যাকোবের চিঠি
১ আমি যাকোব, ঈশ্বরের এবং প্রভু যিশু খ্রিস্টের একজন দাস, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১২ বংশের প্রতি লিখছি:
আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করো!
২ হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা যখন বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি হও, তখন সেটাকে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বলে মনে করো। ৩ কারণ তোমরা তো জান যে, তোমাদের বিশ্বাস এভাবে পরীক্ষিত হলে, তা ধৈর্য বাড়িয়ে তোলে। ৪ কিন্তু, তোমরা যদি সবসময় ধৈর্য ধর, তা হলে সেই ধৈর্য তোমাদের পুরোপুরিভাবে প্রশিক্ষিত করবে, তোমরা সমস্ত ক্ষেত্রে নিখুঁত হবে এবং তোমাদের কোনো কিছুর অভাব হবে না।
৫ তাই, তোমাদের মধ্যে যদি কারো প্রজ্ঞার অভাব হয়, তা হলে সে ঈশ্বরের কাছে বার বার সেটার জন্য অনুরোধ করুক। এতে তিনি তাকে তা দেবেন, কারণ ঈশ্বর কারো উপর অসন্তুষ্ট না হয়ে* সবাইকে উদারভাবে দান করেন। ৬ কিন্তু, সে বিশ্বাস সহকারে বার বার অনুরোধ করুক, কোনো সন্দেহ না করুক, কারণ যে সন্দেহ করে, সে বাতাসের দ্বারা আলোড়িত এবং দুলতে থাকা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। ৭ এইরকম ব্যক্তি যেন যিহোবার* কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা না করে; ৮ সে দ্বিধাগ্রস্ত লোক এবং সে তার কোনো পথেই স্থির থাকে না।
৯ যে ভাই দরিদ্র, তাকে উচ্চীকৃত করা হয়েছে বলে সে আনন্দ* করুক ১০ আর যে ভাই ধনী, তাকে নত করা হয়েছে বলে সে আনন্দ করুক, কারণ মাঠের ফুল যেমন মরে যায়, তেমনই একজন ধনী ব্যক্তিও মারা যাবে। ১১ সূর্যের প্রচণ্ড তাপে যেমন ঘাস শুকিয়ে যায়, সেটার ফুল ঝরে পড়ে এবং সেটার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, তেমনই একজন ধনী ব্যক্তি ধনসম্পদের পিছনে ছুটতে ছুটতে বিলীন হয়ে যাবে।
১২ সুখী সেই ব্যক্তি, যে পরীক্ষা সহ্য করে, কারণ সে যখন ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করবে, তখন সে জীবনমুকুট পাবে। এই জীবনমুকুট যিহোবা* সেই ব্যক্তিদেরই দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন, যারা তাঁকে সবসময় ভালোবাসে। ১৩ পরীক্ষার সময় কেউ না বলুক: “ঈশ্বর আমার পরীক্ষা করছেন।” কারণ মন্দ বিষয়ের দ্বারা ঈশ্বরের পরীক্ষা করা যায় না আর তিনি নিজেও মন্দ বিষয়ের দ্বারা কারো পরীক্ষা করেন না। ১৪ কিন্তু, প্রত্যেকে নিজের কামনার দ্বারা আকর্ষিত হয়ে এবং প্ররোচিত হয়ে* পরীক্ষায় পড়ে। ১৫ এরপর, সেই কামনা গর্ভবতী হয়ে পাপের জন্ম দেয় আর পাপ অবশেষে মৃত্যু ডেকে আনে।
১৬ আমার প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা ভ্রান্ত হোয়ো না। ১৭ সমস্ত উত্তম ও নিখুঁত দান স্বর্গ থেকে আসে, জ্যোতির্মণ্ডলের সেই পিতার কাছ থেকে আসে, যিনি ছায়ার মতো পরিবর্তিত হন না। ১৮ তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুসারে সত্যের বাক্য দ্বারা আমাদের জীবন দিয়েছেন, যাতে এক অর্থে আমরা মানবজাতির মধ্য থেকে প্রথম ফল* হতে পারি।
১৯ আমার প্রিয় ভাইয়েরা, এটা জেনে রেখো: তোমরা প্রত্যেকে শোনার ব্যাপারে ইচ্ছুক এবং কথা বলার ব্যাপারে ধীর হও আর দ্রুত রেগে যেয়ো না, ২০ কারণ যে রাগের কাছে নতিস্বীকার করে, সে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যা সঠিক, তা করে না। ২১ অতএব, তোমরা সমস্ত ধরনের নোংরা বিষয় এবং মন্দতার সমস্ত চিহ্ন দূর করো আর ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে যে-বাক্য বোনেন, সেটাকে মৃদুতার সঙ্গে গ্রহণ করো, কারণ সেই বাক্য তোমাদের রক্ষা করতে সমর্থ।
২২ তোমরা সেই বাক্যের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করো, কেবল শ্রোতা হোয়ো না। নতুবা তোমরা ভুল যুক্তি দিয়ে নিজেদেরই প্রতারিত করবে। ২৩ কারণ কেউ যদি কেবল বাক্যের শ্রোতা হয় অথচ সেটার সঙ্গে মিল রেখে কাজ না করে, তা হলে সে এমন একজন ব্যক্তির মতো, যে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে এবং ২৪ সে নিজেকে দেখে ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে চলে যাওয়ার সঙ্গেসঙ্গে ভুলে যায়, সে দেখতে কেমন। ২৫ কিন্তু, ঈশ্বরের যে-নিখুঁত আইন স্বাধীনতা নিয়ে আসে, সেটার প্রতি যে মনোযোগের সঙ্গে দৃষ্টিপাত করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে, সে ভুলে যাওয়ার শ্রোতা নয়। সে ঈশ্বরের কাজ করে; আর তা করার মাধ্যমে সে সুখী হবে।
২৬ কেউ যদি নিজেকে ঈশ্বরের একজন উপাসক বলে মনে করে অথচ নিজের জিভকে বশে না রাখে,* তা হলে সে নিজেকে* প্রতারিত করছে আর তার উপাসনার কোনো মূল্য নেই। ২৭ আমাদের ঈশ্বর ও পিতার দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ ও নিষ্কলঙ্ক উপাসনা* হল: অনাথ ও বিধবাদের তাদের ক্লেশের সময় যত্ন নেওয়া এবং এই জগতের অশুচিতা থেকে নিজেদের পৃথক রাখা।
২ হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা কি একদিকে আমাদের মহিমান্বিত প্রভু যিশু খ্রিস্টের উপর বিশ্বাস করছ, আবার অন্যদিকে ভেদাভেদের মনোভাবও দেখাচ্ছ? ২ মনে কর, তোমাদের সভায় সোনার আংটি এবং জমকালো পোশাক পরে একজন ব্যক্তি এল; আবার ময়লা পোশাক পরে একজন দরিদ্র ব্যক্তিও এল। ৩ তোমরা কি জমকালো পোশাকপরা ব্যক্তিকে বেশি সম্মান দেখিয়ে বলবে, “আপনি এই উত্তম জায়গায় বসুন”? আর সেই দরিদ্র ব্যক্তিকে কি বলবে, “তুমি দাঁড়িয়ে থাকো,” কিংবা “তুমি আমার পায়ের* কাছে বসো”? ৪ যদি বল, তা হলে তোমরা কি একে অন্যের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছ না এবং তোমরা কি এমন বিচারক হয়ে উঠছ না, যারা মন্দ উপায়ে বিচার করে?
৫ আমার প্রিয় ভাইয়েরা, শোনো। জগতের দৃষ্টিতে যারা দরিদ্র, ঈশ্বর কি তাদেরই বিশ্বাসে ধনী হওয়ার জন্য এবং সেই রাজ্যের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য বেছে নেননি, যে-রাজ্য তিনি সেই ব্যক্তিদের দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন, যারা তাঁকে ভালোবাসে? ৬ অথচ তোমরা সেই দরিদ্র লোকদেরই অনাদর করেছ। ধনী লোকেরাই কি তোমাদের অত্যাচার করে না এবং তোমাদের আদালতে টেনে নিয়ে যায় না? ৭ তোমরা যে-সম্মানজনক নাম বহন করে থাক, তারাই কি সেই নামের নিন্দা করে না? ৮ তোমরা যদি শাস্ত্র অনুযায়ী এই রাজকীয় আইন পালন করে থাক, “তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে,” তা হলে তোমরা ভালোই করছ। ৯ কিন্তু, তোমরা যদি ভেদাভেদের মনোভাব দেখাও, তা হলে তোমরা পাপ করছ আর সেই আইনের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত* হচ্ছ।
১০ কারণ কেউ যদি পুরো ব্যবস্থা* পালন করে, কিন্তু সেই ব্যবস্থার কোনো একটা আজ্ঞা লঙ্ঘন করে, তা হলে সে পুরো ব্যবস্থাই লঙ্ঘন করার দোষে দোষী হয়। ১১ কারণ যিনি বলেছেন, “ব্যভিচার* করবে না,” তিনি আবার এও বলেছেন, “খুন করবে না।” তাই, তুমি ব্যভিচার* না করলেও যদি খুন কর, তা হলে তুমি ব্যবস্থা লঙ্ঘন করার দোষে দোষী হচ্ছ। ১২ যে-আইন স্বাধীন লোকদের পরিচালনা দান করে, সেই আইন* দ্বারা যাদের বিচার করা হবে, তোমরা সবসময় তাদের মতোই কথা বলো এবং আচরণ করো। ১৩ কারণ যে-ব্যক্তি করুণা দেখায় না, বিচারের সময় তাকেও করুণা দেখানো হবে না। করুণাই বিচারের উপর জয় লাভ করে।
১৪ হে আমার ভাইয়েরা, কেউ যদি বলে, তার বিশ্বাস রয়েছে অথচ সে কাজের মাধ্যমে তা না দেখায়, তা হলে কী লাভ? সেই বিশ্বাস কি তাকে রক্ষা করতে পারবে? ১৫ মনে করো, কোনো ভাই অথবা বোনের কাপড়ের অভাব* রয়েছে এবং তার কাছে দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নেই। ১৬ এই অবস্থায় তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাকে বলে, “তোমার মঙ্গল হোক; উষ্ণ থাকো এবং পেট ভরে খাও” অথচ তোমরা তার শারীরিক প্রয়োজনগুলো না মেটাও, তা হলে কী লাভ? ১৭ বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য। যদি কাজের মাধ্যমে দেখানো না হয়, তা হলে সেই বিশ্বাস মৃত।
১৮ তা সত্ত্বেও, কেউ হয়তো বলতে পারে: “তোমার বিশ্বাস রয়েছে আর আমার কাজ রয়েছে। বেশ, তাহলে তুমি কাজ ছাড়া তোমার বিশ্বাস আমাকে দেখাও আর আমি আমার কাজের মাধ্যমে আমার বিশ্বাস তোমাকে দেখাব।” ১৯ তুমি বিশ্বাস কর, ঈশ্বর এক জনই, তাই না? বেশ ভালো। এমনকী মন্দ স্বর্গদূতেরাও তা বিশ্বাস করে এবং ভয়ে কাঁপে। ২০ কিন্তু, হে নির্বোধ, তুমি কি জান না, যদি কাজের মাধ্যমে দেখানো না হয়, তা হলে সেই বিশ্বাস নিষ্ফল? ২১ আমাদের পিতা অব্রাহাম যখন নিজের ছেলে ইস্হাককে উৎসর্গ করার জন্য তাকে বেদির উপর রেখেছিলেন, তখন তিনি কি এই কাজের মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণ্য হননি? ২২ অতএব এটা স্পষ্ট যে, তার বিশ্বাস তার কাজের মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল আর তার কাজের মাধ্যমেই তার বিশ্বাস পূর্ণ হয়েছিল। ২৩ এর ফলে, শাস্ত্রের এই কথা পরিপূর্ণ হল: “অব্রাহাম যিহোবার* উপর বিশ্বাস করলেন আর এই কারণে তাকে ধার্মিক বলে গণ্য করা হল” এবং তাকে যিহোবার* বন্ধু বলা হল।
২৪ তাহলে, তোমরা দেখতে পাচ্ছ, একজন ব্যক্তিকে কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে কাজের মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণ্য করা হবে। ২৫ একইভাবে, বেশ্যা রাহব যখন বার্তাবাহকদের প্রতি আতিথেয়তা দেখিয়েছিল এবং অন্য পথ দিয়ে তাদের পাঠিয়ে দিয়েছিল, তখন সে কি এই কাজের মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণ্য হয়নি? ২৬ সত্যিই, ঠিক যেমন জীবনীশক্তি* ছাড়া দেহ মৃত, তেমনই কাজ ছাড়া বিশ্বাসও মৃত।
৩ হে আমার ভাইয়েরা, তোমাদের মধ্যে অনেকে যেন শিক্ষক না হয়, কারণ তোমরা তো জান, অন্যদের চেয়ে আমাদের বিচার আরও কঠোরভাবে করা হবে। ২ কারণ আমরা সকলে বিভিন্ন সময় ভুল করে থাকি।* কেউ যদি কথায় ভুল না করে,* তা হলে সে একজন সিদ্ধ ব্যক্তি আর সে নিজের পুরো শরীরকেও বশে রাখতে* সক্ষম। ৩ ঘোড়াকে বশে রাখার জন্য আমরা যখন ঘোড়ার মুখে লাগাম দিই, তখন আমরা এর পুরো শরীরকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। ৪ আবার জাহাজের কথা চিন্তা কর: যদিও সেটা বিশাল আকারের হয় আর প্রচণ্ড বাতাসের দ্বারা চালিত হয়, তবুও খুবই ছোটো একটা হাল দিয়ে নাবিক তার ইচ্ছামতো সেটাকে এদিক-ওদিক নিয়ে যায়।
৫ তেমনই জিভও শরীরের একটা ছোটো অঙ্গ অথচ এটা বড়ো বড়ো কথা বলে। আবার আগুনের একটা ছোটো ফুলকি কীভাবে বিরাট একটা বনকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়! ৬ জিভও ঠিক আগুনের মতো। আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জিভ যেন মন্দতারই এক জগৎ, কারণ এটা পুরো দেহকে কলুষিত করে এবং একজন ব্যক্তির পুরো জীবনধারায় আগুন ধরিয়ে দেয় আর গিহেন্নার* আগুন দিয়েই এই আগুন ধরানো হয়। ৭ সমস্ত ধরনের বন্যপশু, পাখি, সরীসৃপ এবং সামুদ্রিক প্রাণীকে বশে আনা যায় আর মানুষ তাদের বশে নিয়েও এসেছে। ৮ কিন্তু, কোনো মানুষই জিভকে বশে আনতে পারে না। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না আর এটা ক্ষতিকর এবং এটা মারাত্মক বিষে পূর্ণ। ৯ জিভ দিয়েই আমরা আমাদের পিতা যিহোবার* প্রশংসা করি, আবার এই জিভ দিয়েই আমরা সেই মানুষদের অভিশাপ দিই, যাদের “ঈশ্বরের মতো করে” সৃষ্টি করা হয়েছে। ১০ একই মুখ থেকে প্রশংসা ও অভিশাপ বের হয়ে আসে।
হে আমার ভাইয়েরা, এমনটা হওয়া ঠিক নয়। ১১ একই জলের উৎস থেকে কি মিষ্টি ও তেতো, দু-রকম জল বের হতে পারে? ১২ হে আমার ভাইয়েরা, ডুমুর গাছে কি জলপাই ধরতে পারে কিংবা আঙুর গাছে কি ডুমুর ধরতে পারে? না। একইভাবে, নোনা জলের উৎস থেকেও মিষ্টি জল পাওয়া যায় না।
১৩ তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান? যদি থাকে, তা হলে সে তার উত্তম আচরণের মাধ্যমে তা দেখাক এবং প্রকৃত প্রজ্ঞা থেকে আসা মৃদুতা সহকারে সমস্ত কিছু করুক। ১৪ কিন্তু, তোমাদের হৃদয়ে যদি প্রচণ্ড ঈর্ষা এবং ঝগড়াটে মনোভাব* থাকে, তা হলে তোমরা নিজেদের প্রজ্ঞা নিয়ে অহংকার কোরো না এবং সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বোলো না। ১৫ এই প্রজ্ঞা স্বর্গ থেকে আসে না, বরং এই জগৎ থেকে আসে অর্থাৎ যারা মাংসের এবং মন্দ স্বর্গদূতদের বশে চলে, তাদের কাছ থেকে আসে। ১৬ কারণ যেখানে ঈর্ষা এবং ঝগড়াটে মনোভাব* থাকে, সেখানে বিশৃঙ্খলা এবং সব ধরনের মন্দতাও থাকে।
১৭ কিন্তু, যে-প্রজ্ঞা স্বর্গ থেকে আসে, তা সবচেয়ে প্রথমে শুদ্ধ, পরে শান্তিপ্রবণ, যুক্তিবাদী,* বাধ্য হতে প্রস্তুত, করুণা এবং উত্তম ফলে পূর্ণ, পক্ষপাতহীন এবং নিষ্কপট। ১৮ যারা অন্যদের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা শান্তি স্থাপন করে আর এর ফলে তারা ধার্মিক কাজ করে।
৪ তোমাদের মধ্যে বিবাদ ও ঝগড়া কোথা থেকে উৎপন্ন হয়? সেইসমস্ত মাংসিক আকাঙ্ক্ষা থেকেই কি নয়, যেগুলো তোমাদের দেহকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তোমাদের সঙ্গে লড়াই করে থাকে? ২ তোমরা কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কর, কিন্তু তা পাও না। তোমরা ঘৃণা* কর এবং লোভ কর, তবুও যা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কর, তা লাভ করতে পার না। তোমরা ঝগড়া কর এবং বিবাদ কর। তোমরা যা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কর, তা পাও না, কারণ তোমরা ঈশ্বরের কাছে চাও না। ৩ আর যখন তোমরা চাও, তখন তিনি দেন না, কারণ তোমরা মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে তা চাও, যাতে তোমরা তোমাদের মাংসিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য তা ব্যবহার করতে পার।
৪ হে ব্যভিচারীরা,* তোমরা কি জান না, জগতের বন্ধু হওয়া মানে ঈশ্বরের শত্রু হওয়া? সুতরাং, যে-কেউ জগতের বন্ধু হতে চায়, সে নিজেকে ঈশ্বরের শত্রু করে তোলে। ৫ তোমরা কী মনে কর, শাস্ত্র কি বৃথাই এই কথা বলে: “আমাদের মধ্যে ঈর্ষার মনোভাব রয়েছে বলে আমরা ক্রমাগত সমস্ত কিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা করি”? ৬ কিন্তু, আমাদের প্রতি ঈশ্বরের মহাদয়া রয়েছে বলে আমরা সেই ঈর্ষার মনোভাব দমন করতে পারি। তাই, শাস্ত্র বলে: “ঈশ্বর উদ্ধত লোকদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু তিনি নম্র লোকদের প্রতি মহাদয়া দেখান।”
৭ অতএব, তোমরা ঈশ্বরের বশীভূত হও; কিন্তু দিয়াবলের প্রতিরোধ করো, এতে সে তোমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। ৮ ঈশ্বরের নিকটবর্তী হও, তাতে তিনিও তোমাদের নিকটবর্তী হবেন। হে পাপীরা, তোমাদের হাত শুচি করো; হে দ্বিধাগ্রস্ত লোকেরা, তোমাদের হৃদয় বিশুদ্ধ করো। ৯ তোমরা দুঃখ করো, শোক করো এবং রোদন করো। তোমাদের হাসি শোকে পরিণত হোক এবং তোমাদের আনন্দ হতাশায় পরিণত হোক। ১০ যিহোবার* সামনে নিজেদের নত করো আর তিনি তোমাদের উচ্চীকৃত করবেন।
১১ হে ভাইয়েরা, তোমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা বোলো না।* যে-কেউ কোনো ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে কিংবা ভাইয়ের বিচার করে, সে আইনের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং আইনের বিচার করে। আর তুমি যদি আইনের বিচার কর, তা হলে তুমি আইন পালন করছ না, বরং বিচারক হচ্ছ। ১২ কেবল এক জন আইনদাতা ও বিচারক রয়েছেন, যিনি আমাদের রক্ষা করতে পারেন, আবার ধ্বংসও করতে পারেন। কিন্তু, তুমি কে যে, তোমার প্রতিবেশীর বিচার কর?
১৩ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: “আজ বা আগামীকাল আমরা অমুক নগরে যাব, সেখানে এক বছর থাকব আর ব্যাবসা করে টাকাপয়সা উপার্জন করব।” ১৪ কিন্তু, আগামীকাল তোমাদের প্রতি কী ঘটবে, তা তো তোমরা জান না। কারণ তোমরা ঠিক কুয়াশার মতো, যা কিছুক্ষণের জন্য দেখা যায়, তারপর মিলিয়ে যায়। ১৫ তোমাদের বরং বলা উচিত: “যদি যিহোবার* ইচ্ছা হয়, তা হলে আমরা বেঁচে থাকব এবং এটা করব কিংবা ওটা করব।” ১৬ কিন্তু, তোমরা তো গর্ব কর এবং শুধু নিজেদের নিয়েই বড়াই কর। এই ধরনের বড়াই খুবই মন্দ। ১৭ তাই, যে-কেউ সঠিক কাজ করতে জানে অথচ তা না করে, সে পাপ করে।
৫ হে ধনী লোকেরা, তোমরা শোনো, তোমাদের উপর যে-দুর্দশা আসতে চলেছে, সেটার জন্য তোমরা কাঁদো এবং বিলাপ করো। ২ তোমাদের ধনসম্পদ নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর তোমাদের পোশাক পোকায় খেয়ে ফেলেছে। ৩ তোমাদের সোনা ও রুপোতে মরচে ধরেছে আর সেই মরচে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং তোমাদের গ্রাস করবে। তোমরা আসলে শেষকালের জন্য আগুন সঞ্চয় করে রাখছ। ৪ দেখো! যে-মজুরেরা তোমাদের খেতে শস্য কেটেছে, তোমরা তাদের মজুরি দাওনি বলে তারা কাঁদছে আর সেই ছেদকদের আর্তনাদ স্বর্গীয় বাহিনীর শাসক যিহোবার* কানে পৌঁছেছে। ৫ তোমরা এই পৃথিবীতে বিলাসী জীবনযাপন করেছ এবং নিজেদের লালসা পূরণ করেছ। তোমরা খাওয়া-দাওয়া করে নিজেদের মোটাসোটা করেছ, ঠিক যেমন গবাদি পশু হত হওয়ার দিনের জন্য মোটাসোটা হয়। ৬ যে ঈশ্বরের বাধ্য, তাকে তোমরা দোষী সাব্যস্ত করেছ এবং খুন করেছ। এই কারণেই তিনি তোমাদের প্রতিরোধ করছেন।
৭ অতএব হে ভাইয়েরা, তোমরা প্রভুর উপস্থিতির সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরো। দেখো! একজন কৃষক ভূমির মূল্যবান ফসলের জন্য অপেক্ষা করে আর শুরুর বৃষ্টি এবং শেষের বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে। ৮ তোমরাও তেমনই ধৈর্য ধরো; তোমাদের হৃদয় সুস্থির করো, কারণ প্রভুর উপস্থিতির সময় কাছে এসে গিয়েছে।
৯ ভাইয়েরা, তোমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ কোরো না,* যাতে তোমরা বিচারিত না হও। দেখো! বিচারক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ১০ ভাইয়েরা, যে-ভাববাদীরা যিহোবার* নামে কথা বলেছিলেন, তারা যেভাবে কষ্ট ভোগ করেছিলেন এবং ধৈর্য ধরেছিলেন, সেটা অনুকরণ করো। ১১ দেখো! যারা পরীক্ষার মধ্যেও ধৈর্য ধরে, আমরা তাদের সুখী* বলে গণ্য করি। তোমরা ইয়োবের ধৈর্যের কথা শুনেছ এবং যিহোবা* তাকে যে-সমস্ত আশীর্বাদ করেছিলেন, সেগুলোও জেনেছ। আর তোমরা এভাবে বুঝতে পেরেছ যে, যিহোবা* অত্যন্ত স্নেহময়* ও করুণাময়।
১২ হে আমার ভাইয়েরা, বিশেষ করে মনে রেখো, তোমরা দিব্য কোরো না,* স্বর্গের কি পৃথিবীর কি অন্য কিছুরই দিব্য কোরো না। কিন্তু, তোমাদের “হ্যাঁ” যেন হ্যাঁ হয় এবং “না” যেন না হয়, যাতে তোমরা ঈশ্বরের দ্বারা বিচারিত না হও।
১৩ তোমাদের মধ্যে কেউ কি কষ্ট ভোগ করছে? তা হলে, সে প্রার্থনা করে চলুক। কেউ কি আনন্দে রয়েছে? তা হলে, সে প্রশংসাগান করুক। ১৪ তোমাদের মধ্যে কেউ কি অসুস্থ? তা হলে, সে মণ্ডলীর প্রাচীনদের ডাকুক আর তারা তার জন্য প্রার্থনা করুক এবং যিহোবার* নামে তার মাথায় তেল দিক। ১৫ এতে বিশ্বাস সহকারে করা প্রার্থনা সেই অসুস্থ* ব্যক্তিকে সুস্থ করবে এবং যিহোবা* তাকে সবল করবেন। আর সে যদি পাপ করে থাকে, তা হলে তাকে ক্ষমা করা হবে।
১৬ অতএব, তোমরা একে অন্যের কাছে খোলাখুলিভাবে তোমাদের পাপ স্বীকার করো এবং একে অন্যের জন্য প্রার্থনা করো, যাতে তোমরা সুস্থ হতে পার। একজন ধার্মিক ব্যক্তির বিনতির জোরালো প্রভাব রয়েছে। ১৭ এলিয় আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ ছিলেন আর তিনি যখন আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেছিলেন যেন বৃষ্টি না হয়, তখন সাড়ে তিন বছর ধরে বৃষ্টি হয়নি। ১৮ পরে তিনি আবারও প্রার্থনা করেছিলেন আর আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়েছিল এবং ভূমিতে ফসল উৎপন্ন হয়েছিল।
১৯ হে আমার ভাইয়েরা, কেউ যদি তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে সত্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় আর কোনো ব্যক্তি যদি তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে, ২০ তা হলে জেনে রেখো, যে-ব্যক্তি সেই পাপীকে তার ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে, সে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবে এবং তার অসংখ্য পাপ ঢেকে দেবে।
বা “কারো দোষ না খুঁজে।”
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “গর্ব।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “এবং ফাঁদে ধরা পড়ে।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “নিজের জিভে শক্ত করে লাগাম না দেয়।”
আক্ষ., “নিজের হৃদয়কে।”
বা “ধর্ম।”
আক্ষ., “পা রাখার টুলের।”
বা “দ্বারা তিরস্কৃত।”
মথি ৫:১৭ পদের পাদটীকা দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “স্বাধীনতার আইন।”
আক্ষ., “অথবা বোন উলঙ্গ অবস্থায়।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “শ্বাস।”
বা “সময় হোঁচট খাই।”
বা “কথায় হোঁচট না খায়।”
বা “পুরো শরীরেও লাগাম দিতে।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা সম্ভবত, “এবং স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা।”
বা সম্ভবত, “এবং স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা।”
আক্ষ., “মেনে নিতে ইচ্ছুক, নমনীয়।”
আক্ষ., “খুন।”
এটা ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্ত লোকদের নির্দেশ করে।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “কথা বলা বন্ধ করো।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “বিরুদ্ধে আর্তস্বর কোরো না; বিরুদ্ধে বচসা কোরো না।” আক্ষ., “বিরুদ্ধে দীর্ঘশ্বাস ফেলো না।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “ধন্য।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “সমবেদনাময়।”
বা “দিব্য করা বন্ধ করো।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা সম্ভবত, “ক্লান্ত।”
শব্দকোষ দেখুন।