতিক কাজ* করেছে এবং পৃথিবীর বণিকেরা তার নির্লজ্জ বিলাসিতার কারণে ধনী হয়েছে।”

৪ পরে আমি স্বর্গ থেকে আরেকটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “হে আমার লোকেরা, তোমরা তার মধ্য থেকে বের হয়ে এসো, যাতে তোমরা তার পাপের অংশী না হও আর তার উপর যে-সমস্ত আঘাত আনা হবে, সেগুলোর কোনোটাই যেন তোমাদের উপর না আসে। ৫ কারণ তার পাপ অসংখ্য হয়ে আকাশ পর্যন্ত উঁচু হয়েছে আর তার মন্দ কাজগুলো* ঈশ্বর স্মরণ করেছেন। ৬ সে অন্যদের প্রতি যেমন ব্যবহার করেছে, তার প্রতিও তেমন ব্যবহার করো; হ্যাঁ, সে যে-বিষয়গুলো করেছে, সেগুলোর দ্বিগুণ প্রতিফল তাকে দাও; সে যে-পাত্রে পানীয় প্রস্তুত করত, সেই পাত্রে তার জন্য সেটার দ্বিগুণ পানীয় প্রস্তুত করো। ৭ সে নিজেকে যতটা গৌরবান্বিত করেছে এবং যতটা নির্লজ্জভাবে বিলাসী জীবনযাপন করেছে, তাকে ততটা যন্ত্রণা ও দুঃখ দাও। কারণ সে মনে মনে বলে থাকে: ‘আমি তো রানি হয়ে সিংহাসনে বসে আছি; আমি বিধবা নই; আমি কখনোই দুঃখ বোধ করব না।’ ৮ এইজন্য এক দিনেই তার উপর এইসমস্ত আঘাত আসবে: মৃত্যু, দুঃখ, দুর্ভিক্ষ। আর তাকে আগুনে পুরোপুরিভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, কারণ যিনি তার বিচার করেন, সেই যিহোবা* ঈশ্বর হলেন শক্তিমান।

৯ “আর পৃথিবীর যে-রাজারা তার সঙ্গে যৌন অনৈতিক কাজ* করেছিল এবং তার সঙ্গে নির্লজ্জভাবে বিলাসী জীবনযাপন করেছিল, তারা যখন তাকে পুড়িয়ে ফেলার ধোঁয়া দেখবে, তখন তারা তার জন্য প্রচণ্ড দুঃখে কাঁদবে এবং নিজেদের বুক চাপড়াবে। ১০ তারা তার যন্ত্রণা দেখে ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থেকে বলবে: ‘হায়! হায়! হে মহানগরী, হে শক্তিশালী বাবিল নগর! এক মুহূর্তের* মধ্যেই তোমার বিচার উপস্থিত হল!’

১১ “আর পৃথিবীর বণিকেরা তার জন্য কাঁদবে এবং দুঃখ করবে, কারণ তাদের জিনিসপত্র কেনার মতো আর কেউ থাকবে না। ১২ সেইসমস্ত জিনিসপত্র হল সোনা, রুপো, মূল্যবান পাথর, মুক্তো, মিহি সুতোর কাপড়, বেগুনি রঙের কাপড়, রেশমি কাপড় এবং গাঢ় লাল রঙের কাপড়; সুগন্ধি কাঠের তৈরি বিভিন্ন জিনিস; হাতির দাঁত এবং মূল্যবান কাঠ, তামা, লোহা ও শ্বেতপাথরের তৈরি নানারকম জিনিস; ১৩ দারচিনি, এলাচ, ধূপ, সুগন্ধি তেল, লোবান,* দ্রাক্ষারস,* জলপাই তেল, উত্তম ময়দা, গম, গবাদি পশু, মেষ, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, ক্রীতদাস আর এমনকী মানুষ। ১৪ হ্যাঁ, তুমি যে-ভালো বিষয়গুলো পেতে চেয়েছিলে, সেগুলো তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে আর সেইসঙ্গে উৎকৃষ্ট খাবার এবং চমকপ্রদ জিনিসপত্র তোমার কাছ থেকে দূর হয়ে গিয়েছে, সেগুলো আর কখনোই পাওয়া যাবে না।

১৫ “যে-বণিকেরা এইসমস্ত জিনিস বিক্রি করত এবং তার মাধ্যমে ধনী হয়েছিল, তারা তার যন্ত্রণা দেখে ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং কাঁদবে এবং দুঃখ করবে ১৬ আর এই কথা বলবে: ‘হায়! হায়! সেই মহানগরী! সে মিহি সুতোর এবং বেগুনি এবং গাঢ় লাল রঙের কাপড় পরে ছিল আর তার গায়ে সোনা, মূল্যবান পাথর ও মুক্তোর প্রচুর অলংকার ছিল। ১৭ এক মুহূর্তের* মধ্যেই সেই প্রচুর ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল!’

“আর জাহাজের প্রত্যেক প্রধান নাবিক এবং সমুদ্রে আসা-যাওয়া করে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি এবং সাধারণ নাবিক এবং সমুদ্রে যাদের জীবিকা, তারা সকলে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে ১৮ এবং তাকে পুড়িয়ে ফেলার ধোঁয়া দেখে চিৎকার করে বলবে: ‘কোন নগরই-বা এই মহানগরীর মতো?’ ১৯ তারা তাদের মাথায় ধুলো ছিটিয়ে দেবে এবং কাঁদতে কাঁদতে এবং দুঃখ করতে করতে চিৎকার করে বলবে: ‘হায়! হায়! সেই মহানগরী! তার ধনসম্পদের কারণে জাহাজের মালিকেরা ধনী হয়েছিল। এক মুহূর্তের* মধ্যেই সে ধ্বংস হয়ে গেল!’

২০ “হে স্বর্গ, তার প্রতি যা ঘটেছে, তাতে তোমরা আনন্দ করো! হে পবিত্র ব্যক্তিরা, হে প্রেরিতেরা এবং হে ভাববাদীরা, তোমরাও আনন্দ করো! কারণ সে তোমাদের প্রতি যা করেছে, সেটার জন্য ঈশ্বর তার বিচার করেছেন!”

২১ পরে একজন শক্তিশালী স্বর্গদূত বড়ো জাঁতার মতো একটা পাথর তুলে নিয়ে সেটা সমুদ্রে নিক্ষেপ করে বললেন: “মহানগরী বাবিলকে এভাবে জোরে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২২ আর যারা বীণা বাজিয়ে গান গায়, তাদের গানের শব্দ, যারা বাঁশি বাজায়, তাদের বাঁশির শব্দ, যারা তূরী বাজায়, তাদের তূরীর শব্দ এবং অন্যান্য বাদকদের বাজনার শব্দ তোমার মধ্যে আর কখনো শোনা যাবে না। তোমার মধ্যে আর কখনো কোনো কারিগর খুঁজে পাওয়া যাবে না এবং তোমার মধ্যে আর কখনো কোনো জাঁতার শব্দ শোনা যাবে না। ২৩ তোমার মধ্যে আর কখনো প্রদীপের আলো জ্বলবে না এবং তোমার মধ্যে আর কখনো বর ও কনের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে না; কারণ তোমার বণিকেরা পৃথিবীর গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিল আর তোমার প্রেতচর্চার দ্বারা সমস্ত জাতি ভ্রান্ত হতো। ২৪ তারই মধ্যে ভাববাদীদের এবং পবিত্র ব্যক্তিদের এবং পৃথিবীতে হত্যা করা হয়েছে এমন সমস্ত লোকের রক্ত পাওয়া গিয়েছে।”

১৯ পরে আমি যেন স্বর্গে বিশাল জনতার উচ্চস্বর শুনলাম। তারা বলছে: “যাঃয়ের প্রশংসা করো!* পরিত্রাণ ও গৌরব ও ক্ষমতা আমাদের ঈশ্বরেরই, ২ কারণ তাঁর বিচার নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য। তিনি সেই মহাবেশ্যার বিচার করেছেন, যে তার যৌন অনৈতিকতার* দ্বারা পৃথিবীকে কলুষিত করেছে। আর সেই মহাবেশ্যার হাতে তাঁর দাসদের ­যে-রক্তপাত হয়েছে, সেটার জন্য তিনি তাকে প্রতিফল দিয়েছেন।” ৩ পরে সঙ্গেসঙ্গে দ্বিতীয় বার তারা বলল: “যাঃয়ের প্রশংসা করো!* সেই মহাবেশ্যাকে পোড়ানোর ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল ধরে উপরে উঠতে থাকবে।”

৪ আর ২৪ জন প্রাচীন* এবং চার জন জীবিত প্রাণী, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরের সামনে উবুড় হয়ে তাঁর উপাসনা করলেন এবং বললেন: “আমেন! যাঃয়ের প্রশংসা করো!”*

৫ আর সেই সিংহাসন থেকে এই কণ্ঠস্বর শোনা গেল: “হে ঈশ্বরের দাসেরা, তোমরা যারা তাঁকে ভয় কর, তোমরা যারা সাধারণ কি উঁচুশ্রেণী, তোমরা সকলে আমাদের ঈশ্বরের প্রশংসা করো।”

৬ আর আমি যেন বিশাল জনতার কণ্ঠস্বরের এবং জোরে বয়ে চলা জলস্রোতের শব্দের এবং ভারী বজ্র­ধ্বনির মতো এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “যাঃয়ের প্রশংসা করো!* কারণ আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যিহোবা* রাজত্ব করতে শুরু করেছেন! ৭ এসো, আমরা আনন্দ করি এবং উল্লসিত হই এবং তাঁকে গৌরব প্রদান করি, কারণ মেষশাবকের বিয়ের সময় উপস্থিত হয়েছে এবং তাঁর কনে নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে। ৮ কনেকে পরার জন্য উজ্জ্বল, পরিষ্কার এবং মিহি সুতোর কাপড় দেওয়া হয়েছে; মিহি সুতোর সেই কাপড় পবিত্র ব্যক্তিদের সঠিক কাজকে চিত্রিত করে।”

৯ আর তিনি* আমাকে বললেন, “লেখো: সুখী সেই ব্যক্তিরা, যারা মেষশাবকের বিবাহভোজে আমন্ত্রিত।” তিনি আমাকে এও বললেন: “এইসমস্ত কথা ঈশ্বরের নির্ভরযোগ্য বাক্য।” ১০ তখন আমি তার উপাসনা করার জন্য তার পায়ের সামনে উবুড় হয়ে পড়লাম। কিন্তু, তিনি আমাকে বললেন: “সাবধান! এমন কাজ কোরো না! আমি কেবল তোমার এবং তোমার সেই ভাইদের সহদাস, যাদের যিশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বরেরই উপাসনা করো! কারণ যিশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়াই হল ভবিষ্যদ্‌বাণীর উদ্দেশ্য।”

১১ পরে আমি দেখলাম, স্বর্গ খুলে গেল আর দেখো! একটা সাদা ঘোড়া। আর যিনি সেই ঘোড়ার উপর বসে আছেন, তাঁর নাম বিশ্বস্ত ও সত্যময় এবং তিনি ন্যায় সহকারে বিচার ও যুদ্ধ করেন। ১২ তাঁর চোখ আগুনের শিখার মতো এবং তাঁর মাথায় অনেক মুকুট রয়েছে। তাঁর গায়ে একটা নাম লেখা আছে, যে-নাম অন্য কেউ জানে না, কেবল তিনিই জানেন। ১৩ তিনি রক্তের দাগযুক্ত কাপড় পরে আছেন এবং তাঁর নাম হল ঈশ্বরের বাক্য। ১৪ আর তাঁর পিছন পিছন সাদা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গীয়বাহিনী আসছে এবং তারা সাদা, পরিষ্কার এবং মিহি সুতোর কাপড় পরে আছে। ১৫ তাঁর মুখ থেকে তীক্ষ্ণ ও লম্বা একটা খড়্গ বের হয়ে আসছে, যেন তিনি সেটা দিয়ে জাতিগুলোকে আঘাত করেন; তিনি লোহার দণ্ড দিয়ে তাদের শাসন করবেন। আর তিনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধরূপ আঙুর পেষার গর্তে আঙুর পিষবেন। ১৬ তাঁর কাপড়ে, হ্যাঁ, তাঁর ঊরুতে এই নাম লেখা আছে: রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু।

১৭ পরে আমি এও দেখলাম, একজন স্বর্গদূত সূর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন; আর তিনি আকাশের মাঝপথে উড়তে থাকা সমস্ত পাখিদের উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন: “এসো, ঈশ্বরের মহাভোজে একত্রিত হও, ১৮ যেন তোমরা রাজাদের মাংস এবং প্রধান সেনাপতিদের মাংস এবং বলবান ব্যক্তিদের মাংস এবং ঘোড়াদের মাংস এবং ঘোড়ার আরোহীদের মাংস আর সেইসঙ্গে স্বাধীন লোক ও দাসদের এবং সাধারণ ও উঁচুশ্রেণীর লোকদের, সকলের মাংস খেতে পার।”

১৯ আর আমি দেখলাম, যিনি ঘোড়ার উপর বসে আছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সেই হিংস্র পশু এবং পৃথিবীর রাজারা এবং তাদের সৈন্যেরা একত্রিত হল। ২০ আর সেই হিংস্র পশুকে ও সেইসঙ্গে সেই মিথ্যা ভাববাদীকে ধরা হল, যে হিংস্র পশুর সামনে বিভিন্ন অলৌকিক কাজ করার মাধ্যমে সেই লোকদের ভ্রান্ত করত, যারা হিংস্র পশুর চিহ্ন গ্রহণ করেছিল এবং যারা এটার মূর্তির উপাসনা করত। সেই হিংস্র পশু এবং মিথ্যা ভাববাদী, উভয়কেই জীবিত অবস্থায় গন্ধকের দ্বারা জ্বলছে এমন আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল। ২১ কিন্তু, অবশিষ্ট সকলকে, যিনি ঘোড়ার উপর বসে আছেন, তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে আসা লম্বা খড়্গ দিয়ে হত্যা করা হল। আর সমস্ত পাখি এদের মাংস খেয়ে পরিতৃপ্ত হল।

২০ এরপর আমি স্বর্গ থেকে একজন স্বর্গদূতকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর হাতে অতল গহ্বরের* চাবি এবং একটা বড়ো শিকল রয়েছে। ২ তিনি সেই ভয়ংকর সাপকে অর্থাৎ সেই পুরোনো সাপকে ধরলেন, যেটাকে দিয়াবল ও শয়তান বলা হয়; তাকে ১,০০০ বছরের জন্য বেঁধে রাখা হল। ৩ স্বর্গদূত তাকে অতল গহ্বরে* নিক্ষেপ করলেন এবং সেটার মুখ সিলমোহর দিয়ে বন্ধ করে দিলেন, যাতে ১,০০০ বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে জাতিগুলোকে আর ভ্রান্ত করতে না পারে। এরপর তাকে অল্প সময়ের জন্য মুক্ত করতে হবে।

৪ পরে আমি কতগুলো সিংহাসন দেখলাম আর সেগুলোতে যারা বসলেন, তাদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হল। হ্যাঁ, আমি সেই ব্যক্তিদের রক্ত দেখলাম, যে-ব্যক্তিদের যিশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার এবং ঈশ্বরের বিষয়ে কথা বলার জন্য হত্যা* করা হয়েছিল এবং যে-ব্যক্তিরা হিংস্র পশুর কিংবা এটার মূর্তির উপাসনা করেনি এবং তাদের কপালে ও হাতে এটার চিহ্ন গ্রহণ করেনি। তারা জীবিত হল এবং ১,০০০ বছর ধরে খ্রিস্টের সঙ্গে রাজত্ব করল। ৫ (সেই ১,০০০ বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাকি মৃত লোকেরা জীবিত হল না।) এটা হল প্রথম পুনরুত্থান।* ৬ যে-কেউ প্রথম পুনরুত্থানের অংশী হয়, সে সুখী ও পবিত্র; তাদের উপর দ্বিতীয় মৃত্যুর কোনো কর্তৃত্ব নেই; বরং তারা ঈশ্বরের ও খ্রিস্টের যাজক হবে এবং ১,০০০ বছর ধরে খ্রিস্টের সঙ্গে রাজত্ব করবে।

৭ সেই ১,০০০ বছর শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে শয়তানকে তার কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে; ৮ আর সে গিয়ে পৃথিবীর চার কোণের জাতিগুলোকে অর্থাৎ গোগ ও মাগোগকে ভ্রান্ত করবে এবং যুদ্ধের জন্য তাদের একত্রিত করবে। তাদের সংখ্যা সমুদ্রের বালির মতো। ৯ আর তারা পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল এবং পবিত্র ব্যক্তিদের শিবির ও সেইসঙ্গে প্রিয় নগরটা ঘেরাও করল। কিন্তু, স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এসে তাদের গ্রাস করল। ১০ আর দিয়াবল, যে তাদের ভ্রান্ত করছিল, তাকে আগুন ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল, যেখানে ইতিমধ্যে সেই হিংস্র পশু এবং মিথ্যা ভাববাদী রয়েছে; যুগে যুগে চিরকাল ধরে দিন-রাত তাদের যন্ত্রণা দেওয়া হবে।*

১১ পরে আমি একটা বড়ো সাদা সিংহা­সন এবং যিনি সেটাতে বসে আছেন, সেই ঈশ্বরকে দেখলাম। তাঁর সামনে থেকে পৃথিবী ও আকাশমণ্ডল পালিয়ে গেল আর এগুলোর কোনো অস্তিত্ব রইল না। ১২ আর আমি দেখলাম, সাধারণ ও উঁচুশ্রেণী, সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে; আর কয়েকটা গোটানো পুস্তক খোলা হল। পরে আরেকটা গোটানো পুস্তক খোলা হল; এটা হল জীবনপুস্তক। গোটানো পুস্তক­গুলোতে লিখিত বিষয় অনুসারে মৃত ব্যক্তিদের তাদের কাজ অনুযায়ী বিচার করা হল। ১৩ সমুদ্র এটার মধ্যে থাকা মৃত ব্যক্তিদের সমর্পণ করল এবং মৃত্যু ও কবর* এগুলোর মধ্যে থাকা মৃত ব্যক্তিদের সমর্পণ করল; আর তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ কাজ অনুযায়ী বিচার করা হল। ১৪ মৃত্যু ও কবরকে* আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল। এটা অর্থাৎ আগুনের হ্রদ দ্বিতীয় মৃত্যুকে চিত্রিত করে। ১৫ আর যে-কারো নাম জীবনপুস্তকে লেখা নেই, তাকে আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল।

২১ পরে আমি এক নতুন আকাশমণ্ডল এবং এক নতুন পৃথিবী দেখলাম; কারণ আগের আকাশমণ্ডল এবং আগের পৃথিবী শেষ হয়ে গিয়েছে এবং সমুদ্র আর নেই। ২ পরে আমি দেখলাম, পবিত্র নগর অর্থাৎ নতুন জেরুসালেম, ঈশ্বর যেখানে থাকেন, সেই স্বর্গ থেকে নেমে আসছে; কনে যেমন তার বরের জন্য সাজে, তেমনই এই নগরও প্রস্তুত হয়েছে। ৩ এরপর আমি সিংহা­সন থেকে এই উচ্চ কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: “দেখো! মানুষের মাঝে ঈশ্বরের তাঁবু আর তিনি তাদের সঙ্গে বাস করবেন এবং তারা তাঁর লোক হবে। আর ঈশ্বর নিজে তাদের সঙ্গে থাকবেন। ৪ তিনি তাদের চোখের সমস্ত জল মুছে দেবেন এবং মৃত্যু আর থাকবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথা আর থাকবে না। আগের বিষয়গুলো শেষ হয়ে গিয়েছে।”

৫ আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, সেই ঈশ্বর বললেন: “দেখো! আমি সমস্ত কিছু নতুন করছি।” তিনি আরও বললেন: “লেখো, কারণ এই কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য ও সত্য।” ৬ আর তিনি আমাকে বললেন: “এই কথাগুলো সম্পন্ন হল! আমিই আলফা ও ওমেগা* অর্থাৎ শুরু ও শেষ। যে-কেউ তৃষ্ণার্ত, তাকে আমি জীবনজলের উৎস থেকে বিনা মূল্যে জল খেতে দেব। ৭ যে-কেউ জয় করে, সে এইসমস্ত বিষয় লাভ করবে* আর আমি তার ঈশ্বর হব এবং সে আমার সন্তান হবে। ৮ কিন্তু, যারা ভীতু, যাদের বিশ্বাস নেই, যারা শুচি নয় এবং ঘৃণ্য বিষয়গুলো করে চলে, যারা খুনি, যারা যৌন অনৈতিকতায়* রত আছে, যারা প্রেতচর্চা করে, যারা প্রতিমাপূজা করে, তাদের এবং সমস্ত মিথ্যাবাদীকে আগুন ও গন্ধকের জ্বলন্ত হ্রদে নিক্ষেপ করা হবে। এই হ্রদ দ্বিতীয় মৃত্যুকে চিত্রিত করে।”

৯ আর যে-সাত জন স্বর্গদূতের হাতে শেষ সাতটা আঘাতে পরিপূর্ণ সাতটা বাটি ছিল, তাদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন: “এসো, আমি তোমাকে মেষশাবকের কনেকে, তাঁর স্ত্রীকে দেখাই।” ১০ পরে তিনি আমাকে পবিত্র শক্তির দ্বারা এক বিশাল ও উঁচু পর্বতে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে পবিত্র নগর জেরুসালেম দেখালেন, যা স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছে। ১১ সেই নগর ঈশ্বরের প্রতাপে পরিপূর্ণ। এর উজ্জ্বলতা সবচেয়ে মূল্যবান পাথরের মতো, যেন স্ফটিকের মতো উজ্জ্বল এমন সূর্যকান্ত মণি। ১২ এর এক বিশাল ও উঁচু প্রাচীর রয়েছে; প্রাচীরে ১২টা প্রবেশ­দ্বার রয়েছে এবং প্রবেশদ্বার­গুলোতে ১২ জন স্বর্গদূত রয়েছেন; প্রবেশদ্বারগুলোতে ইজরায়েলের ১২ বংশের নাম খোদাই করে লেখা রয়েছে। ১৩ পূর্ব দিকে তিনটে প্রবেশদ্বার, উত্তর দিকে তিনটে প্রবেশদ্বার, দক্ষিণ দিকে তিনটে প্রবেশদ্বার এবং পশ্চিম দিকে তিনটে প্রবেশদ্বার রয়েছে। ১৪ নগরের সেই প্রাচীরে ১২টা ভিত্তিপ্রস্তরও রয়েছে। আর সেগুলোতে মেষশাবকের ১২ জন প্রেরিতের ১২টা নাম রয়েছে।

১৫ যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তার হাতে সেই নগর এবং এর প্রবেশ­দ্বারগুলো ও প্রাচীর পরিমাপ করার জন্য একটা মাপকাঠি হিসেবে সোনার নল­খাগড়া রয়েছে। ১৬ নগরটা চতুর্ভূজাকৃতি এবং এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। আর তিনি নলখাগড়া দিয়ে নগরটা পরিমাপ করে দেখলেন যে, সেটা ২,২২০ কিলোমিটার;* এটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা, সবই সমান। ১৭ তিনি এর প্রাচীরও পরিমাপ করলেন; এটা মানুষের পরিমাপ অনুসারে এবং একইসঙ্গে স্বর্গদূতের পরিমাপ অনুসারে ১৪৪ হাত।* ১৮ সেই প্রাচীর সূর্যকান্ত মণি দিয়ে তৈরি এবং সেই নগর স্বচ্ছ কাচের মতো খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। ১৯ নগরের প্রাচীরের সমস্ত ভিত্তি বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পাথর দিয়ে সাজানো হয়েছে; প্রথম ভিত্তি হল সূর্যকান্ত মণি, দ্বিতীয়টা হল নীলকান্ত মণি, তৃতীয়টা হল তাম্র মণি, চতুর্থটা হল পান্না মণি, ২০ পঞ্চমটা হল বৈদূর্য মণি, ষষ্ঠটা হল সার্দীয় মণি, সপ্তমটা হল স্বর্ণ মণি, অষ্টমটা হল গোমেদক মণি, নবমটা হল পদ্মরাগ মণি, দশমটা হল লশুনীয় মণি, একাদশটা হল পেরোজ মণি, দ্বাদশটা হল কটাহেল মণি। ২১ আর ১২টা প্রবেশদ্বার হল ১২টা মুক্তো; প্রত্যেকটা প্রবেশ­দ্বার একেকটা মুক্তোর তৈরি। আর নগরের প্রধান সড়ক স্বচ্ছ কাচের মতো খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি।

২২ আমি সেই নগরে কোনো মন্দির দেখতে পেলাম না, কারণ স্বয়ং সর্বশক্তিমান যিহোবা* ঈশ্বর আর সেইসঙ্গে মেষশাবকও সেই নগরের মন্দির। ২৩ আর সেই নগরে আলো দেওয়ার জন্য সূর্য কিংবা চাঁদের প্রয়োজন নেই, কারণ ঈশ্বরের প্রতাপ সেটাকে আলোকিত করে এবং মেষশাবক সেটার প্রদীপ। ২৪ জাতিগুলো সেই নগরের আলো দ্বারা চলবে এবং পৃথিবীর রাজারা সেই নগরকে তাদের প্রতাপে পরিপূর্ণ করবে। ২৫ নগরের প্রবেশদ্বারগুলো দিনের বেলা কখনো বন্ধ করা হবে না, কারণ সেখানে রাত থাকবে না। ২৬ আর তারা জাতিগুলোর প্রতাপ ও সমাদর সেই নগরে নিয়ে আসবে। ২৭ কলুষিত কোনো কিছু এবং ঘৃণ্য ও প্রতারণামূলক কাজ করে এমন কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই সেই নগরে প্রবেশ করতে পারবে না; সেখানে কেবল সেই ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারবে, যাদের নাম মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লেখা আছে।

২২ পরে তিনি আমাকে জীবনজলের এক নদী দেখালেন; এই নদী স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং তা ঈশ্বর ও মেষশাবকের সিংহাসন থেকে বের হয়ে বয়ে চলেছে। ২ আর তা নগরের প্রধান সড়কের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে। নদীর দু-পাশেই জীবনবৃক্ষ রয়েছে, যেগুলোতে প্রতি বছর ১২ বার অর্থাৎ প্রতি মাসে এক বার করে ফল ধরে। আর সেই গাছগুলোর পাতা জাতিগুলোকে সুস্থ করে তোলার জন্য কাজ করে।

৩ সেখানে কোনো অভিশাপ আর থাকবে না। সেই নগরে ঈশ্বর ও মেষশাবকের সিংহাসন থাকবে এবং ঈশ্বরের দাসেরা তাঁকে পবিত্র সেবা প্রদান করবে; ৪ আর তারা তাঁর মুখ দেখবে এবং তাদের কপালে তাঁর নাম লেখা থাকবে। ৫ রাত আর থাকবে না এবং তাদের আর প্রদীপের আলো কিংবা সূর্যের আলোর প্রয়োজন হবে না, কারণ যিহোবা* ঈশ্বর তাদের উপর আলো বর্ষণ করবেন। আর তারা যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব করবে।

৬ তিনি আমাকে বললেন: “এই কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য ও সত্য; হ্যাঁ, ঈশ্বর যিহোবা,* যিনি ভাববাদীদের মাধ্যমে কথা বলেন, তিনি তাঁর দাসদের সেই বিষয়গুলো দেখানোর জন্য তাঁর স্বর্গদূতকে পাঠিয়েছেন, যেগুলো শীঘ্রই ঘটবে। ৭ দেখো! আমি শীঘ্রই আসছি। সুখী সেই ব্যক্তি, যে এই গোটানো পুস্তকে লেখা ভবিষ্যদ্‌বাণীর কথাগুলো পালন করে।”

৮ আমি, যোহন, এইসমস্ত বিষয় শুনলাম ও দেখলাম। সেগুলো শোনার ও দেখার পর, যে-স্বর্গদূত আমাকে এইসমস্ত বিষয় দেখাচ্ছিলেন, তার উপাসনা করার জন্য আমি তার পায়ের সামনে উবুড় হয়ে পড়লাম। ৯ কিন্তু, তিনি আমাকে বললেন: “সাবধান! এমন কাজ কোরো না! আমি কেবল তোমার এবং তোমার ভাইদের অর্থাৎ ভাববাদীদের এবং এই গোটানো পুস্তকে লেখা কথাগুলো পালন করে এমন ব্যক্তিদের সহদাস। ঈশ্বরেরই উপাসনা করো।”

১০ তিনি আমাকে আরও বললেন: “এই গোটানো পুস্তকে লেখা ভবিষ্যদ্‌বাণীর কথাগুলো সিলমোহর দিয়ে বন্ধ কোরো না, কারণ নিরূপিত সময় কাছে এসে গিয়েছে। ১১ যে অধার্মিক, সে মন্দ কাজ করে চলুক এবং যে নোংরা আচরণ করে, সে নোংরা বিষয় করে চলুক; কিন্তু যে ধার্মিক, সে সঠিক কাজ করে চলুক আর যে পবিত্র, সে পবিত্র কাজ করে চলুক।

১২ “‘দেখো! আমি শীঘ্রই আসছি। আমি প্রত্যেককে তার কাজ অনুযায়ী ফল দেব। ১৩ আমিই আলফা ও ওমেগা* অর্থাৎ প্রথম ও শেষ, শুরু ও শেষ। ১৪ সুখী সেই ব্যক্তিরা, যারা নিজ নিজ কাপড় ধুয়েছে, যেন তারা জীবনবৃক্ষের কাছে যাওয়ার অধিকার লাভ করতে পারে এবং নগরের প্রবেশদ্বার দিয়ে নগরে প্রবেশ করতে পারে। ১৫ ­নগরের বাইরে কুকুরেরা,* প্রেতচর্চাকারীরা, যৌন অনৈতিকতায়* রত আছে এমন ব্যক্তিরা, খুনিরা ও প্রতিমাপূজকেরা রয়েছে আর সেইসঙ্গে এমন সমস্ত লোক রয়েছে, যারা মিথ্যা ভালোবাসে এবং মিথ্যা বলে থাকে।’

১৬ “‘আমি যিশু, আমি আমার স্বর্গদূতকে পাঠালাম, যেন সে মণ্ডলীগুলোর উপকারের জন্য তোমাদের কাছে এইসমস্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। আমি দায়ূদের মূল ও বংশধর এবং উজ্জ্বল শুকতারা।’”

১৭ পবিত্র শক্তি এবং মেষশাবকের কনে এই কথা বলছেন, “এসো!” আর যে-কেউ এই কথা শোনে, সে-ও বলুক, “এসো!” আর যে-কেউ তৃষ্ণার্ত, সে আসুক; যে-কেউ ইচ্ছা করে, সে বিনা মূল্যে জীবনজল গ্রহণ করুক।

১৮ “যে-কেউ এই গোটানো পুস্তকে লেখা ভবিষ্যদ্‌বাণীর কথাগুলো শোনে, তার কাছে আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি: কেউ যদি এই বিষয়গুলোর সঙ্গে কিছু যুক্ত করে, তা হলে ঈশ্বর তার উপর এই গোটানো পুস্তকে লেখা আঘাতগুলো আনবেন; ১৯ আর কেউ যদি ভবিষ্যদ্‌বাণীর এই গোটানো পুস্তকের কথাগুলো থেকে কোনো কিছু বাদ দেয়, তা হলে ঈশ্বর তাকে এই গোটানো পুস্তকে লেখা ভালো বিষয়গুলো লাভ করতে দেবেন না। অর্থাৎ ঈশ্বর তাকে জীবনবৃক্ষের ফল খেতে ও সেইসঙ্গে পবিত্র নগরে প্রবেশ করতে দেবেন না।

২০ “যিনি এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি শীঘ্রই আসছি।’”

“আমেন! প্রভু যিশু, এসো।”

২১ প্রভু যিশুর মহাদয়া পবিত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকুক।

বা “উদ্ঘাটিত; উন্মোচিত।”

শব্দকোষ দেখুন।

আলফা ও ওমেগা হল গ্রিক বর্ণমালার প্রথম ও শেষ অক্ষর।

গ্রিক, হেডিস। শব্দকোষ দেখুন।

আক্ষ., “স্বর্গদূতদের।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

বা “নীকলায়ের দলের।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

আক্ষ., “শয়তানের সমাজগৃহ।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

আক্ষ., “আমার নাম দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছ।”

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈ­তিকতা।”

বা “ইজরায়েলীয়দের সামনে হোঁচট লাগার মতো বস্তু রাখে।”

বা “নীকলায়ের দলের।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।

শব্দকোষ দেখুন।

বা “গভীরতম আবেগ।” আক্ষ., “বৃক্ক।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

আক্ষ., “বিষয়গুলোকে।”

আক্ষ., “এমন কয়েকটা নাম।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতদের।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

আক্ষ., “সমাজগৃহের।”

বা “সামনে প্রণাম।”

আক্ষ., “স্বর্গদূতের।”

বা “স্নেহ করি।”

বা “ও লাল রঙের এক মূল্যবান পাথরের।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তি।”

বা “মাঝখানে সেই সিংহাসনের সঙ্গে।”

শব্দকোষ দেখুন।

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তি।”

শব্দকোষ দেখুন।

আক্ষ., “যেটার ভিতরে ও বাইরে, দু-দিকেই।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তি।”

বা “তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তির।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিরা।”

গ্রিক, খোইনিক্স। এক লিটারের চেয়ে সামান্য বেশি।

রোমীয় রৌপ্যমুদ্রা, যেটার মূল্য এক দিনের বেতনের সমান। শব্দকোষ দেখুন।

গ্রিক, খোইনিক্স। এক লিটারের চেয়ে সামান্য বেশি।

বা “ওয়াইন।”

গ্রিক, হেডিস। শব্দকোষ দেখুন।

সম্ভবত ছাগলের লোম।

আক্ষ., “স্বর্গদূতকে সূর্যের উদয়স্থান।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

বা “তাদের উপর তাঁর তাঁবু খাটাবেন।”

সোমরাজ হল এক প্রকারের উদ্ভিদ, যেটাতে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা তেতো ও বিষাক্ত।

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

বা সম্ভবত, “পঙ্গপালের কারণে হওয়া যন্ত্রণা।” আক্ষ., “তাদের যন্ত্রণা।”

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

অর্থ “বিনাশ।”

অর্থ “বিনাশক।”

শব্দকোষ দেখুন, “শৃঙ্গ।”

আক্ষ., “তাদের হাতের।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

আক্ষ., “পায়ের পাতা।”

বা “মাপকাঠির।”

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

বা “দেখতে থাকল।”

সম্ভবত ঈশ্বরকে নির্দেশ করে।

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তি।”

শব্দকোষ দেখুন।

বা “সন্তানকে ধরে।”

অর্থ “কে ঈশ্বরের তুল্য?”

বা সম্ভবত, “এ [অর্থাৎ সেই ভয়ংকর সাপ] পরাজিত হল।”

অর্থাৎ সাড়ে তিন কাল।

আক্ষ., “বীজের।”

অর্থাৎ সেই ভয়ংকর সাপ।

এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।

বা সম্ভবত, “কাউকে যদি খড়্গের আঘাতে হত হতে হয়।”

আক্ষ., “পশুর উদ্দেশে।”

আক্ষ., “নিঃশ্বাস।”

বা “বয়স্ক ব্যক্তিদের।”

শব্দকোষ দেখুন।

বা “ওয়াইন।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

বা “ওয়াইন।”

আক্ষ., “কাজ তাদের সঙ্গে সঙ্গে যাবে।”

প্রায় ১৮৪ মাইল। আক্ষ., “১,৬০০ স্টেডিয়াম।” এক স্টেডিয়াম সমান ১৮৫ মিটার (৬০৬.৯৫ ফুট)।

শব্দকোষ দেখুন।

শব্দকোষ দেখুন।

বা “আবাসের।”

শব্দকোষ দেখুন।

বা “রায়।”

আক্ষ., “যাতে সূর্যের উদয়স্থান।”

গ্রিক জিমনোস শব্দের অর্থ এও হতে পারে: “স্বল্প পোশাক পরিহিত; কেবল অন্তর্বাস পরিহিত।”

বা “আরমাগিদোন।” ইব্রীয়, অর্থ: “মগিদ্দো পর্বত।”

বা “ওয়াইন।”

আক্ষ., “ওজন এক তালন্তের ওজন।”

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।

বা “ওয়াইন।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।

আক্ষ., “তারা এক ঘণ্টার।”

বা সম্ভবত, “প্রত্যেক নিঃশ্বাস; প্রত্যেক বিষাক্ত বাতাস।”

বা “ওয়াইন।”

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

বা “তার অপরাধগুলো।”

শব্দকোষ দেখুন।

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”

আক্ষ., “এক ঘণ্টার।”

শব্দকোষ দেখুন।

বা “ওয়াইন।”

আক্ষ., “এক ঘণ্টার।”

আক্ষ., “এক ঘণ্টার।”

বা “হাল্লিলূয়া!” যাঃ হল যিহোবা নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।

বা “হাল্লিলূয়া!” যাঃ হল যিহোবা নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

আক্ষ., “বয়স্ক ব্যক্তি।”

বা “হাল্লিলূয়া!” যাঃ হল যিহোবা নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

বা “হাল্লিলূয়া!” যাঃ হল যিহোবা নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

শব্দকোষ দেখুন।

অর্থাৎ সেই স্বর্গদূত, যিনি যোহনের কাছে এইসমস্ত বিষয় প্রকাশ করেছেন।

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।

আক্ষ., “কুড়াল দিয়ে হত্যা।”

শব্দকোষ দেখুন।

বা “তাদের আটকে রাখা হবে; তাদের বন্দি করে রাখা হবে।”

গ্রিক, হেডিস। শব্দকোষ দেখুন।

গ্রিক, হেডিস। শব্দকোষ দেখুন।

প্রকাশিত বাক্য ১:৮ পদের পাদটীকা দেখুন।

আক্ষ., “এইসমস্ত বিষয়ের উত্তরাধিকারী হবে।”

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন।

প্রায় ১,৩৭৯ মাইল। আক্ষ., “১২,০০০ স্টেডিয়াম।” এক স্টেডিয়াম সমান ১৮৫ মিটার (৬০৬.৯৫ ফুট)।

প্রায় ৬৪ মিটার (২১০ ফুট)।

শব্দকোষ দেখুন।

শব্দকোষ দেখুন।

শব্দকোষ দেখুন।

প্রকাশিত বাক্য ১:৮ পদের পাদটীকা দেখুন।

অর্থাৎ যারা সেইসমস্ত কাজ করে চলে, যেগুলো ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য।

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার