ইব্রীয়দের প্রতি চিঠি
১ অতীতে ঈশ্বর বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে ভাববাদীদের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ২ কিন্তু, এখন* তিনি পুত্রের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁকে তিনি সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন বিধিব্যবস্থা* রচনা করেছেন। ৩ তিনিই ঈশ্বরের মহিমার প্রতিফলন এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের অবিকল প্রতিচ্ছবি ও সেইসঙ্গে তিনি তাঁর শক্তিশালী বাক্য দ্বারা সমস্ত কিছু টিকিয়ে রেখেছেন। আর তিনি পাপ থেকে আমাদের শুচি করার পর স্বর্গে মহান ঈশ্বরের ডান দিকে বসেছেন। ৪ যেহেতু তিনি স্বর্গদূতদের তুলনায় আরও শ্রেষ্ঠ নাম পেয়েছেন,* তাই তিনি তাদের চেয়েও অনেক মহান।
৫ ঈশ্বর কি কখনো কোনো স্বর্গদূতকে এই কথা বলেছেন: “তুমিই আমার পুত্র; আজ আমি তোমার পিতা হলাম”? কিংবা “আমি তাঁর পিতা হব আর ইনি আমার পুত্র হবেন”? ৬ কিন্তু, তিনি যখন আবার তাঁর প্রথমজাতকে মানবজাতির জগতে পাঠান, তখন বলেন: “ঈশ্বরের সমস্ত স্বর্গদূত তাঁকে প্রণাম করুক।”*
৭ আর তিনি স্বর্গদূতদের সম্বন্ধে বলেন: “তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের বাতাসের মতো শক্তিশালী* করেন এবং তাঁর সেবকদের* অগ্নিশিখার মতো করেন।” ৮ কিন্তু, তিনি পুত্র সম্বন্ধে বলেন: “যুগে যুগে চিরকাল ঈশ্বরই তোমার সিংহাসন এবং তোমার রাজ্যের রাজদণ্ড সরলতারই* রাজদণ্ড। ৯ তুমি ন্যায়কে ভালোবেসেছ এবং মন্দতাকে ঘৃণা করেছ। এই কারণে ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর, তোমাকে তেল দ্বারা অভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাকে তোমার সঙ্গীদের চেয়ে আরও বেশি আনন্দ দান করেছেন।” ১০ আবার: “হে প্রভু, অনেক আগে তুমি পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপন করেছ এবং আকাশমণ্ডল তোমার হাতেরই কাজ। ১১ সেগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু তুমি চিরকাল থাকবে; সেগুলো কাপড়ের মতো জীর্ণ হয়ে যাবে ১২ আর তুমি সেগুলোকে শালের মতো গুটিয়ে রাখবে; সেগুলোকে পোশাকের মতো করে পরিবর্তন করা হবে। কিন্তু, তুমি সবসময় একই থাকবে এবং তোমার আয়ু কখনো শেষ হবে না।”
১৩ তিনি কি কখনো কোনো স্বর্গদূতকে এই কথা বলেছেন: “তুমি আমার ডান দিকে বসো, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পায়ের নীচে পাদপীঠের* মতো রাখি”? ১৪ সমস্ত স্বর্গদূত কি পবিত্র সেবার* জন্য নন? তাদের কি সেই ব্যক্তিদের সেবা করার জন্য পাঠানো হয়নি, যারা পরিত্রাণ লাভ করতে যাচ্ছে?
২ তাই, আমরা যা শুনেছি, সেটার প্রতি আমাদের আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা কখনো ভেসে চলে না যাই। ২ কারণ স্বর্গদূতদের মাধ্যমে বলা বাক্য যদি অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত হয় এবং তা লঙ্ঘন করার ফলে প্রতিটা অপরাধ এবং অবাধ্যতার কাজের জন্য ন্যায়বিচার অনুসারে শাস্তি প্রদান করা হয়, ৩ তা হলে এইরকম মহৎ এক পরিত্রাণ অবহেলা করলে কি আমরা রেহাই পাব? কারণ আমাদের প্রভুই প্রথমে সেই পরিত্রাণ সম্বন্ধে বলেছিলেন এবং যারা তাঁর কাছ থেকে এই বিষয়ে শুনেছিল, তারা আমাদের কাছে এর সত্যতার প্রমাণ দিয়েছে। ৪ আর ঈশ্বরও বিভিন্ন চিহ্ন, আশ্চর্য কাজ এবং অলৌকিক কাজের মাধ্যমে এবং তাঁর ইচ্ছা অনুসারে পবিত্র শক্তি বিতরণ করার মাধ্যমে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৫ কারণ আসন্ন যে-পৃথিবী সম্বন্ধে আমরা বলছি, সেই পৃথিবীকে তিনি স্বর্গদূতদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেননি। ৬ বরং কোনো এক সময়ে একজন সাক্ষি এই কথা লিখেছিলেন: “মানুষ কী যে, তুমি তাকে মনে রাখ অথবা মনুষ্যসন্তানই-বা কী যে, তুমি তার যত্ন নাও? ৭ তুমি স্বর্গদূতদের চেয়ে তাঁকে সামান্য নীচু করেছ; তুমি তাঁকে গৌরব ও সমাদরের মুকুট পরিয়েছ এবং তাঁকে তোমার হাতের কাজের উপর নিযুক্ত করেছ। ৮ তুমি সমস্ত কিছু তাঁর পায়ের নীচে রেখেছ।” যেহেতু ঈশ্বর সমস্ত কিছু তাঁর বশীভূত করেছেন, তাই ঈশ্বর এমন কিছুই বাকি রাখেননি, যা তাঁর বশীভূত নয়। অবশ্য, এখনও আমরা সমস্ত কিছু তাঁর বশীভূত দেখতে পাচ্ছি না। ৯ কিন্তু, যাঁকে স্বর্গদূতদের চেয়ে সামান্য নীচু করা হয়েছিল, সেই যিশুকে এখন আমরা গৌরব ও সমাদরের মুকুটপরা অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, কারণ তিনি মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করেছেন, যাতে ঈশ্বরের মহাদয়ার মাধ্যমে তিনি প্রত্যেকের হয়ে মৃত্যুর স্বাদ নিতে পারেন।
১০ সমস্ত কিছুই ঈশ্বরের গৌরবের জন্য অস্তিত্বে আছে এবং তাঁর মাধ্যমেই অস্তিত্বে এসেছে। তাই, অনেক সন্তানকে গৌরবান্বিত করার জন্য তাদের পরিত্রাণের মুখ্য প্রতিনিধিকে* কষ্টভোগের মাধ্যমে নিখুঁত করে তোলা ঈশ্বরের পক্ষে উপযুক্ত ছিল। ১১ কারণ যিনি পবিত্র করেন এবং যাদের পবিত্র করা হচ্ছে, তারা সকলে একই পিতার কাছ থেকে এসেছে আর তাই তিনি তাদের ভাই বলে ডাকতে লজ্জা বোধ করেন না। ১২ তিনি বলেন: “আমি আমার ভাইদের কাছে তোমার নাম ঘোষণা করব; আমি গানের মাধ্যমে মণ্ডলীর মধ্যে তোমার প্রশংসা করব।” ১৩ তিনি আবার বলেন: “আমি তাঁর উপর নির্ভর করব।” তিনি আবার এও বলেন: “দেখো! আমি এবং সেই সন্তানেরা, যাদের যিহোবা* আমাকে দিয়েছেন।”
১৪ অতএব, সেই “সন্তানেরা” যেহেতু রক্ত-মাংসের মানুষ,* তাই তিনিও রক্ত-মাংসের মানুষ* হলেন, যেন তিনি তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে অর্থাৎ দিয়াবলকে অকার্যকর করতে পারেন, যার কাছে মৃত্যু ঘটানোর শক্তি রয়েছে। ১৫ আর সেইসঙ্গে তিনি যেন এমন সকলকে মুক্ত করতে পারেন, যারা মৃত্যুর ভয়ে সারাজীবন দাসত্বের অধীনে ছিল। ১৬ কারণ তিনি তো স্বর্গদূতদের সাহায্য করছেন না, বরং অব্রাহামের বংশধরকে* সাহায্য করছেন। ১৭ সেইজন্য তাঁকে সমস্ত বিষয়ে তাঁর “ভাইদের” মতো হতে হয়েছিল, যেন তিনি ঈশ্বরের কাজের জন্য একজন করুণাময় ও বিশ্বস্ত মহাযাজক হতে পারেন এবং লোকদের পাপের জন্য এমন এক বলি উৎসর্গ করতে পারেন, যা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে।* ১৮ যেহেতু তিনি নিজেও পরীক্ষিত হয়ে কষ্ট ভোগ করেছিলেন, তাই তিনি সেই ব্যক্তিদের সাহায্য করতে সমর্থ, যারা পরীক্ষিত হচ্ছে।
৩ অতএব, হে পবিত্র ভাইয়েরা, তোমরা যারা স্বর্গে যাওয়ার আহ্বান* লাভ করেছ, তোমরা সেই যিশুর উদাহরণ বিবেচনা করো, যাঁকে আমরা প্রেরিত ও মহাযাজক হিসেবে গ্রহণ* করেছি। ২ তাঁকে যিনি নিযুক্ত করেছেন, সেই ঈশ্বরের প্রতি তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন, ঠিক যেমন মোশিও ঈশ্বরের সমস্ত গৃহের মধ্যে বিশ্বস্ত ছিলেন। ৩ তবে, একটা বাড়ির নির্মাণকর্তা যেমন সেই বাড়ির চেয়ে আরও বেশি সমাদর লাভ করেন, তেমনই তিনি* মোশির চেয়ে আরও বেশি গৌরব লাভ করার যোগ্য বলে গণ্য হয়েছেন। ৪ অবশ্য, প্রতিটা বাড়ি কেউ-না-কেউ নির্মাণ করে, কিন্তু যিনি সমস্ত কিছু নির্মাণ করেছেন, তিনি হলেন ঈশ্বর। ৫ আর মোশি ঈশ্বরের সমস্ত গৃহে পরিচারক হিসেবে বিশ্বস্ত ছিলেন, যেন তার সেবা পরবর্তী সময়ে যা-কিছু বলা হবে, সেই সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয়। ৬ কিন্তু, খ্রিস্ট ঈশ্বরের গৃহের দেখাশোনা করার ক্ষেত্রে পুত্র হিসেবে বিশ্বস্ত ছিলেন। আমরাই ঈশ্বরের গৃহ, যদি আমরা শেষ পর্যন্ত নির্দ্বিধায় কথা বলে চলি এবং সেই প্রত্যাশা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখি, যে-প্রত্যাশা নিয়ে আমরা গর্ব করি।
৭ তাই, পবিত্র শক্তির মাধ্যমে যেমন বলা হয়েছিল, “আজ তোমরা যদি আমার রবে মনোযোগ দাও, ৮ তা হলে তোমাদের হৃদয় কঠিন কোরো না। তোমরা সেই সময়ের মতো আচরণ কোরো না, যখন তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার প্রচণ্ড ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল। তারা তো সেই প্রান্তরে আমার পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল, ৯ যেখানে ৪০ বছর ধরে আমার কাজ দেখা সত্ত্বেও তারা আমার পরীক্ষা করেছিল। ১০ এইজন্য আমি এই বংশের প্রতি প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলাম: ‘তারা সবসময় তাদের হৃদয়ে ভ্রান্ত হয় আর তারা আমার পথ বুঝল না।’ ১১ তাই, আমি ক্রুদ্ধ হয়ে এই দিব্য করেছিলাম: ‘তারা আমার বিশ্রামে প্রবেশ করবে না।’”
১২ হে ভাইয়েরা, সাবধান! তোমাদের মধ্যে কেউ যেন কখনো জীবন্ত ঈশ্বরের কাছ থেকে সরে পড়ার মাধ্যমে বিশ্বাসের অভাব রয়েছে এমন মন্দ হৃদয় গড়ে না তোলে; ১৩ বরং যতদিন পর্যন্ত “আজ” বলা যায়, সেই প্রত্যেক দিন তোমরা একে অন্যকে উৎসাহিত করো, যাতে তোমাদের মধ্যে কেউই পাপের মায়াশক্তি* দ্বারা নিজেদের হৃদয়কে কঠিন করে না তোলে। ১৪ কারণ প্রথমে আমাদের যে-আস্থা ছিল, তা যদি আমরা শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধরে রাখি, একমাত্র তা হলেই আমরা খ্রিস্টের মতো একই বিষয় লাভ করতে* পারব। ১৫ যেমন বলা হয়েছিল, “আজ তোমরা যদি আমার রবে মনোযোগ দাও, তা হলে তোমাদের হৃদয় কঠিন কোরো না। তোমরা সেই সময়ের মতো আচরণ কোরো না, যখন তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার প্রচণ্ড ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল।”
১৬ কারণ কারাই-বা ঈশ্বরের রব শোনার পরও তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল? তারাই কি নয়, যারা মোশির নেতৃত্বাধীনে মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল? ১৭ আর কাদের প্রতিই-বা ঈশ্বর ৪০ বছর ধরে প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন? তাদের প্রতিই কি নয়, যারা পাপ করেছিল এবং যাদের মৃতদেহ প্রান্তরে পড়ে ছিল? ১৮ আর কাদের সম্বন্ধেই-বা তিনি এই দিব্য করেছিলেন যে, তারা তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করবে না? তাদের সম্বন্ধেই কি নয়, যারা অবাধ্য হয়েছিল? ১৯ অতএব, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বাসের অভাব থাকায় তারা তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করতে পারেনি।
৪ অতএব, তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করার প্রতিজ্ঞা যেহেতু এখনও রয়েছে, তাই এসো আমরা সতর্ক* থাকি, যেন আমাদের মধ্যে কেউই সেই প্রতিজ্ঞা থেকে বঞ্চিত না হই। ২ কারণ আমাদের কাছেও সুসমাচার ঘোষণা করা হয়েছে, যেমনটা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে করা হয়েছিল; কিন্তু তারা যে-বাক্য শুনেছিল, সেটা থেকে কোনো উপকার লাভ করেনি, কারণ যারা সেই বাক্যে মনোযোগ দিয়েছিল, সেই ব্যক্তিদের মতো তাদের একই বিশ্বাস ছিল না। ৩ কারণ আমরা যারা বিশ্বাস দেখিয়ে চলি, আমরা অবশ্যই তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করব, যেমনটা তিনি বলেছেন: “তাই, আমি ক্রুদ্ধ হয়ে এই দিব্য করলাম: ‘তারা আমার বিশ্রামে প্রবেশ করবে না,’” যদিও মানবজাতির শুরুর* আগেই তাঁর কাজ সমাপ্ত হয়েছিল। ৪ কারণ শাস্ত্রের এক জায়গায় তিনি সপ্তম দিন সম্বন্ধে এইরকম বলেছিলেন: “আর ঈশ্বর সপ্তম দিনে নিজের সমস্ত কাজ থেকে বিশ্রাম নিলেন” ৫ এবং আবার তিনি আরেক জায়গায় বলেন: “তারা আমার বিশ্রামে প্রবেশ করবে না।”
৬ যাদের কাছে প্রথম সুসমাচার ঘোষণা করা হয়েছিল, তারা অবাধ্যতার কারণে এই বিশ্রামে প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু, কারো কারো জন্য এই বিশ্রামে প্রবেশ করা এখনও সম্ভব। ৭ এই কারণে বহু দিন পর দায়ূদের একটা গীতে তিনি এই কথা বলে নির্দিষ্ট একটা দিনকে আবার চিহ্নিত করেছিলেন, “আজ”; যেমনটা এই চিঠিতে ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, “আজ তোমরা যদি আমার রবে মনোযোগ দাও, তা হলে তোমাদের হৃদয় কঠিন কোরো না।” ৮ কারণ যিহোশূয় যদি তাদের সেই বিশ্রামের স্থানে নিয়ে যেতেন, তা হলে পরবর্তী সময়ে ঈশ্বর অন্য একটা দিন সম্বন্ধে বলতেন না। ৯ অতএব, ঈশ্বরের লোকদের জন্য বিশ্রামবারের* মতো এক বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। ১০ কারণ যে-ব্যক্তি ঈশ্বরের বিশ্রামে প্রবেশ করেছে, সে নিজের কাজ থেকেও বিশ্রাম নিয়েছে, যেমনটা ঈশ্বর তাঁর নিজের কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন।
১১ তাই এসো, আমরা সেই বিশ্রামে প্রবেশ করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য করি, যাতে কেউই সেই একই অবাধ্যতার উদাহরণ অনুসরণ না করি। ১২ কারণ ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত এবং অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এবং দু-দিকেই ধার রয়েছে এমন খড়্গের চেয়েও অত্যন্ত ধারালো; এটি একজন ব্যক্তির একেবারে ভিতরে প্রবেশ করে সেই ব্যক্তির ভিতরের ও বাইরের অবস্থা প্রকাশ করে; এটি একজন ব্যক্তির গ্রন্থি ও মজ্জা ভেদ করেও একেবারে ভিতরে প্রবেশ করে; আর সেইসঙ্গে এটি হৃদয়ের চিন্তা ও প্রবণতা বুঝতে সমর্থ। ১৩ আর তাঁর দৃষ্টি থেকে কোনো সৃষ্টিই লুকোনো নয়, বরং সমস্ত কিছুই খোলা রয়েছে এবং তিনি সমস্ত কিছুই দেখতে পান, যাঁর কাছে আমাদের নিকাশ দিতে হবে।
১৪ অতএব, আমরা যেহেতু এমন এক মহান মহাযাজককে অর্থাৎ ঈশ্বরের পুত্র যিশুকে পেয়েছি, যিনি স্বর্গে প্রবেশ করেছেন, তাই এসো, আমরা তাঁর সম্বন্ধে জনসমক্ষে ঘোষণা করে চলি। ১৫ কারণ আমরা এমন মহাযাজককে পাইনি, যিনি আমাদের দুর্বলতা বুঝতে* পারেন না, বরং আমরা এমন মহাযাজককে পেয়েছি, যিনি সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের মতো পরীক্ষিত হয়েছেন, কিন্তু কোনো পাপ করেননি। ১৬ তাই এসো, আমরা নির্ভয়ে মহাদয়ার সিংহাসনের কাছে এগিয়ে যাই, যাতে আমাদের যখন সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন আমরা করুণা ও মহাদয়া লাভ করতে পারি।
৫ কারণ মানুষের মধ্য থেকে নেওয়া প্রত্যেক মহাযাজককে লোকদের হয়ে ঈশ্বরের কাজ করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, যাতে তিনি উপহার ও সেইসঙ্গে তাদের পাপের জন্য বলি উৎসর্গ করতে পারেন। ২ যারা না জেনে পাপ করে, তাদের সঙ্গে তিনি সমবেদনা সহকারে* আচরণ করতে সমর্থ, কারণ তার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে ৩ আর এই কারণে তাকে নিজের পাপের জন্যও বলি উৎসর্গ করতে হয়, যেমনটা তিনি লোকদের পাপের জন্য করে থাকেন।
৪ একজন ব্যক্তি নিজে নিজে এই সমাদর লাভ করতে পারে না, বরং এই সমাদর সে তখনই লাভ করে, যখন ঈশ্বর তাকে আহ্বান করেন, যেমনটা তিনি হারোণকে করেছিলেন। ৫ তেমনই খ্রিস্টও নিজে নিজে মহাযাজক হওয়ার মাধ্যমে নিজেকে গৌরবান্বিত করেননি, বরং সেই ঈশ্বরই তাঁকে গৌরবান্বিত করেছেন, যিনি তাঁকে এই কথা বলেছেন: “তুমিই আমার পুত্র; আজ আমি তোমার পিতা হলাম।” ৬ আবার আরেকটা জায়গায় তিনি বলেছেন: “তুমি চিরকালের জন্য মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী একজন যাজক।”
৭ পৃথিবীতে থাকাকালীন খ্রিস্ট প্রচণ্ড আর্তনাদ এবং চোখের জল সহকারে সেই ঈশ্বরের কাছে বিনতি ও অনুরোধ করেছিলেন, যিনি তাঁকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে সমর্থ ছিলেন। আর ঈশ্বরের প্রতি যেহেতু তাঁর ভয় ছিল, তাই তাঁর প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হয়েছিল। ৮ ঈশ্বরের পুত্র হওয়া সত্ত্বেও, তিনি বিভিন্ন কষ্টভোগের মাধ্যমে বাধ্যতা শিখেছিলেন। ৯ আর এভাবে বাধ্যতার ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার পর, তিনি সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য অনন্তকালীন পরিত্রাণ নিয়ে আসার দায়িত্ব পেয়েছেন, যারা তাঁর প্রতি বাধ্যতা দেখায়, ১০ কারণ ঈশ্বর তাঁকে একজন মহাযাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তিনি মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী যাজক হয়েছেন।
১১ তাঁর বিষয়ে আমাদের অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু তা বুঝিয়ে বলা কঠিন, কারণ তোমরা শোনার ক্ষেত্রে ধীর হয়ে পড়েছ। ১২ এতদিনে যদিও তোমাদের শিক্ষক হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, ঈশ্বরের বাক্য থেকে তোমরা প্রথম যে-বিষয়গুলো শিখেছিলে, সেগুলো আবারও শেখানোর জন্য তোমাদেরই কিনা একজন শিক্ষকের প্রয়োজন আর তোমরা এমন ব্যক্তির মতো হয়ে পড়েছ, যার দুধের প্রয়োজন, শক্ত খাবার নয়। ১৩ কারণ যে-কেউ কেবল দুধ পান করে চলে, সে তো ঈশ্বরের সেই বাক্যের সঙ্গে পরিচিত নয়, যা আমাদের সঠিক কাজ করার জন্য শিক্ষা দেয়, কারণ সে শিশু। ১৪ কিন্তু, শক্ত খাবার সেই পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য, যারা তাদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে ক্রমাগত ব্যবহার করার মাধ্যমে, সেই ক্ষমতাকে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত করেছে।
৬ অতএব এসো, খ্রিস্ট সম্বন্ধে প্রথমে আমরা যে-বিষয়গুলো শিখেছি, সেগুলো ছাড়িয়ে পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণপণ প্রচেষ্টা করি। আবারও আমরা সেই মৌলিক শিক্ষাগুলোর দিকে ফিরে না যাই* যেমন, নিষ্ফল* কাজকর্ম থেকে অনুতাপ এবং ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস, ২ বিভিন্ন বাপ্তিস্মের বিষয়ে শিক্ষা এবং হাত রাখা, মৃতদের পুনরুত্থান* এবং অনন্তবিচার। ৩ আর ঈশ্বর যদি চান, তা হলে আমরা পরিপক্বতার দিকে এগিয়েও যাব।
৪ যারা একবার ঈশ্বরের দ্বারা আলোকিত হয়েছে, স্বর্গীয় দানের স্বাদ গ্রহণ করেছে, পবিত্র শক্তি লাভ করেছে, ৫ ঈশ্বরের উত্তম বাক্য গ্রহণ করেছে এবং আসন্ন বিধিব্যবস্থায়* যে-আশীর্বাদগুলো* আসতে যাচ্ছে, সেগুলো দেখেছে, ৬ অথচ বিশ্বাস থেকে সরে পড়েছে, তাদের আবার অনুতপ্ত হওয়ার জন্য পরিচালিত করা অসম্ভব, কারণ তারা নিজেরাই ঈশ্বরের পুত্রকে পুনরায় বিদ্ধ করেছে এবং সকলের সামনে তাঁকে লজ্জায় ফেলেছে। ৭ কারণ যে-ভূমি বার বার পতিত বৃষ্টির জল শুষে নেয় আর এরপর কৃষকদের জন্য উপযোগী ফসল উৎপন্ন করে, সেটা ঈশ্বরের কাছ থেকে আশীর্বাদ লাভ করে। ৮ কিন্তু, যদি সেই ভূমি কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাঁটা উৎপন্ন করে, তা হলে সেটা পরিত্যক্ত। শীঘ্রই ঈশ্বর সেই ভূমিকে অভিশাপ দেবেন এবং পরিশেষে সেটাকে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।
৯ কিন্তু, হে প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যদিও আমরা এই ধরনের কথা বলছি, তবে আমরা নিশ্চিত যে, তোমাদের প্রতি আরও উত্তম উত্তম বিষয় ঘটবে, যেগুলো পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যায়। ১০ কারণ ঈশ্বর অন্যায়কারী নন; তোমরা পবিত্র ব্যক্তিদের যে-সেবা করেছ এবং এখনও করে চলছ আর এভাবে তোমরা যে-কাজ করেছ এবং তাঁর নামের প্রতি যে-প্রেম দেখিয়েছ, তা তিনি ভুলে যাবেন না। ১১ কিন্তু, আমরা চাই, যেন তোমরা প্রত্যেকে সেই একইরকম পরিশ্রমী মনোভাব দেখিয়ে চল। এতে তোমাদের প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত থাকবে। ১২ আর আমরা চাই, যেন তোমরা অলস না হও, বরং সেই ব্যক্তিদের অনুকরণ কর, যারা বিশ্বাস ও ধৈর্যের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞাত বিষয়গুলো লাভ করে।
১৩ ঈশ্বর যখন অব্রাহামের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তখন তিনি নিজের নামেই দিব্য করলেন, কারণ তাঁর চেয়ে মহান এমন কেউ নেই, যাঁর নামে তিনি দিব্য করতে পারেন। ১৪ তিনি বলেছিলেন: “আমি অবশ্যই তোমাকে আশীর্বাদ করব এবং অবশ্যই তোমার বংশ বৃদ্ধি করব।” ১৫ আর অব্রাহাম ধৈর্য দেখিয়েছিলেন বলে তার কাছে এই প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল। ১৬ মানুষ তো নিজের চেয়ে মহান কারো নামে দিব্য করে আর তাদের শপথ যেকোনো বিতর্কের অবসান ঘটায়, কারণ এই শপথ তাদের এক বৈধ নিশ্চয়তা প্রদান করে। ১৭ একইভাবে, ঈশ্বর যখন প্রতিজ্ঞার উত্তরাধিকারীদের আরও স্পষ্টভাবে দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য* কখনো পরিবর্তিত হয় না, তখন তিনি একটা শপথ করার মাধ্যমে এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন,* ১৮ যাতে তাঁর প্রতিজ্ঞা এবং তাঁর শপথের মাধ্যমে, আমরা যারা ঈশ্বরের কাছে আশ্রয় নিয়েছি, আমরা আমাদের প্রত্যাশা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি, যেহেতু আমরা অনেক উৎসাহ লাভ করেছি। তাঁর শপথ ও প্রতিজ্ঞা কখনো পরিবর্তিত হয় না, কারণ তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। ১৯ এই প্রত্যাশা আমাদের জীবনের জন্য এক নোঙরের মতো, যা কোনোরকম সন্দেহ না করে আমাদের দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে। আর এই প্রত্যাশা আমাদের পর্দার ভিতরে নিয়ে যায়, ২০ যেখানে আমাদের অগ্রদূত অর্থাৎ সেই যিশু আমাদের জন্য প্রবেশ করেছেন, যিনি চিরকালের জন্য মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী একজন মহাযাজক হয়েছেন।
৭ অব্রাহাম যখন রাজাদের হত্যা করে ফিরে আসেন, তখন পরমেশ্বরের যাজক এই মল্কীষেদক অর্থাৎ শালেমের রাজা, অব্রাহামের সঙ্গে দেখা করে তাকে আশীর্বাদ করেন। ২ আর অব্রাহাম তাকে সমস্ত কিছুর দশমাংশ* দান করেন।* অনুবাদ করলে তার নামের অর্থ হয়, “ধার্মিক রাজা।” তিনি আবার শালেমেরও রাজা অর্থাৎ “শান্তিরাজ।” ৩ তার বাবা-মা সম্বন্ধে কিছু জানা যায় না আর তার বংশ তালিকা, তিনি কখন জন্মগ্রহণ করেছেন এবং কখন মারা গিয়েছেন, সেই সম্বন্ধেও কোনো বিবরণ নেই। আর তাই তিনি ঈশ্বরের পুত্রের মতো এবং তিনি অনন্তকালের জন্য যাজক।
৪ দেখো, এই ব্যক্তি কেমন মহান ছিলেন যে, কুলপতি অব্রাহাম তাকে লুটদ্রব্য থেকে উত্তম উত্তম জিনিসের দশমাংশ* দান করেছিলেন! ৫ আর লেবির সন্তানদের মধ্যে যাদের যাজক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল, তারা ব্যবস্থা* অনুযায়ী লোকদের অর্থাৎ তাদের ভাইদের কাছ থেকে দশমাংশ* সংগ্রহ করার আদেশ পেয়েছিল, এমনকী যদিও সেই ভাইয়েরা অব্রাহামের বংশধর ছিল। ৬ কিন্তু, এই মল্কীষেদক লেবির বংশধর না হওয়া সত্ত্বেও অব্রাহামের কাছ থেকে দশমাংশ* গ্রহণ করেছিলেন আর এই অব্রাহামকেই তিনি আশীর্বাদ করেছিলেন, যার কাছে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল। ৭ এই কথা অস্বীকার করা যায় না, ক্ষুদ্রতর ব্যক্তি মহত্তর ব্যক্তির কাছ থেকেই আশীর্বাদ লাভ করেন। ৮ একদিকে মরণশীল লোকেরা দশমাংশ* গ্রহণ করে, কিন্তু অন্যদিকে যিনি জীবিত আছেন বলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তিনি গ্রহণ করেন। ৯ আবার এও বলা যেতে পারে, যিনি দশমাংশ* গ্রহণ করেন, সেই লেবি নিজেও অব্রাহামের মাধ্যমে দশমাংশ* দিয়েছেন। ১০ কারণ মল্কীষেদক যখন অব্রাহামের সঙ্গে দেখা করেন, লেবি তখনও তার পূর্বপুরুষ অব্রাহামের ভাবী বংশধর হিসেবে জন্মগ্রহণ করেননি।
১১ অতএব, যদি লেবীয় যাজকপদের দ্বারা পূর্ণতা লাভ করা যেত (কারণ লেবীয় যাজকপদ তো সেই ব্যবস্থারই একটা বৈশিষ্ট্য, যা লোকদের দেওয়া হয়েছিল), তা হলে এমন আরেকজন যাজক উৎপন্ন হওয়ার কি দরকার ছিল, যাকে হারোণের রীতি অনুযায়ী নয়, বরং মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী যাজক বলা হয়ে থাকে? ১২ যেহেতু যাজকপদ পরিবর্তন করা হয়, তাই ব্যবস্থাও পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ১৩ কারণ যাঁর সম্বন্ধে এই কথাগুলো বলা হল, তিনি তো অন্য বংশ থেকে এসেছিলেন; সেই বংশের কেউ তো যাজক হিসেবে কখনো বেদিতে সেবাকাজ করেনি। ১৪ এই বিষয়টা একেবারে স্পষ্ট যে, যিহূদা বংশ থেকেই আমাদের প্রভু এসেছেন। কিন্তু, এই বংশ থেকে যে কেউ যাজক হবে, সেই বিষয়ে মোশি কখনো কিছুই বলেননি।
১৫ আর এটা তখন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন মল্কীষেদকের মতো আরেকজন যাজক উৎপন্ন হন। ১৬ তিনি এজন্য যাজক হননি যে, তিনি সেই বংশ থেকে এসেছেন, যে-বংশ ব্যবস্থার চাহিদা অনুযায়ী যাজক হতে পারত, বরং তিনি সেই শক্তিতে যাজক হয়েছেন, যা তাঁকে অক্ষয় জীবন দান করেছে। ১৭ কারণ তাঁর সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে: “তুমি চিরকালের জন্য মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী একজন যাজক।”
১৮ তাই, পুরোনো আজ্ঞা বাতিল করা হল, যেহেতু সেটা দুর্বল ও অকার্যকর। ১৯ কারণ ব্যবস্থা কিছুই নিখুঁত করেনি, বরং আরও উত্তম এক প্রত্যাশাই তা করেছে, যা ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন; আর এই প্রত্যাশার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের নিকটবর্তী হচ্ছি। ২০ আর এই প্রত্যাশা দিব্য দিয়ে করা এক শপথের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল ২১ (কারণ এমন ব্যক্তিরাও রয়েছে, যারা দিব্য দিয়ে করা কোনো শপথের মাধ্যমে যাজক হয়নি। কিন্তু, এই ব্যক্তি দিব্য দিয়ে করা শপথের মাধ্যমে যাজক হয়েছেন, যাঁর বিষয়ে ঈশ্বর বলেছেন: “আমি যিহোবা,* আমি দিব্য করেছি আর আমার মন পরিবর্তন* করব না, ‘তুমি চিরকালের জন্য যাজক’”), ২২ এভাবে যিশু আরও উত্তম এক চুক্তির জামিনদার হয়েছেন। ২৩ আর একজনের পর একজন অনেকেই যাজক হয়েছে, কারণ মৃত্যু তাদের কাউকে চিরকালের জন্য যাজক হিসেবে সেবা করতে দেয়নি, ২৪ কিন্তু তিনি যেহেতু চিরকাল জীবিত থাকেন, তাই তাঁর যাজকপদের কোনো উত্তরসূরি নেই। ২৫ এইজন্য তিনি সেইসমস্ত ব্যক্তিদের পুরোপুরিভাবে রক্ষা করতেও সমর্থ, যারা তাঁর মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয়, কারণ তাদের হয়ে বিনতি করার জন্য তিনি সবসময় জীবিত আছেন।
২৬ আমাদের জন্য এমন একজন মহাযাজকেরই প্রয়োজন, যিনি অনুগত, নির্দোষ, নিষ্কলঙ্ক এবং পাপীদের থেকে পৃথক আর যাঁকে আকাশমণ্ডল* থেকেও উচ্চীকৃত করা হয়েছে। ২৭ সেই মহাযাজকদের মতো, তাঁকে প্রতিদিন প্রথমে নিজের পাপের জন্য আর এরপর লোকদের পাপের জন্য বলি উৎসর্গ করতে হয় না। কারণ তিনি এক বার, চিরকালের জন্য বলি উৎসর্গ করেছিলেন, যখন তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ২৮ কারণ ব্যবস্থা অনুযায়ী যে-ব্যক্তিদের মহাযাজক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়, তারা পাপী মানুষ, কিন্তু ব্যবস্থার পরে দিব্য দিয়ে করা শপথের বাক্য অনুযায়ী যে-পুত্রকে নিযুক্ত করা হয়, তাঁকে চিরকালের জন্য সিদ্ধ করা হয়েছে।
৮ আমরা যা বলছি, সেটার মূল বিষয় হল: আমাদের এইরকম একজন মহাযাজক আছেন, যিনি স্বর্গে মহান ঈশ্বরের সিংহাসনের ডান দিকে বসেছেন; ২ তিনি মহাপবিত্র স্থানের এবং সেই প্রকৃত তাঁবুর সেবক,* যা কোনো মানুষ নয়, বরং যিহোবা* স্থাপন করেছেন। ৩ কারণ প্রত্যেক মহাযাজককে উপহার ও বলি উৎসর্গ করার জন্য নিযুক্ত করা হয়; তাই এই মহাযাজকেরও কিছু উৎসর্গ করার প্রয়োজন ছিল। ৪ তিনি যদি পৃথিবীতে থাকতেন, তা হলে তিনি যাজক হতেন না, কারণ ব্যবস্থা অনুযায়ী উপহার উৎসর্গ করার জন্য ইতিমধ্যেই অন্যান্য যাজক ছিল। ৫ এই যাজকদের পবিত্র সেবা কেবল স্বর্গীয় বিষয়গুলোর একটা নমুনা ও ছায়া মাত্র; যেমন মোশি যখন তাঁবু নির্মাণ করতে যাচ্ছিলেন, তখন ঈশ্বর তাকে এই আদেশ দিয়েছিলেন: “দেখো, পর্বতের উপরে তোমাকে যে-নমুনা দেখানো হয়েছে, সমস্ত কিছু ঠিক সেভাবেই তৈরি কোরো।” ৬ কিন্তু, এখন যিশু আরও শ্রেষ্ঠ সেবাকাজের* দায়িত্ব পেয়েছেন, কারণ তিনি আরও উত্তম এক চুক্তির মধ্যস্থতাকারীও, যে-চুক্তি আরও উত্তম প্রতিজ্ঞাগুলোর উপর বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত।
৭ আসলে, প্রথম চুক্তি যদি ত্রুটিহীন হতো, তা হলে তো দ্বিতীয় চুক্তির কোনো দরকার হতো না। ৮ তিনি লোকদের মধ্যে ত্রুটি দেখতে পেয়েছিলেন, কারণ: “যিহোবা* বলেন, ‘দেখো! এমন সময় আসছে, যখন আমি ইজরায়েলের ও যিহূদার লোকদের সঙ্গে এক নতুন চুক্তি করব।’ ৯ যিহোবা* আরও বলেন, ‘এই চুক্তি, সেই চুক্তির মতো নয়, যা আমি তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করেছিলাম, যখন আমি মিশর দেশ থেকে তাদের হাত ধরে বের করে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু, তারা যেহেতু আমার চুক্তির অধীনে থাকেনি, তাই আমি তাদের যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম।’
১০ “যিহোবা* বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি ইজরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি করব, আমি তাদের মনের মধ্যে আমার আইনকানুন রাখব এবং আমি তাদের হৃদয়ের মধ্যে সেগুলো লিখব। আর আমি তাদের ঈশ্বর হব এবং তারা আমার লোক হবে।
১১ “‘তাদের মধ্যে কেউই সহনাগরিককে এবং নিজ নিজ ভাইকে এই বলে আর শিক্ষা দেবে না: “যিহোবাকে* জানো!” কারণ ক্ষুদ্র থেকে মহান, সবাই আমাকে জানবে। ১২ কারণ আমি তাদের অন্যায় কাজ ক্ষমা করব এবং তাদের পাপ আর কখনো স্মরণ করব না।’”
১৩ “এক নতুন চুক্তি,” এই কথা বলার মাধ্যমে তিনি আগের চুক্তিকে বাতিল করে দিয়েছেন। আর যা-কিছু বাতিল ও পুরোনো হয়ে যাচ্ছে, তা শীঘ্রই অদৃশ্য হয়ে যাবে।
৯ আগের চুক্তি অনুসারে পবিত্র সেবা প্রদান করার বিষয়ে বিভিন্ন আইন ছিল এবং পৃথিবীতে ঈশ্বরের উপাসনা করার জন্য তাঁবু ছিল। ২ এই তাঁবু দুটো অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথম যে-অংশ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে দীপবৃক্ষ, টেবিল ও দর্শন-রুটি* ছিল; আর সেই অংশকে বলা হতো পবিত্র স্থান। ৩ কিন্তু, দ্বিতীয় পর্দার পিছনে তাঁবুর যে-অংশ ছিল, সেটাকে বলা হতো মহাপবিত্র স্থান। ৪ সেখানে সোনার ধূপদানি এবং পুরোপুরিভাবে সোনা দিয়ে মোড়ানো চুক্তির সিন্দুক ছিল আর সেই সিন্দুকের মধ্যে ছিল সোনার একটা পাত্রে রাখা মান্না, হারোণের মুকুলিত লাঠি এবং চুক্তির দুটো পাথরের ফলক; ৫ সেই সিন্দুকের উপরে মহিমাময় দুটো করূব ছিল, যারা তাদের পাখা দিয়ে আচ্ছাদনের* উপর ছায়া করে রাখত। কিন্তু, এখন এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে কথা বলার সময় নয়।
৬ এইসমস্ত কিছু এভাবে তৈরি হওয়ার পর, যাজকেরা পবিত্র সেবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য নিয়মিতভাবে তাঁবুর প্রথম অংশে প্রবেশ করত; ৭ কিন্তু, বছরে এক বার মহাযাজক একা দ্বিতীয় অংশে প্রবেশ করতেন আর তাকে অবশ্যই রক্ত নিয়ে প্রবেশ করতে হতো, যা তিনি নিজের পাপের জন্য আর সেইসঙ্গে লোকদের অনিচ্ছাকৃত পাপের জন্য ছিটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উৎসর্গ করতেন। ৮ এভাবে পবিত্র শক্তি এটা স্পষ্ট করে দেয় যে, যতদিন প্রথম তাঁবু ছিল, ততদিন মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করার পথ প্রকাশিত হয়নি। ৯ এই তাঁবু বর্তমান সময়ের জন্য এক দৃষ্টান্তস্বরূপ আর এই ব্যবস্থা অনুযায়ী উপহার ও বলি উভয়ই উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু, এগুলো পবিত্র সেবা প্রদান করে থাকেন এমন একজন ব্যক্তির বিবেককে পুরোপুরিভাবে শুচি করতে সমর্থ নয়। ১০ এগুলো কেবল খাদ্য ও পানীয় এবং বিভিন্ন ধরনের রীতিগত শুচিকরণের* সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এগুলো ছিল বাহ্যিক বিষয়গুলোর জন্য আইনগত চাহিদা এবং এগুলো বিভিন্ন বিষয় উত্তম অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য নিরূপিত সময় না আসা পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
১১ কিন্তু, খ্রিস্ট মহাযাজক হয়েছেন এবং আমরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আশীর্বাদ উপভোগ করছি। তিনি যখন মহাযাজক হন, তখন তিনি আরও মহৎ এবং আরও নিখুঁত তাঁবুর মধ্যে প্রবেশ করেন, যেটা মানুষের হাতে তৈরি নয় এবং যেটা এই পৃথিবীর নয়। ১২ তবে, তিনি ছাগের ও বাছুরের রক্ত নিয়ে নয়, বরং নিজের রক্ত নিয়ে এক বার, চিরকালের জন্য মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন এবং অনন্তকালের জন্য আমাদের উদ্ধার* করেন। ১৩ ছাগের ও ষাঁড়ের রক্ত এবং বকনা বাছুরের* পোড়ানো ছাই যদি অশুচি ব্যক্তিদের উপর ছিটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের দেহ পবিত্র ও শুচি করা যায়, ১৪ তা হলে যিনি অনন্ত পবিত্র শক্তির মাধ্যমে নির্দোষ বলি হিসেবে নিজেকে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করেছেন, সেই খ্রিস্টের রক্ত নিষ্ফল* কাজগুলো থেকে আমাদের বিবেককে আরও কতই-না শুচি করবে, যাতে আমরা জীবন্ত ঈশ্বরকে পবিত্র সেবা প্রদান করতে পারি!
১৫ এই কারণে তিনি এক নতুন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হয়েছেন, যেন যে-ব্যক্তিদের আহ্বান করা হয়েছে, তারা অনন্ত উত্তরাধিকারের প্রতিজ্ঞা লাভ করতে পারে। এই সমস্ত কিছুই তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে সম্ভবপর হয়েছে, যে-মৃত্যুর দ্বারা তারা মুক্তির মুল্যের মাধ্যমে আগের চুক্তির অধীনে করা অপরাধ থেকে মুক্ত হয়েছে। ১৬ যখন ঈশ্বরের সঙ্গে একটা চুক্তি করা হয়, তখন সেই ব্যক্তির মৃত্যু হওয়া আবশ্যক, যিনি এই চুক্তি কার্যকর করেন। ১৭ কারণ একটা চুক্তি মৃত্যুর মাধ্যমেই কার্যকর হয়, যেহেতু যিনি চুক্তি করেছেন, তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় সেই চুক্তি কার্যকর হতে পারে না। ১৮ একইভাবে, আগের চুক্তিও রক্ত ছাড়া কার্যকর* করা হয়নি। ১৯ কারণ মোশি সমস্ত লোকের কাছে ব্যবস্থার সমস্ত আজ্ঞা বলার পর, বাছুরের ও ছাগের রক্ত নিয়ে তা জলের সঙ্গে মেশান। এরপর তিনি এসোবের* ডাটায় বাঁধা গাঢ় লাল রঙের মেষলোমের মাধ্যমে সেই রক্ত গোটানো পুস্তকের উপর এবং লোকদের উপর ছিটিয়ে দিয়ে ২০ বলেন: “এই রক্ত সেই চুক্তির রক্ত, যে-চুক্তি অনুযায়ী চলার জন্য ঈশ্বর তোমাদের আজ্ঞা দিয়েছেন।” ২১ একইভাবে তিনি তাঁবু এবং পবিত্র সেবার* জন্য ব্যবহৃত সমস্ত পাত্রের উপর সেই রক্ত ছিটিয়ে দিলেন। ২২ ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রায় সমস্ত কিছুই রক্ত দ্বারা শুচি করা হয় আর রক্ত ঢেলে দেওয়া না হলে পাপের ক্ষমা লাভ করা যায় না।
২৩ অতএব, যে-সমস্ত বিষয় স্বর্গীয় বিষয়গুলোর নমুনা মাত্র, সেগুলো এভাবে শুচি করতে হতো, কিন্তু স্বর্গীয় বিষয়গুলোর জন্য আরও উত্তম বলিদানের প্রয়োজন। ২৪ কারণ খ্রিস্ট মানুষের হাতে তৈরি মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করেননি, যা কিনা প্রকৃত পবিত্র স্থানের প্রতিরূপ মাত্র। বরং তিনি স্বর্গে প্রবেশ করেছেন, যাতে তিনি এখন আমাদের হয়ে ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হতে পারেন। ২৫ আর মহাযাজক যেমন প্রতি বছর পশুর রক্ত নিয়ে মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করতেন, তেমনই খ্রিস্ট যে নিজেকে বার বার উৎসর্গ করবেন, এমন নয়। ২৬ যদি তা-ই করতে হতো, তা হলে মানবজাতির শুরু* থেকে তাঁকে বার বার কষ্ট ভোগ করতে হতো। কিন্তু, এখন বিভিন্ন বিধিব্যবস্থার* শেষ সময়ে তিনি এক বার, চিরকালের জন্য প্রকাশিত হয়েছেন, যেন নিজেকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে পাপ দূর করেন। ২৭ আর মানুষের জন্য যেমন এক বারই মৃত্যু অপেক্ষা করছে এবং এর পরে বিচার রয়েছে, ২৮ তেমনই খ্রিস্টও অনেকের পাপ বহন করার জন্য এক বার, চিরকালের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন; আর তিনি যখন দ্বিতীয় বার প্রকাশিত হবেন, তখন তিনি পাপ দূর করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রকাশিত হবেন, যারা পরিত্রাণের জন্য আন্তরিকভাবে তাঁর অপেক্ষায় রয়েছে।
১০ ব্যবস্থা আসন্ন ভালো বিষয়গুলোর ছায়া মাত্র, সেগুলোর প্রকৃত রূপ নয়। তাই, যারা ঈশ্বরের উপাসনা করে, প্রতি বছর ক্রমাগত একই বলি উৎসর্গের দ্বারা ব্যবস্থা* কখনো তাদের নিখুঁত করতে পারেনি। ২ যদি পারত, তা হলে বলি উৎসর্গ করা কি বন্ধ হয়ে যেত না? কারণ যারা পবিত্র সেবা প্রদান করে, তারা যদি একবার শুচি হয়েই যায়, তা হলে তো তাদের আর নিজেদের পাপের জন্য দোষী মনে করার কথা নয়। ৩ কিন্তু, এই বলিদানগুলো প্রতি বছর লোকদের মনে করিয়ে দেয় যে, তারা পাপী। ৪ কারণ ষাঁড় ও ছাগের রক্ত কখনোই পাপ দূর করতে পারে না।
৫ তাই, খ্রিস্ট যখন জগতে আসেন, তখন তিনি ঈশ্বরকে বলেন: “‘তুমি পশুবলি এবং অন্যান্য বলি চাওনি, কিন্তু তুমি আমার জন্য এক দেহ প্রস্তুত করেছ। ৬ তুমি হোমবলিতে এবং পাপের জন্য দেওয়া বলিতে সন্তুষ্ট হওনি।’ ৭ এরপর আমি বললাম: ‘দেখো! আমি এসেছি। গোটানো পুস্তকে আমার সম্বন্ধে লেখা আছে। হে ঈশ্বর, আমি তোমার ইচ্ছা পালন করার জন্য এসেছি।’” ৮ প্রথমে তিনি বলেন: “তুমি পশুবলি, অন্যান্য বলি, হোমবলি এবং পাপের জন্য দেওয়া বলি চাওনি কিংবা সেগুলোতে সন্তুষ্টও হওনি।” এইসমস্ত বলি ব্যবস্থা অনুযায়ী উৎসর্গ করা হয়। ৯ এরপর তিনি বলেন: “দেখো! আমি তোমার ইচ্ছা পালন করার জন্য এসেছি।” এভাবে তিনি প্রথম বিষয় বাতিল করে দেন, যেন দ্বিতীয় বিষয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১০ এই “ইচ্ছা” অনুসারে, যিশু খ্রিস্টের দেহ এক বার, চিরকালের জন্য উৎসর্গ করার মাধ্যমে আমরা পবিত্র হয়েছি।
১১ আর প্রত্যেক যাজক প্রতিদিন নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে পবিত্র সেবা* প্রদান করে এবং বার বার একই বলি উৎসর্গ করে, যদিও এই ধরনের বলি কখনো পুরোপুরিভাবে পাপ দূর করতে পারে না। ১২ কিন্তু, খ্রিস্ট পাপের জন্য চিরকালের মতো কেবল একটা বলি উৎসর্গ করেছেন এবং ঈশ্বরের ডান দিকে বসেছেন। ১৩ আর তিনি সেই সময় থেকে অপেক্ষা করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর শত্রুদের তাঁর পায়ের নীচে পাদপীঠের* মতো রাখা হয়। ১৪ কারণ তিনি কেবল একটা বলি উৎসর্গ করার মাধ্যমে সেই ব্যক্তিদের চিরকালের জন্য নিখুঁত করেছেন, যাদের পবিত্র করা হয়েছে। ১৫ আর পবিত্র শক্তিও এই বিষয়ে প্রথমে এই বলে আমাদের কাছে সাক্ষ্য দেয়: ১৬ “যিহোবা* বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি তাদের সঙ্গে এই চুক্তি করব, আমি তাদের হৃদয়ের মধ্যে আমার আইনকানুন রাখব এবং আমি তাদের মনের মধ্যে সেগুলো লিখব।’” ১৭ এরপর পবিত্র শক্তি বলে: “আর তাদের পাপ ও সেইসঙ্গে তাদের মন্দ কাজ কখনো স্মরণ করব না।” ১৮ তাই, ঈশ্বর যদি এই সমস্ত পাপের ক্ষমা করেই থাকেন, তা হলে তো পাপের জন্য আর বলি উৎসর্গ করার প্রয়োজন নেই।
১৯ অতএব, হে ভাইয়েরা, আমরা যেহেতু যিশুর রক্তের মাধ্যমে মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করার সেই পথে চলার জন্য সাহস* লাভ করেছি, ২০ যে-পথ তিনি পর্দার অর্থাৎ তাঁর দেহের মধ্য দিয়ে আমাদের জন্য এক নতুন ও জীবন্ত পথ হিসেবে খুলে দিয়েছেন ২১ আর যেহেতু ঈশ্বরের গৃহ দেখাশোনা করার জন্য আমাদের একজন মহান যাজক রয়েছেন, ২২ তাই এসো, আমরা আন্তরিক হৃদয়ে এবং পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হই, কারণ আমাদের হৃদয়কে রক্ত ছিটানোর মাধ্যমে মন্দ বিবেকের হাত থেকে শুচি করা হয়েছে এবং আমাদের দেহকে বিশুদ্ধ জল দিয়ে ধোয়া হয়েছে। ২৩ এসো, আমরা অটল থেকে আমাদের প্রত্যাশা সম্বন্ধে জনসমক্ষে ঘোষণা করে চলি, কারণ যিনি সেই প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি বিশ্বস্ত। ২৪ আর এসো, আমরা একে অন্যের প্রতি মনোযোগ দিই,* যাতে প্রেম দেখানোর এবং উত্তম কাজ করার ব্যাপারে পরস্পরকে উদ্দীপিত* করতে পারি ২৫ আর সেইসঙ্গে সভায় একত্রে মিলিত হওয়া বাদ না দিই, যেমনটা কারো কারো অভ্যাস, বরং একে অন্যকে উৎসাহিত করি; আর ঈশ্বরের দিন যেহেতু এগিয়ে আসছে, তাই এসো, আমরা এই বিষয়গুলো আরও বেশি করে চলি।
২৬ কারণ সত্যের সঠিক জ্ঞান লাভ করার পর, আমরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে চলি, তা হলে পাপের জন্য উৎসর্গ করার মতো আর কোনো বলি বাকি থাকে না, ২৭ শুধু থাকে বিচারের ভয়ংকর প্রতীক্ষা এবং বিরোধীদের গ্রাস করার জন্য প্রচণ্ড ক্রোধের আগুন। ২৮ কেউ যদি মোশির ব্যবস্থা অমান্য করে, তা হলে দু-জন কিংবা তিন জন ব্যক্তির সাক্ষ্যের ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তার প্রতি কোনো সমবেদনা দেখানো হয় না। ২৯ তা হলে, চিন্তা করে দেখ, যে-ব্যক্তি ঈশ্বরের পুত্রকে পদদলিত করেছে, চুক্তির যে-রক্তের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করা হয়েছে, সেই রক্তকে সামান্য বিষয় বলে গণ্য করেছে এবং যে-শক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের মহাদয়া প্রকাশ করা হয়েছে, ঈশ্বরের সেই শক্তির অপমান করেছে, সেই ব্যক্তি আরও কত বেশি শাস্তির যোগ্য! ৩০ কারণ আমরা সেই ব্যক্তিকে জানি, যিনি এই কথা বলেছেন: “প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ; আমিই প্রতিফল দেব।” এ ছাড়া, তাঁর লিখিত বাক্য জানায়: “যিহোবা* তাঁর লোকদের বিচার করবেন।” ৩১ জীবন্ত ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তি লাভ করা কী ভয়ানক বিষয়!
৩২ কিন্তু, তোমরা আগের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করো, যখন আলোকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তোমরা প্রাণপণ লড়াই করার পাশাপাশি অনেক কষ্ট সহ্য করেছিলে। ৩৩ কখনো কখনো তোমরা সকলের সামনে, এমন যেন রঙ্গভূমিতে অপমানিত হয়েছিলে এবং ক্লেশ ভোগ করেছিলে, আবার কখনো কখনো তোমরা সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে কষ্ট সহ্য করেছিলে,* যারা এই ধরনের পরীক্ষা ভোগ করেছিল। ৩৪ আর তোমরা কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলে এবং তোমাদের বিষয়সম্পত্তি লুট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তোমরা তা আনন্দের সঙ্গে মেনে নিয়েছিলে, কারণ তোমরা জানতে যে, তোমাদের জন্য আরও উত্তম ও স্থায়ী সম্পদ রয়েছে।
৩৫ অতএব, তোমরা তোমাদের সাহস পরিত্যাগ* কোরো না, কারণ এরজন্য তোমরা প্রচুররূপে পুরস্কৃত হবে। ৩৬ তোমাদের ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার পরে তোমরা সেই বিষয় লাভ করতে পার, যা তিনি দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন। ৩৭ কারণ আর “অল্পসময় মাত্র” এবং “যিনি আসছেন, তিনি উপস্থিত হবেন, দেরি করবেন না।” ৩৮ “কিন্তু, আমার ধার্মিক দাস বিশ্বাসের কারণে বেঁচে থাকবে” আর “সে যদি সরে পড়ে, তা হলে আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হব না।” ৩৯ আমরা সরে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো লোক নই, বরং আমরা সেই লোক, যাদের বিশ্বাস রয়েছে, যেন আমাদের জীবন রক্ষা পায়।
১১ বিশ্বাসের অর্থ হল, যা প্রত্যাশা করা হয়, তা যে ঘটবেই, সেই বিষয়ে দৃঢ়নিশ্চয়তা এবং বাস্তবে যা দেখা যায় না, সেটার স্পষ্ট প্রমাণ। ২ এই বিশ্বাসের কারণেই অতীতের লোকদের* সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল।
৩ বিশ্বাসের কারণেই আমরা এই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারি যে, ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে বিভিন্ন বিধিব্যবস্থা* রচিত হয়েছে আর আমরা যে-বিষয়গুলো দেখতে পাই, সেগুলো এমন বিষয়গুলো থেকে এসেছে, যেগুলো আমরা দেখতে পাই না।
৪ বিশ্বাসের কারণেই হেবল ঈশ্বরের কাছে কয়িনের চেয়ে আরও উত্তম এক বলি উৎসর্গ করেছিলেন এবং সেই বিশ্বাসের কারণেই তার সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি ধার্মিক ছিলেন, কারণ ঈশ্বর তার উপহার গ্রহণ করেছিলেন।* যদিও তিনি মারা গিয়েছেন, কিন্তু বিশ্বাসের কারণে তিনি এখনও কথা বলছেন।
৫ বিশ্বাসের কারণেই হনোককে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেন তিনি মৃত্যু না দেখেন। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি, কারণ ঈশ্বর তাকে অন্য স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন; আর তাকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার আগে তার সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেছেন। ৬ বিশ্বাস ছাড়া ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব, কারণ যিনি ঈশ্বরের কাছে আসেন, তার এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে, ঈশ্বর আছেন* এবং যারা আন্তরিকভাবে তাঁর অন্বেষণ করে, তিনি তাদের পুরস্কার দেন।
৭ বিশ্বাসের কারণেই নোহ, যে-বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছিল না, সেগুলো সম্বন্ধে ঈশ্বরের কাছ থেকে সাবধানবাণী পেয়ে তাঁর প্রতি ভয় দেখিয়েছিলেন এবং তার পরিবারের লোকদের রক্ষার জন্য একটা জাহাজ নির্মাণ করেছিলেন; এই বিশ্বাসের মাধ্যমেই তিনি জগৎকে দোষী করেছিলেন আর বিশ্বাসের কারণেই তাকে ধার্মিক বলে গণ্য করা হয়েছিল।
৮ বিশ্বাসের কারণেই অব্রাহাম, যখন তাকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তিনি বাধ্যতা দেখিয়ে সেই স্থানে গিয়েছিলেন, যা উত্তরাধিকার হিসেবে তার পাওয়ার কথা ছিল; তিনি কোথায় যাচ্ছেন, তা না জানা সত্ত্বেও তিনি রওনা হয়েছিলেন। ৯ বিশ্বাসের কারণেই তিনি সেই দেশে একজন বিদেশির মতো বাস করেছিলেন, যে-দেশ সম্বন্ধে তার কাছে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল। তার সঙ্গে যারা একই প্রতিজ্ঞার উত্তরাধিকারী ছিলেন, সেই ইস্হাক ও যাকোবের সঙ্গে তিনি তাঁবুতে বাস করেছিলেন। ১০ কারণ তিনি এমন এক নগরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যেটার প্রকৃত ভিত্তি রয়েছে এবং যেটার নকশাবিদ* ও নির্মাণকর্তা হলেন স্বয়ং ঈশ্বর।
১১ বিশ্বাসের কারণেই সারাও গর্ভধারণ করার শক্তি লাভ করেছিলেন, যদিও তার সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল; কারণ যিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তাঁকে তিনি বিশ্বস্ত বলে গণ্য করেছিলেন। ১২ এই কারণে অব্রাহামের অর্থাৎ এক জন ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি বলতে গেলে মৃতপ্রায় ছিলেন, অনেক অর্থাৎ আকাশের তারার মতো অসংখ্য এবং সমুদ্রতীরের বালির মতো অগণিত সন্তানের জন্ম হয়েছিল।
১৩ তারা সকলে মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বাস বজায় রেখেছিলেন, এমনকী যদিও তারা প্রতিজ্ঞাত বিষয়গুলো লাভ করেননি; কিন্তু তারা দূর থেকে সেগুলো দেখতে পেয়ে সেগুলোর জন্য আনন্দ করেছিলেন এবং জনসমক্ষে ঘোষণা করেছিলেন যে, তারা এই দেশে বিদেশি এবং অস্থায়ী অধিবাসী। ১৪ কারণ যারা এই ধরনের কথা বলেন, তারা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন যে, তারা আন্তরিকভাবে এমন একটা স্থানের অন্বেষণ করছেন, যেটা তাদের নিজেদের বাসস্থান হয়ে উঠবে। ১৫ আর তারা যে-স্থান ছেড়ে চলে এসেছিলেন, সেই স্থানের কথা যদি চিন্তা করতেই থাকতেন, তা হলে তো তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত। ১৬ কিন্তু, তারা আরও উত্তম একটা স্থানের অর্থাৎ স্বর্গের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এক স্থানের জন্য আকাঙ্ক্ষা করছেন। তাই, ঈশ্বর তাদের ঈশ্বর বলে অভিহিত হওয়ার বিষয়ে লজ্জিত নন, কারণ তিনি তাদের জন্য একটা নগর প্রস্তুত করেছেন।
১৭ বিশ্বাসের কারণেই অব্রাহাম, তাকে যখন পরীক্ষা করা হয়েছিল, তখন তিনি ইস্হাককে উৎসর্গ করতে যাচ্ছিলেন; হ্যাঁ, যিনি আনন্দের সঙ্গে প্রতিজ্ঞাগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তিনিই তার একমাত্র ছেলেকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছিলেন, ১৮ যদিও ঈশ্বর তাকে বলেছিলেন: “যে-বংশধরকে* তোমার বংশধর* বলা হবে, তা ইস্হাকের মাধ্যমেই আসবে।” ১৯ তিনি এই যুক্তি করেছিলেন, ঈশ্বর ইস্হাককে পুনরুত্থিত* করতে সমর্থ আর তাই তিনি ইস্হাককে দৃষ্টান্তস্বরূপ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে পেয়েছিলেন।
২০ বিশ্বাসের কারণেই ইস্হাকও আসন্ন বিষয়গুলো সম্বন্ধে যাকোব ও এষৌকে আশীর্বাদ করেছিলেন।
২১ বিশ্বাসের কারণেই যাকোব মারা যাওয়ার সময় যোষেফের প্রত্যেক ছেলেকে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং তার লাঠিতে ভর দিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করেছিলেন।
২২ বিশ্বাসের কারণেই যোষেফ মারা যাওয়ার সময় মিশর থেকে ইজরায়েলীয়দের যাত্রার বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন আর সেইসঙ্গে তিনি সেখান থেকে তার হাড়গোড় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আদেশ দিয়েছিলেন।
২৩ বিশ্বাসের কারণেই মোশির বাবা-মা তার জন্মের পর তাকে তিন মাস ধরে লুকিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তারা দেখেছিলেন, শিশুটি সুন্দর আর তাই তারা রাজার আইন অমান্য করতে ভয় পাননি। ২৪ বিশ্বাসের কারণেই মোশি বড়ো হওয়ার পর ফরৌণের* মেয়ের ছেলে বলে পরিচিত হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; ২৫ তিনি পাপের ক্ষণস্থায়ী সুখ ভোগ করার চেয়ে বরং ঈশ্বরের লোকদের সঙ্গে অত্যাচার ভোগ করা বেছে নিয়েছিলেন; ২৬ তিনি মিশরের ধনসম্পদের চেয়ে বরং অভিষিক্ত ব্যক্তি* হিসেবে নিন্দা সহ্য করাকে আরও বেশি মূল্যবান বলে গণ্য করেছিলেন, কারণ তিনি পুরস্কারদানের প্রতি মনোযোগ স্থির রেখেছিলেন। ২৭ বিশ্বাসের কারণেই তিনি মিশর ত্যাগ করেছিলেন, রাজার ক্রোধকে ভয় পাননি, কারণ যিনি অদৃশ্য তাঁকে যেন দেখেই তিনি স্থির থেকেছিলেন। ২৮ বিশ্বাসের কারণেই তিনি নিস্তারপর্ব উদ্যাপন করেছিলেন এবং দরজার কপাটে রক্ত লেপন করেছিলেন, যাতে ঈশ্বরের স্বর্গদূত তাদের প্রথমজাত সন্তানের ক্ষতি* করতে না পারেন।
২৯ বিশ্বাসের কারণেই ঈশ্বরের লোকেরা শুকনো ভূমির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো করে লোহিত সাগর পার হয়েছিল, কিন্তু মিশরীয়েরা যখন তা করতে গিয়েছিল, তখন তারা ডুবে মারা গিয়েছিল।
৩০ বিশ্বাসের কারণেই ইজরায়েলীয়েরা যিরীহো নগরের প্রাচীরের চারপাশে সাত দিন ধরে ঘুরেছিল এবং এরপর সেই প্রাচীর ভেঙে পড়েছিল। ৩১ বিশ্বাসের কারণেই বেশ্যা রাহব অবাধ্য লোকদের সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায়নি, কারণ সে গুপ্তচরদের সাদরে গ্রহণ করেছিল।
৩২ আমি আর কার কার কথা বলব? কারণ আমি যদি গিদিয়োন, বারক, শিম্শোন, যিপ্তহ, দায়ূদ আর সেইসঙ্গে শমূয়েল এবং অন্যান্য ভাববাদীর কথা বলতে থাকি, তা হলে সময়ে কুলোবে না। ৩৩ বিশ্বাসের কারণেই তারা বিভিন্ন রাজ্য পরাজিত করেছিলেন, ঈশ্বরের ধার্মিক মান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, প্রতিজ্ঞা লাভ করেছিলেন, সিংহের মুখ বন্ধ করেছিলেন, ৩৪ আগুনের তেজ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, খড়্গ দ্বারা হত হওয়া থেকে রেহাই পেয়েছিলেন, দুর্বল অবস্থা থেকে শক্তিশালী হয়েছিলেন, যুদ্ধে পরাক্রমী হয়েছিলেন, আক্রমণ করতে আসা সৈন্যবাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ৩৫ মহিলারা নিজেদের মৃত আত্মীয়স্বজনকে পুনরুত্থানের* মাধ্যমে ফিরে পেয়েছিলেন; কিন্তু অন্যদের অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছিল, কারণ তারা মুক্ত হওয়ার বিনিময়ে বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে রাজি হননি, যাতে তারা আরও শ্রেষ্ঠ পুনরুত্থান লাভ করতে পারেন। ৩৬ আবার অন্যেরা উপহাস ও প্রহার সহ্য করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, এমনকী তাদের শিকলেও বাঁধা হয়েছিল এবং কারাগারেও রাখা হয়েছিল। ৩৭ তাদের কাউকে কাউকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছিল, কাউকে বিশ্বাসের পরীক্ষা সহ্য করতে হয়েছিল, কাউকে করাত দিয়ে দু-ভাগ করা হয়েছিল, কাউকে খড়্গ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, কেউ কেউ মেষের ও ছাগের চামড়ার পোশাক পরতেন আর তারা অভাবের মধ্যে ছিলেন, ক্লেশ ভোগ করেছিলেন এবং অত্যাচার সহ্য করেছিলেন; ৩৮ এই জগৎ তাদের যোগ্য ছিল না। তারা প্রান্তরে প্রান্তরে, পর্বতে পর্বতে, গুহায় গুহায় এবং পৃথিবীর গহ্বরে গহ্বরে পালিয়ে বেড়াতেন।
৩৯ আর যদিও তাদের বিশ্বাসের কারণে তাদের সবার সম্বন্ধে ভালো সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা প্রতিজ্ঞাত বিষয়গুলো লাভ করেননি, ৪০ কারণ ঈশ্বর আমাদের জন্য আরও উত্তম কিছু ভেবে রেখেছিলেন, যাতে আমাদের ছাড়াই তারা পূর্ণতা লাভ না করেন।
১২ আমাদের চারপাশে যেহেতু সাক্ষিদের এক বড়ো দল* রয়েছে, তাই এসো, আমরাও সমস্ত বোঝা এবং এমন পাপ ফেলে দিই, যা সহজেই আমাদের জন্য বাধা তৈরি করে। আর এসো, আমাদের সামনে যে-দৌড় প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে আমরা ধৈর্য ধরে দৌড়াই ২ এবং যিনি আমাদের বিশ্বাসের মুখ্য প্রতিনিধি* এবং আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করেন, সেই যিশুর প্রতি মনোযোগ স্থির রাখি। তাঁর সামনে যে-আনন্দ রাখা হয়েছিল, সেটার জন্য তিনি যাতনাদণ্ডে* মৃত্যু সহ্য করেছিলেন এবং অপমান তুচ্ছ করেছিলেন। আর তিনি ঈশ্বরের সিংহাসনের ডান দিকে বসেছেন। ৩ তাই, তাঁর কথা ভালোভাবে বিবেচনা করো, যিনি সেই লোকদের নিন্দা সহ্য করেছিলেন, যারা নিন্দা করার মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের দোষী করেছিল, যেন তোমরা ক্লান্ত হয়ে না পড় এবং হাল ছেড়ে না দাও।
৪ পাপের বিরুদ্ধে তোমাদের এখনও এমনভাবে লড়াই করতে হয়নি যে, তোমাদের মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। ৫ আর ঈশ্বর তাঁর সন্তান হিসেবে তোমাদের যে-পরামর্শ দিয়েছেন, তা তোমরা পুরোপুরিভাবে ভুলে গিয়েছ। তিনি বলেছেন: “হে আমার সন্তান, যিহোবার* শাসন তুচ্ছ কোরো না, কিংবা তিনি তিরস্কার করলে হাল ছেড়ে দিয়ো না; ৬ কারণ যিহোবা* যাদের ভালোবাসেন, তাদেরই শাসন করেন আর যে-কাউকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন, তাকে শাস্তি দেন।”*
৭ তোমরা যে-কষ্ট সহ্য করছ, সেটাকে শাসন* হিসেবে মেনে নাও। ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে তাঁর সন্তান হিসেবে আচরণ করেন। কারণ এমন সন্তান কেই-বা আছে, যাকে তার পিতা শাসন করেন না? ৮ কিন্তু, তোমাদের সকলকে যদি শাসন করা না হয়ে থাকে, তা হলে তোমরা তো অবৈধ সন্তান, প্রকৃত সন্তান নও। ৯ এ ছাড়া, আমাদের মানবপিতারা আমাদের শাসন করতেন আর আমরা তাদের সম্মান করতাম। তা হলে, সেই পিতার প্রতি কি আমাদের আরও বেশি বশীভূত হওয়া উচিত নয়, যিনি তাঁর পবিত্র শক্তি দ্বারা আমাদের জীবনে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, যাতে আমরা বেঁচে থাকি? ১০ কারণ আমাদের পিতারা তাদের দৃষ্টিতে যা ভালো বলে মনে হতো, সেই অনুযায়ী শাসন করতেন আর তা অল্প সময়ের জন্য, কিন্তু আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের উপকারের জন্য শাসন করে থাকেন, যাতে আমরা পবিত্র হই, যেমন তিনি পবিত্র। ১১ এটা ঠিক, যখন শাসন করা হয়, তখন কোনো শাসনকেই আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না, বরং দুঃখের* বিষয় বলেই মনে হয়; কিন্তু যারা শাসনের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হয়েছে, তারা পরে সঠিকভাবে জীবনযাপন করে এবং শান্তি উপভোগ করে।
১২ তাই, শিথিল হাত এবং দুর্বল হাঁটু সবল করো ১৩ আর সঠিক পথে সবসময় সোজাভাবে চলো, যাতে দুর্বল অংশের অবস্থা আরও খারাপ না হয়, বরং তা সুস্থ হয়ে ওঠে। ১৪ সকল লোকের সঙ্গে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করো এবং পবিত্র জীবনযাপন* করো, কারণ এই ধরনের জীবনযাপন ছাড়া কেউই প্রভুকে দেখতে পারবে না। ১৫ সতর্ক থেকো, যেন কেউ ঈশ্বরের মহাদয়া লাভ করতে ব্যর্থ না হয়; যেন তোমাদের মধ্যে বিষাক্ত মূল উৎপন্ন হয়ে সমস্যা তৈরি না করে এবং সেই মূলের দ্বারা অনেকে কলুষিত হয়ে না পড়ে; ১৬ আর সর্তক থেকো, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন যৌন অনৈতিক কাজ* না করে, কিংবা পবিত্র বিষয়গুলোর প্রতি উপলব্ধি দেখাতে ব্যর্থ না হয়, যেমনটা এষৌ হয়েছিল। সে তো এক বারের খাবারের বিনিময়ে নিজের জ্যেষ্ঠাধিকার বিক্রি করে দিয়েছিল। ১৭ তোমরা তো জান, পরে সে যখন সেই আশীর্বাদ লাভ করতে চেয়েছিল, তখন তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল; যদিও সে কেঁদে কেঁদে সিদ্ধান্ত* পরিবর্তন করানোর জন্য আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।*
১৮ তোমরা স্পর্শ করা যায় এবং আগুনে জ্বলছে এমন কোনো পর্বত, কোনো কালো মেঘ, গাঢ় অন্ধকার অথবা ঝড়ের কাছে উপস্থিত হওনি। ১৯ কিংবা তোমরা কোনো তূরীধ্বনি এবং সেই কণ্ঠস্বর শোননি, যে-কণ্ঠস্বর শুনে লোকেরা অনুরোধ করেছিল, যেন তাদের সঙ্গে আর কথা বলা না হয়। ২০ কারণ তারা এই আজ্ঞা শুনে খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিল: “এমনকী কোনো পশুও যদি পর্বত স্পর্শ করে, তবে সেই পশুকেও পাথর ছুড়ে হত্যা করা হবে।” ২১ সেই দৃশ্য এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, মোশি পর্যন্ত বলেছিলেন: “আমি ভয়ে কাঁপছি।” ২২ কিন্তু, তোমরা এইসমস্ত বিষয়ের কাছে উপস্থিত হয়েছ, যেমন, স্বর্গীয় সিয়োন পর্বত, জীবন্ত ঈশ্বরের নগর অর্থাৎ স্বর্গীয় জেরুসালেম, অযুত অযুত* স্বর্গদূতের ২৩ সমাবেশ, স্বর্গে যাদের নাম লেখা হয়েছে, সেই প্রথমজাত ব্যক্তিদের মণ্ডলী, সকলের বিচারক ঈশ্বর, পবিত্র শক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী জীবনযাপন করে এবং পূর্ণতা লাভ করেছে এমন ধার্মিক ব্যক্তি, ২৪ নতুন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী যিশু এবং ছিটিয়ে দেওয়া সেই রক্ত, যে-রক্ত হেবলের রক্তের চেয়ে আরও উত্তম কথা বলে।
২৫ সাবধান! যিনি কথা বলছেন, তাঁর কথায় তোমরা মনোযোগ দিতে প্রত্যাখ্যান কোরো না। কারণ যিনি পৃথিবীতে ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া সাবধানবাণী প্রদান করেন, তার কথায় যারা মনোযোগ দিতে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা যদি রেহাই পেয়ে না থাকে, তা হলে যিনি স্বর্গ থেকে কথা বলেন, তাঁর কথায় যদি আমরা মনোযোগ না দিই, তা হলে আমরা যে কিছুতেই রেহাই পাব না, সেটা কতই-না নিশ্চিত! ২৬ সেই সময় তাঁর কণ্ঠস্বরে পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল, কিন্তু এখন তিনি এই প্রতিজ্ঞা করেছেন: “আরও একবার আমি কেবল পৃথিবীকেই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে আকাশমণ্ডলও কাঁপিয়ে তুলব।” ২৭ “আরও একবার” কথাগুলো দেখায় যে, ঈশ্বর সেই বিষয়গুলো দূর করে দেবেন, যেগুলো কেঁপে ওঠে। এগুলো সেই সমস্ত বিষয়, যেগুলো ঈশ্বর সৃষ্টি করেননি। এইরকম করা হবে, যাতে সেই বিষয়গুলো স্থির থাকে, যেগুলো কেঁপে ওঠে না। ২৮ অতএব, আমরা যেহেতু এমন রাজ্য পেতে যাচ্ছি, যা কেঁপে ওঠে না, তাই এসো, সেই মহাদয়া লাভ করে চলি, যেটার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের প্রতি ভয় ও শ্রদ্ধা সহকারে তাঁকে গ্রহণযোগ্য উপায়ে পবিত্র সেবা প্রদান করতে পারি। ২৯ কারণ আমাদের ঈশ্বর গ্রাসকারী আগুনের মতো।
১৩ তোমরা তোমাদের ভ্রাতৃপ্রেম দেখিয়ে চলো। ২ আতিথেয়তা* দেখাতে ভুলে যেয়ো না, কারণ তা দেখানোর মাধ্যমে কেউ কেউ না জেনে স্বর্গদূতদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ৩ যারা কারাগারে* রয়েছে, তাদের কথা ভুলে যেয়ো না। তাদের কথা এমনভাবে স্মরণ করো, যেন তোমরাও তাদের সঙ্গে কারাগারে রয়েছ। আর যারা অত্যাচার ভোগ করছে, তাদের কথাও ভুলে যেয়ো না। তাদের কথা এমনভাবে স্মরণ করো, যেন তোমরাও তাদের সঙ্গে কষ্ট ভোগ করছ। ৪ সকলের মধ্যে যেন বিয়ে সমাদরণীয় থাকে এবং বিবাহশয্যা* যেন অশুচি না হয়, কারণ ঈশ্বর সেই ব্যক্তিদের বিচার করবেন, যারা যৌন অনৈতিক কাজ* করে এবং যারা ব্যভিচারী।* ৫ টাকাপয়সার প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলো না, বরং তোমাদের যা আছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকো। কারণ ঈশ্বর বলেছেন: “আমি কখনো তোমাকে ছাড়ব না আর আমি কখনো তোমাকে পরিত্যাগ করব না।” ৬ অতএব, আমরা পূর্ণ আস্থা সহকারে বলতে পারি: “যিহোবা* আমার সাহায্যকারী; আমি ভয় করব না। মানুষ আমার কীই-বা করতে পারে?”
৭ যারা তোমাদের মধ্যে নেতৃত্ব নেন এবং যারা তোমাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য বলে গিয়েছেন, সেই ব্যক্তিদের স্মরণ করো। তাদের আচরণের ভালো ফলাফল নিয়ে মনোযোগের সঙ্গে চিন্তা করে তোমরা তাদের বিশ্বাস অনুকরণ করো।
৮ যিশু খ্রিস্ট যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন এবং চিরকাল ধরে তেমনই থাকবেন।
৯ বিভিন্ন অদ্ভুত শিক্ষার দ্বারা ভ্রান্ত হোয়ো না। খাবার সম্বন্ধে বিভিন্ন আইনকানুন দ্বারা হৃদয়কে শক্তিশালী করার পরিবর্তে, ঈশ্বরের মহাদয়া দ্বারা হৃদয়কে শক্তিশালী করা আরও উত্তম; কারণ যারা খাবার সম্বন্ধে বিভিন্ন আইনকানুনকে অযথা গুরুত্ব দেয়, তারা কোনো উপকার লাভ করে না।
১০ আমাদের একটা বেদি রয়েছে, যেখান থেকে সেই ব্যক্তিদের খাওয়ার কোনো অধিকার নেই, যারা তাঁবুতে পবিত্র সেবা প্রদান করে। ১১ কারণ পাপের জন্য উৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে মহাযাজক যে-পশুদের রক্ত মহাপবিত্র স্থানে নিয়ে যান, সেই পশুদের দেহ শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১২ অতএব, যিশুও নগরদ্বারের বাইরে কষ্ট ভোগ করেছিলেন, যাতে তিনি নিজের রক্ত দ্বারা লোকদের পবিত্র করতে পারেন। ১৩ তাই এসো, আমরা শিবিরের বাইরে তাঁর কাছে যাই এবং তিনি যে-অপমান সহ্য করেছিলেন, তা সহ্য করি, ১৪ কারণ এখানে আমাদের এমন কোনো নগর নেই, যা চিরস্থায়ী, কিন্তু আমরা আন্তরিকভাবে এমন এক নগরের জন্য অপেক্ষা করছি, যা আসতে যাচ্ছে। ১৫ এইজন্য এসো, আমরা যিশুর মাধ্যমে সবসময় ঈশ্বরের কাছে প্রশংসাবলি অর্থাৎ আমাদের ওষ্ঠাধরের ফল* উৎসর্গ করি, যা আমরা জনসমক্ষে ঈশ্বরের নাম ঘোষণা করার মাধ্যমে করে থাকি। ১৬ আর ভালো কাজ করতে এবং নিজের যা আছে, তা দিয়ে অন্যদের সাহায্য করতে ভুলে যেয়ো না, কারণ ঈশ্বর এই ধরনের বলিদানে খুবই সন্তুষ্ট হন।
১৭ যারা তোমাদের মধ্যে নেতৃত্ব নেন, তাদের বাধ্য হও এবং বশীভূত হও, কারণ তারা ক্রমাগত তোমাদের যত্ন নিচ্ছেন এবং এই কাজের জন্য তাদের নিকাশ দিতে হবে। তোমরা যদি তাদের বাধ্য হও এবং বশীভূত হও, তা হলে তারা আনন্দের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, দুঃখের সঙ্গে নয়। যদি তাদের দুঃখের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তা হলে তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
১৮ আমাদের জন্য ক্রমাগত প্রার্থনা করো, কারণ আমাদের এই আস্থা আছে যে, আমাদের এক সৎ* বিবেক রয়েছে এবং আমরা সমস্ত বিষয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করতে চাই। ১৯ কিন্তু, আমি তোমাদের প্রার্থনা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, যাতে আমি তাড়াতাড়ি তোমাদের কাছে ফিরে আসতে পারি।
২০ আর শান্তির ঈশ্বর, যিনি অনন্তকালস্থায়ী এক চুক্তির রক্তের মাধ্যমে মহান মেষপালককে অর্থাৎ আমাদের প্রভু যিশুকে পুনরুত্থিত* করেছেন, ২১ তিনি তাঁর ইচ্ছা পালন করার জন্য তোমাদের সমস্ত ভালো বিষয় দিয়ে প্রস্তুত করুন। তাঁর দৃষ্টিতে যা সন্তোষজনক, তা করার জন্য তিনি যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের অনুপ্রাণিত করেন। যুগে যুগে চিরকাল ঈশ্বরের গৌরব হোক। আমেন।
২২ আর হে ভাইয়েরা, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা এই উৎসাহজনক বাক্যের প্রতি ধৈর্যের সঙ্গে মনোযোগ দাও, কারণ আমি অল্প কথায় তোমাদের এই চিঠি লিখলাম। ২৩ আমি তোমাদের জানাতে চাই যে, আমাদের ভাই তীমথিয় মুক্ত হয়েছেন। তিনি যদি শীঘ্র আসেন, তা হলে আমি তাকে নিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসব।
২৪ তোমাদের মধ্যে যারা নেতৃত্ব নিচ্ছেন, তাদের সকলকে এবং সমস্ত পবিত্র ব্যক্তিকে আমার শুভেচ্ছা জানিয়ো। ইতালির ভাই-বোনেরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
২৫ ঈশ্বরের মহাদয়া তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
আক্ষ., “এই সময়ের শেষে।”
বা “যুগ।” শব্দকোষ দেখুন।
বা “শ্রেষ্ঠ নামের উত্তরাধিকারী হয়েছেন।”
বা “তাঁকে শ্রদ্ধা জানাক।”
বা “স্বর্গদূতদের শক্তিশালী বাহিনী।”
বা “দাসদের।”
বা “ন্যায়েরই।”
অর্থাৎ পা রাখার টুল।
বা “কি জনসেবার।”
বা “পরিত্রাণের মনোনীত ব্যক্তিকে।”
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “রক্ত-মাংসের অংশী।”
আক্ষ., “তিনিও একই বিষয়ের অংশী।”
আক্ষ., “বীজকে।”
বা “পাপের জন্য এক প্রায়শ্চিত্তমূলক বলি উৎসর্গ করতে পারেন।”
বা “আমন্ত্রণ।”
বা “স্বীকার।”
অর্থাৎ যিশু।
অর্থাৎ পাপের প্রতারণামূলক ক্ষমতা।
বা “একই বিষয়ের অংশী হতে।”
আক্ষ., “ভয়ে।”
এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “আমাদের দুর্বলতার প্রতি সমবেদনা দেখাতে।”
বা “তিনি কোমলভাবে; তিনি বিনয়ের সঙ্গে।”
আক্ষ., “সেই বিষয়ে ভিত্তি স্থাপন না করি।”
আক্ষ., “মৃত।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “যুগে।” শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “যে-শক্তিগুলো।”
বা “পরামর্শ।”
বা “বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন।” আক্ষ., “বিষয়ে মধ্যস্থতা করেছেন।”
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “দশমাংশ ভাগ করে দেন।”
শব্দকোষ দেখুন।
মথি ৫:১৭ পদের পাদটীকা দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “আর আমি অনুশোচনা।”
এটা স্পষ্টতই মানবসরকারগুলোকে নির্দেশ করে।
বা “দাস।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “জনসেবার।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “পুনরায় সম্মিলিত করার আচ্ছাদনের।” এখানে ‘আচ্ছাদন’ শব্দের জন্য যে-গ্রিক শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে, তা এমন এক বলিকেও বোঝাতে পারে, যা একজন ব্যক্তি দিয়ে থাকেন, যাতে ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করেন।
আক্ষ., “ধরনের বাপ্তিস্মের।”
আক্ষ., “মুক্ত।”
বা “এবং এখনও বাচ্চা হয়নি এমন অল্পবয়সি গরুর।”
আক্ষ., “মৃত।”
আক্ষ., “প্রতিষ্ঠিত।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “তাঁবু ও জনসেবার।”
এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।
বা “যুগের।” শব্দকোষ দেখুন।
বা সম্ভবত, “লোকেরা।”
বা “দাঁড়িয়ে জনসেবা।”
অর্থাৎ পা রাখার টুল।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “আস্থা।”
বা “অন্যের জন্য চিন্তা করি।”
বা “অনুপ্রাণিত।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলে।”
আক্ষ., “তোমরা নির্দ্বিধায় কথা বলা বন্ধ।”
বা “কারণেই আমাদের পূর্বপুরুষদের।”
বা “যুগ।” শব্দকোষ দেখুন।
বা “উপহার অনুমোদন করার মাধ্যমে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।”
বা “অস্তিত্বে আছেন।”
বা “স্থপতি।”
আক্ষ., “বীজকে।”
আক্ষ., “বীজ।”
শব্দকোষ দেখুন।
মিশরের রাজাদের একটা উপাধি।
আক্ষ., “বরং খ্রিস্ট।”
আক্ষ., “প্রথমজাত সন্তানকে স্পর্শ।”
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “যেহেতু এক বড়ো সাক্ষিমেঘ।”
বা “বিশ্বাসের মনোনীত ব্যক্তি।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “তাকে প্রহার করেন।”
বা “প্রশিক্ষণ।”
বা “যন্ত্রণাদায়ক।”
আক্ষ., “পবিত্র হওয়ার চেষ্টা।”
গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”
অর্থাৎ তার বাবার সিদ্ধান্ত।
আক্ষ., “কিন্তু সে তা পরিবর্তন করতে পারেনি।”
বা “লক্ষ লক্ষ।”
বা “অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি দয়া।”
আক্ষ., “বাঁধা অবস্থায়।”
এটা যৌনসম্পর্ককে নির্দেশ করে।
গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
অর্থাৎ যে-কথাগুলো আমাদের মুখ থেকে বের হয়ে আসে।
আক্ষ., “ভালো।”
শব্দকোষ দেখুন।