যোহনের প্রথম চিঠি
১ আমরা জীবনের সেই বাক্যের বিষয়ে তোমাদের লিখছি, যিনি শুরু থেকে ছিলেন, যাঁকে আমরা কথা বলতে শুনেছি, যাঁকে আমরা নিজের চোখে দেখেছি, যাঁকে আমরা লক্ষ করেছি এবং আমাদের হাত দিয়ে স্পর্শ করেছি। ২ (হ্যাঁ, অনন্তজীবন আমাদের কাছে প্রকাশ করা হয়েছিল আর আমরা সেটা দেখেছি এবং সেটার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি আর তোমাদের কাছে সেটার বিষয়ে ঘোষণা করছি। এই অনন্তজীবন পিতার কাছ থেকে এসেছিল এবং আমাদের কাছে প্রকাশ করা হয়েছিল।) ৩ যাঁকে আমরা দেখেছি এবং কথা বলতে শুনেছি, তাঁর বিষয়ে আমরা তোমাদের কাছেও ঘোষণা করছি, যাতে তোমরাও আমাদের সঙ্গে একতাবদ্ধ হতে পার, ঠিক যেমন আমরা পিতার সঙ্গে এবং তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছি। ৪ আর আমরা তোমাদের এইসমস্ত বিষয় লিখছি, যাতে আমাদের আনন্দ পূর্ণ হয়।
৫ যিশুর কাছ থেকে আমরা এই বার্তা শুনেছি এবং সেটার বিষয়ে তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি: ঈশ্বর হলেন আলো এবং তাঁর মধ্যে অন্ধকারের লেশমাত্র নেই। ৬ আমরা যদি বলি, “আমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছি” অথচ অন্ধকারে চলি, তা হলে আমরা মিথ্যা কথা বলছি এবং আমরা সত্য অনুসারে জীবনযাপন করছি না। ৭ কিন্তু, তিনি যেমন আলোতে আছেন, তেমনই আমরা যদি আলোতে চলে থাকি, তা হলে আমরা সকলে একতাবদ্ধ। আর তাঁর পুত্র যিশুর রক্ত সমস্ত পাপ থেকে আমাদের শুচি করে।
৮ আমরা যদি বলি, “আমাদের মধ্যে কোনো পাপ নেই,” তা হলে আমরা নিজেদের ভোলাচ্ছি এবং সত্য আমাদের মধ্যে নেই। ৯ যেহেতু ঈশ্বর বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ, তাই আমরা যদি আমাদের পাপ স্বীকার করি, তা হলে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করেন এবং সমস্ত মন্দ কাজ থেকে আমাদের শুচি করেন। ১০ আমরা যদি বলি, “আমরা পাপ করিনি,” তা হলে আমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী করে তুলছি এবং তাঁর বাক্য আমাদের মধ্যে নেই।
২ হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমি তোমাদের এইসমস্ত কথা লিখছি, যেন তোমরা কোনো পাপ না কর। আর কেউ যদি পাপ করেও ফেলে, তা হলে পিতার সঙ্গে আমাদের একজন সাহায্যকারী* আছেন। তিনি সেই যিশু খ্রিস্ট, যিনি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যা সঠিক, তা-ই করেন। ২ তিনি আমাদের পাপের জন্য এমন এক বলি, যা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে,* তবে শুধু আমাদের পাপের জন্যই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে পুরো জগতের পাপের জন্যও। ৩ যদি আমরা তাঁর আজ্ঞাগুলো পালন করে চলি, তবেই আমরা বুঝতে পারব যে, আমরা যিশুকে* জানি। ৪ যে বলে, “আমি যিশুকে* জানি” অথচ তাঁর আজ্ঞাগুলো পালন করে না, সে একজন মিথ্যাবাদী আর সত্য তার মধ্যে নেই। ৫ কিন্তু, যে-কেউ তাঁর বাক্য পালন করে, ঈশ্বরের প্রতি তার ভালোবাসা সত্যিই পূর্ণতা লাভ করে। এটার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছি। ৬ কেউ যদি বলে, সে তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছে, তা হলে তাকে অবশ্যই সেভাবে জীবনযাপন করতে হবে, যেভাবে যিশু করেছিলেন।
৭ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের কোনো নতুন আজ্ঞা দিচ্ছি না, বরং এক পুরোনো আজ্ঞা দিচ্ছি, যা প্রথম থেকেই তোমাদের কাছে ছিল। তোমরা যে-বাক্য শুনেছিলে, সেটাই এই পুরোনো আজ্ঞা। ৮ তা সত্ত্বেও, আমি এই আজ্ঞাকেই এক নতুন আজ্ঞা হিসেবে দিচ্ছি, যেটা যিশু পালন করেছিলেন এবং তোমরাও পালন করছ, কারণ অন্ধকার কেটে যাচ্ছে আর প্রকৃত আলো ইতিমধ্যে জ্যোতি ছড়াচ্ছে।
৯ যে বলে, সে আলোতে রয়েছে অথচ নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, সে এখনও অন্ধকারে রয়েছে। ১০ যে নিজের ভাইকে ভালোবাসে, সে আলোতে থাকে আর কোনো কিছুই তাকে ভুল করতে পরিচালিত করবে না।* ১১ কিন্তু, যে নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, সে অন্ধকারে রয়েছে এবং অন্ধকারে চলছে আর সে জানে না, সে কোথায় যাচ্ছে, কারণ অন্ধকার তার চোখকে অন্ধ করে দিয়েছে।
১২ হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তাঁর নামের জন্য তোমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে। ১৩ বাবারা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ যিনি শুরু থেকেই আছেন, তাঁকে তোমরা জান। যুবকেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তোমরা শয়তানকে* পরাজিত করেছ। সন্তানেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তোমরা পিতাকে জান। ১৪ বাবারা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ যিনি শুরু থেকেই আছেন, তাঁকে তোমরা জান। যুবকেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তোমরা বলবান এবং ঈশ্বরের বাক্য তোমাদের মধ্যে রয়েছে আর তোমরা শয়তানকে* পরাজিত করেছ।
১৫ জগৎকে কিংবা জগতের বিষয়গুলোকে ভালোবেসো না। কেউ যদি জগৎকে ভালোবাসে, তা হলে পিতার প্রতি তার ভালোবাসা নেই; ১৬ কারণ জগতে যা-কিছু রয়েছে অর্থাৎ মাংসিক আকাঙ্ক্ষা, চোখের আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের জীবনোপায় জাহির* করার মনোভাব, এগুলো পিতার কাছ থেকে আসে না, বরং জগৎ থেকে আসে। ১৭ এ ছাড়া, এই জগৎ এবং জগতের আকাঙ্ক্ষা* শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যে-ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
১৮ প্রিয় সন্তানেরা, আমরা শেষ সময়ে রয়েছি আর তোমরা যেমন শুনেছ, খ্রিস্টের বিরোধী* আসছে, এমনকী এখনই খ্রিস্টের অনেক বিরোধী* এসে গিয়েছে আর এটা থেকে আমরা জানতে পারি, আমরা শেষ সময়ে রয়েছি। ১৯ তারা আমাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু তারা আমাদের মতো* ছিল না; তারা যদি আমাদের মতো হতো, তা হলে তারা আমাদের সঙ্গে থাকত। কিন্তু, তারা আমাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, যাতে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সকলে আমাদের মতো নয়। ২০ পবিত্র ঈশ্বর তাঁর পবিত্র শক্তির মাধ্যমে তোমাদের অভিষিক্ত করেছেন আর তাই তোমাদের সকলের জ্ঞান রয়েছে। ২১ তোমরা সত্য জান না বলে যে আমি তোমাদের লিখছি, তা নয়, বরং তোমরা সত্য জান বলেই লিখছি এবং এই কারণেও লিখছি যে, সত্য থেকে কোনো মিথ্যা আসে না।
২২ যিশুই যে খ্রিস্ট, এই বিষয়টা যে অস্বীকার করে, সে ছাড়া আর কেই-বা মিথ্যাবাদী? সে-ই তো খ্রিস্টের বিরোধী,* যে কিনা পিতাকে ও পুত্রকে অস্বীকার করে। ২৩ যে-কেউ পুত্রকে অস্বীকার করে, তার উপর পিতার অনুমোদন নেই। কিন্তু, যে-কেউ পুত্রকে স্বীকার করে, তার উপর পিতার অনুমোদন রয়েছে। ২৪ তোমরা প্রথম থেকে যা শুনে এসেছ, তা তোমাদের পালন করে চলা উচিত। তোমরা প্রথম থেকে যা শুনে এসেছ, তা যদি পালন করে চল, তা হলে তোমরাও পুত্রের সঙ্গে এবং পিতার সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকবে। ২৫ আর ঈশ্বর* নিজে যে-বিষয়ে আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেটা হল অনন্তজীবন।
২৬ আমি তোমাদের এইসমস্ত কথা লিখছি কারণ কেউ কেউ তোমাদের ভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ২৭ ঈশ্বর তাঁর পবিত্র শক্তির মাধ্যমে তোমাদের অভিষিক্ত করেছেন আর সেই পবিত্র শক্তি তোমাদের মধ্যে রয়েছে বলে কারো কাছ থেকে তোমাদের শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই; কিন্তু ঈশ্বরই অভিষিক্ত করার মাধ্যমে তোমাদের সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন। তোমাদের অভিষেক সত্য, এটা মিথ্যা নয়। তাই, পবিত্র শক্তির কাছ থেকে তোমরা যেমন শিক্ষা লাভ করেছ, তেমনই তোমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকো। ২৮ অতএব প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকো, যাতে তিনি যখন প্রকাশিত হবেন, তখন আমরা নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারি এবং তাঁর উপস্থিতির সময় লজ্জায় তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে না পড়ি। ২৯ তোমরা যদি জান যে, যিশু* ধার্মিক, তা হলে তোমরা এটাও জেনে রাখ, যে-কেউ ধার্মিক, সে ঈশ্বরের সন্তান।
৩ দেখো, আমাদের প্রতি পিতার প্রেম এত মহৎ যে, আমাদের ঈশ্বরের সন্তান বলে ডাকা হয়! আর আমরা সত্যিই তাঁর সন্তান। কিন্তু, জগৎ আমাদের জানে না, কারণ জগৎ ঈশ্বরকে জানে না। ২ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এখন আমরা ঈশ্বরের সন্তান, কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা কেমন হব, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে, আমরা এটা জানি, যখন ঈশ্বর প্রকাশিত হবেন, তখন আমরা তাঁর মতো হব কারণ তিনি যেমন, আমরা তাঁকে ঠিক সেভাবেই দেখতে পাব। ৩ আর যে-কেউ তাঁর উপর এই প্রত্যাশা রাখে, সে নিজেকে শুচি করে, ঠিক যেমন তিনি শুচি।
৪ যে-কেউ পাপ করে চলে, সে আইন লঙ্ঘন করে আর পাপ করার অর্থই হল আইন লঙ্ঘন করা। ৫ আর তোমরা জান, তিনি আমাদের পাপ বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন* এবং তাঁর মধ্যে কোনো পাপ নেই। ৬ যে-কেউ তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকে, সে পাপ করে চলে না; যে-কেউ পাপ করে চলে, সে তাঁকে দেখেওনি কিংবা তাঁকে জানেওনি। ৭ প্রিয় সন্তানেরা, কেউ যেন তোমাদের ভ্রান্ত না করে; যে সঠিক কাজ করে চলে, সে ধার্মিক, ঠিক যেমন তিনি ধার্মিক। ৮ যে পাপ করে চলে, সে দিয়াবলের সন্তান কারণ দিয়াবল অনেক আগে থেকেই* পাপ করে আসছে। ঈশ্বরের পুত্র এই উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন,* যেন তিনি দিয়াবলের কাজগুলো বিনষ্ট করেন।
৯ যে-কেউ ঈশ্বরের সন্তান, সে পাপ করে চলে না, কারণ ঈশ্বরের পবিত্র শক্তি* তার মধ্যে রয়েছে। সে পাপ করে চলতে পারে না, কারণ সে ঈশ্বরের সন্তান। ১০ কারা ঈশ্বরের সন্তান এবং কারা দিয়াবলের সন্তান, তা আমরা এভাবে জানতে পারি: যে-কেউ সঠিক কাজ করে চলে না, সে ঈশ্বরের সন্তান নয় কিংবা সে-ও ঈশ্বরের সন্তান নয়, যে নিজের ভাইকে ভালোবাসে না। ১১ কারণ তোমরা শুরু থেকে এই আজ্ঞা শুনে এসেছ, আমাদের পরস্পর প্রেম করতে হবে। ১২ আমরা যেন কয়িনের মতো না হই; সে শয়তানের* সন্তান এবং সে নিজের ভাইকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছিল। কেন সে তার ভাইকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছিল? কারণ তার নিজের কাজ ছিল মন্দ আর তার ভাইয়ের কাজ ছিল সঠিক।
১৩ ভাইয়েরা, তোমরা এতে আশ্চর্য হোয়ো না যে, জগৎ তোমাদের ঘৃণা করে। ১৪ আমরা জানি যে, আমরা বলতে গেলে মৃত ছিলাম, কিন্তু এখন আমরা জীবিত, কারণ আমরা ভাইদের ভালোবাসি। যে ভালোবাসে না, সে বলতে গেলে এখনও মৃত। ১৫ যে-কেউ নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, সে একজন খুনি আর তোমরা জান, কোনো খুনিই অনন্তজীবন লাভ করবে না। ১৬ যিশু খ্রিস্ট আমাদের জন্য নিজের জীবন দান করেছেন বলেই আমরা জানতে পেরেছি, প্রেম কী। আর তাই আমরাও আমাদের ভাইদের জন্য নিজেদের জীবন দিতে বাধ্য। ১৭ কিন্তু, যার কাছে বস্তুগত বিষয়সম্পত্তি রয়েছে, সে যদি তার ভাইকে অভাবের মধ্যে থাকতে দেখেও তার প্রতি সমবেদনা না দেখায়, তা হলে কীভাবে সে বলতে পারে যে, সে ঈশ্বরকে প্রেম করে? ১৮ প্রিয় সন্তানেরা, আমরা যেন শুধু মুখে না বলে বরং আমাদের কাজের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দেখাই যে, আমরা একে অন্যকে প্রেম করি।
১৯ এভাবেই আমরা জানতে পারব, আমরা সত্যের পক্ষে রয়েছি আর আমরা নিজেদের এই আশ্বাস দেব যে, ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন। ২০ আর আমাদের হৃদয় যদি আমাদের দোষীও করে, তারপরও ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ের চেয়ে মহান এবং তিনি সমস্ত কিছু জানেন। ২১ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের হৃদয় যদি আমাদের দোষী না করে, তা হলে ঈশ্বরের সঙ্গে আমরা নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারব; ২২ আর আমরা যা চাইব, তিনি আমাদের তা দেবেন, কারণ আমরা তাঁর আজ্ঞা পালন করি এবং তাঁর দৃষ্টিতে যা প্রীতিজনক, তা করি। ২৩ আর তাঁর আজ্ঞা এই: আমরা যেন তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্টের নামের উপর বিশ্বাস করি এবং পরস্পর প্রেম করি, ঠিক যেমনটা তিনি আমাদের আজ্ঞা দিয়েছিলেন। ২৪ এ ছাড়া, যে ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো পালন করে, সে ঈশ্বরের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকে এবং ঈশ্বর তার সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকেন। আর তিনি আমাদের যে-পবিত্র শক্তি দিয়েছেন, সেটার মাধ্যমে আমরা জানি, তিনি আমাদের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকেন।
৪ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এমন প্রতিটা বার্তা বিশ্বাস কোরো না, যেগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে বলে দাবি করা হয়, বরং পরীক্ষা করে দেখো যে, সেগুলো সত্যিই তাঁর কাছ থেকে এসেছে কি না। কারণ জগতে অনেক মিথ্যা ভাববাদী দেখা যাচ্ছে।
২ কোনো বার্তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা তোমরা এভাবে বুঝতে পারবে: যে-বার্তা স্বীকার করে, যিশু খ্রিস্ট মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে এসেছিলেন, সেই বার্তাই ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। ৩ কিন্তু, যে-বার্তা যিশুকে স্বীকার করে না, তা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসেনি। এই বার্তা খ্রিস্টের বিরোধীর* কাছ থেকে এসেছে। সে যে এই বার্তা বলবে, তা তো তোমরা শুনেছ আর সেই বার্তা সত্যিই এখন জগতে ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা ঈশ্বরের লোক এবং তোমরা মিথ্যা ভাববাদীদের পরাজিত করেছ, কারণ যিনি তোমাদের পক্ষে রয়েছেন, তিনি সেই দিয়াবলের চেয়েও শক্তিশালী, যে জগতের পক্ষে রয়েছে। ৫ এই মিথ্যা ভাববাদীরা এই জগতের; তাই তারা জগতের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলে আর জগৎ তাদের কথা শোনে। ৬ আমরা ঈশ্বরের লোক। যে-কেউ ঈশ্বরকে জানে, সে আমাদের কথা শোনে; যে-কেউ ঈশ্বরের লোক নয়, সে আমাদের কথা শোনে না। এর দ্বারাই আমরা বুঝতে পারি, কোন বার্তা সত্য এবং কোন বার্তা মিথ্যা।
৭ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এসো আমরা পরস্পরের প্রতি প্রেম দেখিয়ে চলি, কারণ প্রেম ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে আর যে-কেউ প্রেম দেখায়, সে ঈশ্বরের সন্তান এবং সে ঈশ্বরকে জানে। ৮ যে-কেউ প্রেম দেখায় না, সে ঈশ্বরকে জানে না, কারণ ঈশ্বর প্রেম। ৯ আমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রেম এভাবে প্রকাশিত হয়েছে যে, ঈশ্বর তাঁর একজাত পুত্রকে জগতে পাঠিয়েছিলেন, যেন আমরা তাঁর মাধ্যমে জীবন লাভ করতে পারি। ১০ এই প্রেম হল: আমরা ঈশ্বরকে প্রেম করেছিলাম বলে যে তিনি তাঁর পুত্রকে আমাদের পাপের জন্য বলি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, এমন নয়, বরং তিনিই আমাদের প্রেম করেছিলেন এবং তাঁর পুত্রকে আমাদের পাপের জন্য এমন এক বলি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, যা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে।*
১১ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যেহেতু ঈশ্বর এভাবে আমাদের প্রতি প্রেম দেখিয়েছেন, তাই আমরাও পরস্পরের প্রতি প্রেম দেখাতে বাধ্য। ১২ কেউ কখনো ঈশ্বরকে দেখেনি। আমরা যদি পরস্পরের প্রতি প্রেম দেখিয়ে চলি, তা হলে ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন আর আমাদের মধ্যে তাঁর প্রেম পূর্ণতা লাভ করেছে। ১৩ তিনি আমাদের তাঁর পবিত্র শক্তি দিয়েছেন আর এটা থেকেই আমরা জানতে পারি যে, আমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছি এবং তিনি আমাদের সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছেন। ১৪ এ ছাড়া, আমরা নিজেরা দেখেছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পিতা তাঁর পুত্রকে জগতের ত্রাণকর্তা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। ১৫ কেউ যদি স্বীকার করে, যিশু হলেন ঈশ্বরের পুত্র, তা হলে ঈশ্বর তার সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছেন এবং সেই ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছে। ১৬ ঈশ্বর যে আমাদের ভালোবাসেন, তা আমরা জানি এবং সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত।
ঈশ্বর প্রেম আর যে প্রেম দেখিয়ে চলে, সে ঈশ্বরের সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছে এবং ঈশ্বর তার সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছেন। ১৭ এভাবেই প্রেম আমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করেছে, যাতে বিচারদিনে আমরা নির্দ্বিধায় কথা বলতে* পারি, কারণ এই জগতে আমরা খ্রিস্টেরই মতো। ১৮ প্রেমের মধ্যে কোনো ভয় নেই, বরং পরিপূর্ণ প্রেম ভয় দূর করে দেয়, কারণ ভয় আমাদের বাধা দেয়। কেউ যদি ভয় পায়, তা হলে তার মধ্যে প্রেম পূর্ণতা লাভ করেনি। ১৯ আমরা প্রেম দেখাই, কারণ ঈশ্বর প্রথমে আমাদের প্রতি প্রেম দেখিয়েছেন।
২০ কেউ যদি বলে, “আমি ঈশ্বরকে প্রেম করি” অথচ নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, তা হলে সে একজন মিথ্যাবাদী। কারণ যাকে দেখেছে, সেই ভাইকে যে প্রেম করে না, সে যাঁকে দেখেনি, সেই ঈশ্বরকে প্রেম করতে পারে না। ২১ আর আমরা তাঁর কাছ থেকে এই আজ্ঞা পেয়েছি, যে-কেউ ঈশ্বরকে প্রেম করে, সে যেন নিজের ভাইকেও প্রেম করে।
৫ যে-কেউ বিশ্বাস করে, যিশুই হলেন খ্রিস্ট, সে ঈশ্বরের সন্তান আর যে-কেউ পিতা ঈশ্বরকে প্রেম করে, সে ঈশ্বরের সন্তানদেরও প্রেম করে। ২ আমরা যখন ঈশ্বরকে প্রেম করি এবং তাঁর আজ্ঞাগুলো পালন করি, তখনই আমরা জানতে পারি যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তানদের প্রেম করি। ৩ ঈশ্বরকে প্রেম করার অর্থ এই, যেন আমরা তাঁর আজ্ঞাগুলো পালন করি; আর তাঁর আজ্ঞাগুলো বোঝাস্বরূপ নয়, ৪ কারণ যে-কেউ ঈশ্বরের সন্তান, সে জগৎকে জয় করে। আর আমরা যে জগৎকে জয় করতে পেরেছি, সেটা আমাদের বিশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
৫ কে জগৎকে জয় করতে পারে? সে-ই কি নয়, যে বিশ্বাস করে, যিশুই হলেন ঈশ্বরের পুত্র? ৬ যিশু খ্রিস্টই সেই ব্যক্তি, যিনি জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছিলেন, কেবল জলের মধ্য দিয়েই নয়, কিন্তু জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে। আর এই বিষয়ে পবিত্র শক্তি সাক্ষ্য দিচ্ছে, কারণ পবিত্র শক্তি সত্য প্রকাশ করে।* ৭ তিনটে বিষয় সাক্ষ্য দিচ্ছে: ৮ পবিত্র শক্তি, জল ও রক্ত; আর তিনটে বিষয়ের সাক্ষ্যই এক।
৯ আমরা যদি মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করে থাকি, তা হলে ঈশ্বরের সাক্ষ্য আরও কতই-না মহৎ! কারণ ঈশ্বর নিজে তাঁর পুত্রের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১০ যে ঈশ্বরের পুত্রের উপর বিশ্বাস করে, তার হৃদয়ে সেই সাক্ষ্য রয়েছে। ঈশ্বরের উপর যার বিশ্বাস নেই, সে তাঁকে মিথ্যাবাদী করে তুলেছে, কারণ ঈশ্বর তাঁর পুত্রের বিষয়ে যে-সাক্ষ্য দিয়েছেন, সেটার উপর সে বিশ্বাস করেনি। ১১ আর সেই সাক্ষ্য এই যে, ঈশ্বর আমাদের অনন্তজীবন দিয়েছেন আর এই জীবন আমরা তাঁর পুত্রের মাধ্যমে লাভ করি। ১২ যে পুত্রকে গ্রহণ করে, তার অনন্তজীবনের আশা রয়েছে; যে ঈশ্বরের পুত্রকে গ্রহণ করে না, তার অনন্তজীবনের আশা নেই।
১৩ তোমরা যারা ঈশ্বরের পুত্রের নামের উপর বিশ্বাস করেছ, তোমাদের আমি এইসমস্ত কথা লিখছি, যেন তোমরা জানতে পার যে, তোমাদের অনন্তজীবনের আশা রয়েছে। ১৪ আর আমাদের এই আস্থা রয়েছে* যে, ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখে প্রার্থনায় আমরা যা-কিছুই চাই না কেন, তিনি আমাদের প্রার্থনা শোনেন। ১৫ যেহেতু আমরা জানি, আমরা প্রার্থনায় যা-কিছুই চাই না কেন, তিনি আমাদের প্রার্থনা শোনেন, তাই আমরা এও জানি যে, আমরা তাঁর কাছ থেকে যা-কিছু চাই, সেগুলো পাব।
১৬ কেউ যদি তার ভাইকে এমন কোনো পাপ করতে দেখে, যা মৃত্যুর যোগ্য নয়, তা হলে সে তার জন্য প্রার্থনা করবে আর ঈশ্বর সেই ভাইকে জীবন দান করবেন।* হ্যাঁ, যারা মৃত্যুর যোগ্য পাপ করে না, তাদেরই তিনি জীবন দান করবেন। তবে, এমন পাপও রয়েছে, যা মৃত্যুর যোগ্য। যে এইরকম পাপ করে, তার জন্য অনুরোধ করার কথা আমি বলছি না। ১৭ সমস্ত মন্দ কাজই পাপ, কিন্তু এমন পাপও রয়েছে, যা মৃত্যুর যোগ্য নয়।
১৮ আমরা জানি, যে-কেউ ঈশ্বরের সন্তান, সে পাপ করে চলে না, কিন্তু যিনি ঈশ্বরের সন্তান,* তিনি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করেন আর শয়তান* তার ক্ষতি করতে পারে না। ১৯ আমরা জানি, আমরা ঈশ্বরের লোক, কিন্তু সমস্ত জগৎ শয়তানের* নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে। ২০ তবে, আমরা এও জানি, ঈশ্বরের পুত্র এসেছেন আর তিনি আমাদের অন্তর্দৃষ্টি* দিয়েছেন, যাতে আমরা সত্য ঈশ্বর সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে পারি। আর তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গে একতাবদ্ধ আছি। হ্যাঁ, তিনিই সত্য ঈশ্বর এবং অনন্তজীবনের উৎস। ২১ প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা প্রতিমাদের কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করো।
বা “উকিল।”
বা “পাপের জন্য এক প্রায়শ্চিত্তমূলক বলিদান।”
আক্ষ., “তাঁকে।”
আক্ষ., “তাঁকে।”
বা “কিছুই তার জন্য হোঁচট খাওয়ার কারণ হবে না।”
আক্ষ., “সেই দুষ্ট ব্যক্তিকে।”
আক্ষ., “সেই দুষ্ট ব্যক্তিকে।”
বা “নিজের বিষয়সম্পত্তি নিয়ে বড়াই।”
বা “এবং লোকেরা জগতে যা-কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, সেগুলো।”
বা “খ্রিস্টারি।”
বা “এখনই অনেক খ্রিস্টারি।”
বা “আমাদের লোক।”
বা “সে-ই তো খ্রিস্টারি।”
আক্ষ., “তিনি।”
আক্ষ., “তিনি।”
আক্ষ., “প্রকাশিত হয়েছিলেন।”
আক্ষ., “দিয়াবল শুরু থেকেই” অর্থাৎ যখন সে প্রথম ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।
আক্ষ., “প্রকাশিত হয়েছিলেন।”
আক্ষ., “ঈশ্বরের বীজ।”
আক্ষ., “সেই দুষ্ট ব্যক্তির।”
বা “বার্তা খ্রিস্টারির।”
বা “পাপের জন্য এক প্রায়শ্চিত্তমূলক বলি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।”
বা “আমরা আস্থা রাখতে।”
আক্ষ., “শক্তি হল সত্য।”
বা “আর আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি।”
এখানে সম্ভবত ক্ষমা করার বিষয়কে নির্দেশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ঈশ্বরের পুত্র যিশু খ্রিস্ট।
আক্ষ., “সেই দুষ্ট ব্যক্তি।”
আক্ষ., “সেই দুষ্ট ব্যক্তির।”
আক্ষ., “বোঝার ক্ষমতা; বুদ্ধি।”