কলসীয়দের প্রতি চিঠি
১ আমি পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছায় খ্রিস্ট যিশুর একজন প্রেরিত এবং আমাদের ভাই তীমথিয়, ২ আমরা কলসীর পবিত্র ব্যক্তিদের প্রতি এবং খ্রিস্টের শিষ্য এমন বিশ্বস্ত ভাইদের প্রতি এই চিঠি লিখছি:
আমাদের পিতা ঈশ্বর যেন তোমাদের প্রতি মহাদয়া দেখান এবং তোমাদের শান্তি দান করেন।
৩ আমরা যখন তোমাদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন সবসময় আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পিতা, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। ৪ কারণ আমরা খ্রিস্ট যিশুর উপর তোমাদের বিশ্বাসের কথা এবং সমস্ত পবিত্র ব্যক্তির প্রতি তোমরা যে-প্রেম দেখিয়ে থাক, সেই বিষয়ে শুনেছি। ৫ স্বর্গে তোমাদের জন্য ঈশ্বর যে-বিষয়গুলো রেখেছেন, সেগুলো পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বলে তোমরা এইরকম মনোভাব দেখাচ্ছ। তোমরা সেই সময় এই প্রত্যাশার বিষয়ে জেনেছিলে, যখন তোমরা সত্য শিক্ষাগুলো অর্থাৎ সুসমাচার সম্বন্ধে শুনেছিলে, ৬ যে-সুসমাচার তোমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। এই সুসমাচার সমস্ত জগতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ফল উৎপন্ন করছে। আর এটা সেই দিন থেকে তোমাদের মধ্যেও একইভাবে কাজ করছে, যে-দিন তোমরা এই সুসমাচার শুনেছিলে এবং ঈশ্বরের মহাদয়া আসলে কী, তা জানতে পেরেছিলে। ৭ এই মহাদয়া সম্বন্ধেই তোমরা আমাদের প্রিয় সহদাস ইপাফ্রার কাছ থেকে শিখেছিলে, যিনি আমাদের পক্ষ থেকে খ্রিস্টের একজন বিশ্বস্ত সেবক। ৮ আর তিনি আমাদের এও জানিয়েছেন যে, পবিত্র শক্তির মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে প্রেম গড়ে উঠেছে।
৯ এই কারণে যে-দিন আমরা তোমাদের এই প্রেম ও বিশ্বাসের কথা শুনেছি, সেই দিন থেকে তোমাদের জন্য কখনো প্রার্থনা করা বন্ধ করিনি, যাতে তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছার সঠিক জ্ঞানে পূর্ণ হও এবং প্রকৃত প্রজ্ঞা আর সেইসঙ্গে পবিত্র শক্তির মাধ্যমে বোঝার ক্ষমতা লাভ কর। ১০ আর যিহোবা* যেভাবে চান, তোমরা যেন সেই অনুযায়ী চলে তাঁকে পুরোপুরি খুশি করতে পার এবং একই সময়ে তোমরা ভালো ভালো কাজ করে চল এবং ঈশ্বরের সঠিক জ্ঞানে বৃদ্ধি লাভ কর; ১১ আর তোমরা যেন তাঁর গৌরবময় ক্ষমতার দ্বারা শক্তিশালী হও, যাতে তোমরা ধৈর্য ও আনন্দ সহকারে পূর্ণরূপে কষ্ট সহ্য করতে পার। ১২ আর তোমরা পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও, যিনি সেই পবিত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে উত্তরাধিকার লাভ করার জন্য তোমাদের যোগ্য করে তুলেছেন, যারা আলোতে রয়েছে।
১৩ তিনি আমাদের অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে উদ্ধার করে তাঁর প্রিয় পুত্রের রাজ্যে নিয়ে এসেছেন। ১৪ তাঁর পুত্রের মাধ্যমে মুক্তির মূল্য জোগানোর দ্বারা আমাদের মুক্ত করা হয়েছে অর্থাৎ আমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে। ১৫ তিনিই অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত; ১৬ কারণ স্বর্গে ও পৃথিবীতে, যা-কিছু দেখা যায় এবং যা-কিছু দেখা যায় না, হোক তা শাসক, নেতা, সরকার কিংবা কর্তৃপক্ষ, সমস্ত কিছু তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। হ্যাঁ, তাঁর মাধ্যমেই এবং তাঁর জন্যই অন্য সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৭ আর অন্য সমস্ত কিছুর আগে তিনি অস্তিত্বে ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই সমস্ত কিছু অস্তিত্বে আনা হয়েছে। ১৮ তিনিই দেহের অর্থাৎ মণ্ডলীর মস্তক। তিনিই সমস্ত কিছুর শুরু। তিনিই মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত; তাই তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সমস্ত কিছুর প্রথমে রয়েছেন; ১৯ ঈশ্বর চেয়েছিলেন যেন সমস্ত পূর্ণতা খ্রিস্টের মধ্যেই বাস করে। ২০ ঈশ্বর এও চেয়েছিলেন যেন খ্রিস্টের মাধ্যমেই অর্থাৎ যাতনাদণ্ডে* তাঁর পাতিত রক্তের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন করে স্বর্গ ও পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে নিজের সঙ্গে পুনরায় সম্মিলিত করেন।
২১ একসময় তোমরা ঈশ্বরের শত্রু ছিলে এবং তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলে, কারণ তোমরা মন্দ কাজগুলো নিয়ে চিন্তা করতে। ২২ কিন্তু, যিনি মৃত্যুর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন, সেই খ্রিস্টের মাংসিক দেহের মাধ্যমে ঈশ্বর এখন নিজের সঙ্গে তোমাদের পুনরায় সম্মিলিত করেছেন, যেন তোমরা তাঁর দৃষ্টিতে পবিত্র, নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ হতে পার— ২৩ যদি তোমরা ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করে চল, ভিত্তির উপর স্থির থাক এবং দৃঢ় হও আর তোমরা যে-সুসমাচার শুনেছ এবং যা সমস্ত জগতে প্রচার করা হয়েছে, সেই সুসমাচারের প্রত্যাশা থেকে সরে না পড়। আমি পৌল, এই সুসমাচারের একজন সেবক হয়েছি।
২৪ আমি তোমাদের জন্য যে-কষ্ট ভোগ করছি, সেটার জন্য এখন আনন্দ করছি এবং খ্রিস্টের যে-ক্লেশ এখনও আমার দেহে ভোগ করা বাকি রয়েছে, তা আমি তাঁর দেহের অর্থাৎ মণ্ডলীর উপকারের জন্য ভোগ করছি। ২৫ ঈশ্বর আমাকে যে-দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী আমি এই মণ্ডলীরই সেবক হয়েছি, যেন তোমাদের উপকারের জন্য আমি পূর্ণরূপে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করি। ২৬ এই বাক্যের মধ্যে সেই পবিত্র রহস্যও রয়েছে, যা বিগত বিধিব্যবস্থাগুলোর* এবং বিগত প্রজন্মগুলোর কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু, এখন সেই রহস্য তাঁর পবিত্র ব্যক্তিদের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে। ২৭ আর ঈশ্বর এই পবিত্র ব্যক্তিদের কাছেই সেই পবিত্র রহস্যের গৌরবময় ধন প্রকাশ করতে চেয়েছেন, যা ন-যিহুদিদের কাছেও প্রকাশ করা হয়েছে। এই পবিত্র রহস্য হল খ্রিস্টের সঙ্গে তোমাদের একতাবদ্ধ হওয়া অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে তোমাদের গৌরবান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা। ২৮ তাঁর সম্বন্ধেই আমরা ঘোষণা করছি অর্থাৎ প্রত্যেককে সতর্ক করছি এবং প্রকৃত প্রজ্ঞা সহকারে সকলকে শিক্ষা দিচ্ছি, যাতে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তিকে খ্রিস্টের একজন পরিপক্ব শিষ্য হিসেবে ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত করতে পারি। ২৯ এই লক্ষ্যেই আমি কঠোর পরিশ্রম করছি, তিনি আমাকে যে-শক্তি দেন, সেই শক্তি অনুসারে প্রাণপণ করছি।
২ কারণ আমি চাই যেন তোমরা জান যে, আমি তোমাদের এবং লায়দিকেয়ার ব্যক্তিদের জন্য আর যারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে* দেখেনি, তাদের সকলের জন্য কতটা প্রাণপণ লড়াই করছি। ২ আমার উদ্দেশ্য হল, যেন তোমরা সকলে সান্ত্বনা পাও এবং প্রেমের দ্বারা পরস্পর একতাবদ্ধ হও। এতে তোমরা সেই ধন লাভ করবে, যে-ধন হল ঈশ্বরের পবিত্র রহস্য অর্থাৎ খ্রিস্ট সম্বন্ধে সঠিকভাবে জানা এবং ভালোভাবে বুঝতে পারা। ৩ তাঁর মধ্যেই প্রজ্ঞার ও জ্ঞানের সমস্ত ধন গুপ্ত রয়েছে। ৪ আমি এই কথা বলছি, যেন কেউই চাতুরীপূর্ণ কথার দ্বারা তোমাদের প্রতারিত করতে না পারে। ৫ যদিও আমি সশরীরে অনুপস্থিত, তবে আমি মনে মনে তোমাদের সঙ্গেই আছি আর তোমাদের সুশৃঙ্খল অবস্থা এবং খ্রিস্টের উপর তোমাদের বিশ্বাস খুবই দৃঢ় দেখে আমি আনন্দ করছি।
৬ তাই, তোমরা যেমন আমাদের প্রভু, খ্রিস্ট যিশুকে গ্রহণ করেছ, তেমনই তাঁর প্রতি বাধ্য হয়ে চলো। ৭ তোমরা যেমন শিখেছ, সেই অনুসারে খ্রিস্টের উপর তোমাদের বিশ্বাসের মূল যেন গভীরে যায় এবং সেই বিশ্বাস যেন তাঁর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং দৃঢ় হয়। আর তোমরা যেন সবসময় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও।
৮ তোমরা সাবধান থেকো, যেন দর্শনবিদ্যা এবং মিথ্যা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কেউ তোমাদের বন্দি করে* নিয়ে না যায়। এগুলোর ভিত্তি খ্রিস্টের শিক্ষা নয়, বরং মানুষের পরম্পরাগত রীতিনীতি এবং এই জগতের মৌলিক ধারণা; ৯ কারণ ঈশ্বরের সমস্ত গুণ পুরোপুরিভাবে খ্রিস্টের মধ্যেই রয়েছে। ১০ তাই, তোমরা তাঁর* মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছ, যিনি সমস্ত সরকার ও কর্তৃত্বের মস্তক। ১১ তাঁর সঙ্গে তোমাদের সম্পর্কের কারণে তোমাদের ত্বকচ্ছেদ* করা হয়েছে। তোমাদের এই ত্বকচ্ছেদ কোনো মানুষের মাধ্যমে হয়নি, বরং পাপপূর্ণ দেহ থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে হয়েছে, কারণ খ্রিস্টের দাসদের এভাবেই ত্বকচ্ছেদ করা হয়। ১২ তাঁর বাপ্তিস্মেই তোমাদের তাঁর সঙ্গে কবর দেওয়া হয়েছে। আর তাঁর সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক থাকায় এবং ঈশ্বর তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে যা-কিছু করেছেন, সেগুলোর উপর তোমাদের বিশ্বাস থাকায় তোমাদের তাঁর সঙ্গে পুনরুত্থিতও* করা হয়েছে। ঈশ্বরই তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন।
১৩ যদিও তোমরা তোমাদের অপরাধের কারণে এবং ত্বকচ্ছেদ না করানোর কারণে মৃত ছিলে, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের জীবিত করেছেন এবং খ্রিস্টের সঙ্গে এক করেছেন। তিনি সদয়ভাবে আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করেছেন ১৪ এবং আমাদের বিরুদ্ধে লিখিত সেই ব্যবস্থা* মুছে ফেলেছেন, যেখানে অনেক আইন রয়েছে। যাতনাদণ্ডে* খ্রিস্টের মৃত্যুর মাধ্যমে ঈশ্বর সেই ব্যবস্থা দূর করে দিয়েছেন। ১৫ তিনি সমস্ত সরকার ও কর্তৃপক্ষকে পরাজিত করেছেন এবং যাতনাদণ্ডে* খ্রিস্টের মৃত্যুর দ্বারা তাদের পরাজিত ব্যক্তি হিসেবে বিজয়যাত্রার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সকলের সামনে তাদের লজ্জিত করেছেন।
১৬ তাই, ভোজন, কি পান, কি উৎসব, কি নতুন চাঁদ, কি বিশ্রামবার,* এইসমস্ত বিষয় নিয়ে কেউ যেন তোমাদের বিচার না করে। ১৭ এগুলো আসন্ন বিষয়ের ছায়া মাত্র, কিন্তু সেই ছায়ার বাস্তবতা হলেন খ্রিস্ট। ১৮ এমন কোনো ব্যক্তি যেন তোমাদের পুরস্কার থেকে বঞ্চিত না করে, যে নম্রতার ভান করার এবং স্বর্গদূতদের উপাসনা* করার মাধ্যমে আনন্দ পায়। এইরকম ব্যক্তি যা যা দেখে থাকে, কেবল সেগুলোর ব্যাপারেই নাছোড়বান্দা থাকে এবং নিজের অনর্থক চিন্তাভাবনা নিয়ে গর্ব করে। ১৯ আর সে প্রকৃত মস্তককে অর্থাৎ সেই ব্যক্তিকে অনুসরণ করে না, যাঁর মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেহ পুষ্টি লাভ করে এবং সেইসঙ্গে গ্রন্থি ও সন্ধিবন্ধনীর দ্বারা পরস্পর সুন্দরভাবে সংযুক্ত থাকে আর এভাবে ঈশ্বরের শক্তিতে বৃদ্ধি পায়।
২০ জগতের মৌলিক ধারণাগুলো প্রত্যাখ্যান করে তোমরা তো খ্রিস্টের সঙ্গে মারা গিয়েছ। তা হলে কেনই-বা তোমরা এমনভাবে জীবনযাপন করছ, যেন তোমরা এখনও এই জগতেরই অংশ? আর কেনই-বা তোমরা এই আইনগুলো মেনে চলছ: ২১ “এটা ধোরো না, ওটা চেখে দেখো না, সেটা স্পর্শ কোরো না”? ২২ এই আইনগুলো যে-জিনিসগুলোর ব্যাপারে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তো ব্যবহার করতে করতে ধ্বংস হয়ে যাবে আর এই আইনগুলোর ভিত্তি মানুষের আদেশ ও শিক্ষা। ২৩ এই আইনগুলো নিজের ইচ্ছামতো উপাসনা করার এবং দেহের প্রতি নির্দয় আচরণ দ্বারা নম্রতার ভান করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় আর সেগুলোকে দেখতে প্রজ্ঞায় পূর্ণ বলে মনে হয় ঠিকই, কিন্তু মাংসিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে লড়াই করার ব্যাপারে এগুলোর কোনো মূল্যই নেই।
৩ কিন্তু, তোমাদের যদি খ্রিস্টের সঙ্গে জীবিত করা হয়ে থাকে, তা হলে সেই স্বর্গের বিষয়গুলোর জন্য চেষ্টা করে চলো, যেখানে খ্রিস্ট ঈশ্বরের ডান দিকে বসে আছেন। ২ তোমরা পৃথিবীর বিষয়গুলোর উপর নয়, বরং স্বর্গের বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দাও। ৩ কারণ তোমরা মারা গিয়েছ এবং তোমাদের জীবন খ্রিস্টের হাতে রয়েছে আর তা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। ৪ যিনি আমাদের জীবন, সেই খ্রিস্ট যখন প্রকাশিত হবেন, তখন তাঁর সঙ্গে তোমরাও গৌরবজনক অবস্থায় প্রকাশিত হবে।
৫ অতএব, তোমাদের পার্থিব দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গে যে-সমস্ত প্রবণতা প্রকাশ পায়, সেগুলো পুরোপুরি দূর করে ফেলো, যেন তোমরা যৌন অনৈতিকতায়* জড়িয়ে না পড়, অশুচি কাজ না কর, চরম যৌন আকাঙ্ক্ষার বশবর্তী না হও, মন্দ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা না কর এবং লোভী হয়ে না পড়, যেহেতু লোভ এক ধরনের প্রতিমাপূজা। ৬ যারা এই বিষয়গুলো করে, তাদের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে আসবে। ৭ তোমাদের আগের জীবনধারায় তোমরাও এই বিষয়গুলো করতে। ৮ কিন্তু, এখন তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে ক্রোধ, রাগ, মন্দতা, নিন্দামূলক কথা এবং অশ্লীল কথাবার্তা পুরোপুরি দূর করে দাও। ৯ একে অন্যের কাছে মিথ্যা বোলো না। পুরোনো ব্যক্তিত্বকে* এর সমস্ত অভ্যাস-সহ কাপড়ের মতো খুলে ফেলো। ১০ এর পরিবর্তে, সেই নতুন ব্যক্তিত্বকে কাপড়ের মতো পরিধান করো, যা ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন; এই নতুন ব্যক্তিত্বকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অতএব, ঈশ্বরকে সঠিকভাবে জানার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দিন দিন নতুন করো। ১১ এই নতুন ব্যক্তিত্বের মধ্যে গ্রিক,* কি যিহুদি, কি ছিন্নত্বক* লোক, কি অছিন্নত্বক* লোক, কি বিদেশি, কি স্কুথীয়,* কি দাস, কি স্বাধীন লোক বলে কিছু নেই; এই নতুন ব্যক্তিত্বের মধ্যে খ্রিস্টই সমস্ত কিছু এবং তিনি সবার মধ্যে আছেন।
১২ তোমরা যেহেতু ঈশ্বরের মনোনীত লোক এবং তাঁর পবিত্র ও প্রিয় সন্তান, তাই তোমরা কোমল সমবেদনা, দয়া, নম্রতা, মৃদুতা ও ধৈর্যকে কাপড়ের মতো পরিধান করো। ১৩ এমনকী কারো বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ করার কারণও থাকে, তবুও সবসময় একে অন্যকে সহ্য করো এবং পরস্পরকে পুরোপুরিভাবে ক্ষমা করো। যিহোবা* যেমন তোমাদের পুরোপুরিভাবে ক্ষমা করেছেন, তেমনই তোমরাও ক্ষমা করো। ১৪ তবে, এই সমস্ত কিছুর উপরে কাপড়ের মতো প্রেমও পরিধান করো, কারণ প্রেমই সমস্ত লোককে পুরোপুরিভাবে একতাবদ্ধ করে।
১৫ এ ছাড়া, খ্রিস্টের শান্তি যেন তোমাদের হৃদয়ে কর্তৃত্ব* করে, কারণ তোমাদের তো সেই শান্তির জন্যই এক দেহে আহ্বান করা হয়েছে। আর তোমরা যে কৃতজ্ঞ, তা দেখাও। ১৬ খ্রিস্টের বাক্য যেন তোমাদের মধ্যে পূর্ণরূপে কাজ করে এবং তোমাদের বিজ্ঞ করে তোলে। ভক্তিমূলক গান করার, ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রশংসামূলক গান করার এবং কৃতজ্ঞতা সহকারে উপাসনার উদ্দেশে গান করার মাধ্যমে সবসময় পরস্পরকে শিক্ষা দাও এবং উৎসাহিত করো।* হৃদয়ের গভীর থেকে যিহোবার* উদ্দেশে গান করো। ১৭ তোমরা যা-কিছু বল বা কর, সমস্ত কিছু প্রভু যিশুর নামেই করো এবং তাঁর মাধ্যমে পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও।
১৮ স্ত্রীরা, তোমরা নিজ নিজ স্বামীর বশীভূত থাকো, কারণ প্রভুর অনুসারীদের জন্য তা উপযুক্ত। ১৯ স্বামীরা, তোমরা সবসময় নিজ নিজ স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা দেখাও এবং তাদের প্রতি রাগ প্রকাশ* কোরো না। ২০ সন্তানেরা, তোমরা সমস্ত বিষয়ে নিজ নিজ বাবা-মায়ের বাধ্য হও, কারণ প্রভুর দৃষ্টিতে তা প্রীতিজনক। ২১ বাবারা, তোমরা নিজ নিজ সন্তানদের উত্তেজিত করে* তুলো না, নতুবা তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে। ২২ দাসেরা, তোমরা সমস্ত বিষয়ে নিজ নিজ মানবপ্রভুদের বাধ্য হও, তবে মানুষকে খুশি করার জন্য কেবল তাদের চোখের সামনেই বাধ্য হোয়ো না, বরং যিহোবার* প্রতি ভয় সহকারে পূর্ণহৃদয়ে বাধ্য হও। ২৩ তোমরা যা-কিছু কর, তা পূর্ণহৃদয়ে করো, মানুষের কাজ নয়, বরং যিহোবার* কাজ মনে করেই করো, ২৪ কারণ তোমরা জান যে, তোমরা যিহোবার* কাছ থেকেই পুরস্কার হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করবে। প্রভু খ্রিস্টের দাসত্ব করো। ২৫ যে অন্যায় করে, সে তার অন্যায় কাজের জন্য ফল পাবে, কারণ ঈশ্বর পক্ষপাতিত্ব করেন না।
৪ আর প্রভুরা, তোমরা তোমাদের দাসদের সঙ্গে ধার্মিক ও ন্যায্য আচরণ করো, কারণ তোমরা জান, স্বর্গে তোমাদেরও একজন প্রভু আছেন।
২ তোমরা অবিরত প্রার্থনা করো এবং ধন্যবাদ সহকারে প্রার্থনা করার ব্যাপারে সজাগ থাকো। ৩ আর একইসঙ্গে আমাদের জন্যও প্রার্থনা করো, যাতে ঈশ্বর তাঁর বাক্য প্রচার করার ব্যাপারে আমাদের জন্য এক দরজা খুলে দেন আর এতে আমরা যেন খ্রিস্টের বিষয়ে পবিত্র রহস্য সম্বন্ধে ঘোষণা করতে পারি। এটার জন্যই আমি কারাগারে আছি। ৪ হ্যাঁ, প্রার্থনা করো, যেন আমি স্পষ্টভাবে সেই সম্বন্ধে ঘোষণা করতে পারি, যেমনটা আমার করা উচিত।
৫ যারা মণ্ডলীর অংশ নয়, তাদের সঙ্গে তোমরা প্রজ্ঞা সহকারে আচরণ করো, তোমাদের সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করো।* ৬ তোমাদের কথাবার্তা যেন সবসময় সদয় হয় অর্থাৎ লবণ দিয়ে স্বাদযুক্ত করা খাবারের মতো হয়। এতে তোমরা জানতে পারবে যে, কাকে কীভাবে উত্তর দেবে।
৭ আমার প্রিয় ভাই, বিশ্বস্ত সেবক এবং প্রভুর কাজে আমাদের একজন সহদাস তুখিক, আমার বিষয়ে সমস্ত খবর তোমাদের জানাবেন। ৮ আমি তাকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি, যেন তোমরা তার কাছ থেকে আমাদের খবর জানতে পার এবং তিনি যেন তোমাদের সান্ত্বনা দিতে পারেন। ৯ আমি আমার বিশ্বস্ত ও প্রিয় ভাই ওনীষিমকেও তার সঙ্গে পাঠাচ্ছি, যিনি তোমাদের এলাকারই একজন; তারা এখানকার সমস্ত খবর তোমাদের জানাবেন।
১০ আমার সহবন্দি আরিষ্টার্খ এবং বার্ণবার আত্মীয় মার্কও তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন (এই মার্কের বিষয়েই তোমরা ইতিমধ্যে এই আদেশ পেয়েছ যে, তিনি যদি তোমাদের কাছে আসেন, তা হলে তোমরা যেন তাকে সাদরে গ্রহণ কর)। ১১ আর যিশু, যাকে যুষ্ট বলে ডাকা হয়, তিনিও তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এরা সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ত্বকচ্ছেদ* করা হয়েছে। কেবল এই ব্যক্তিরাই ঈশ্বরের রাজ্যের পক্ষে আমার সঙ্গে কাজ করছেন আর তারা আমাকে অনেক সান্ত্বনা প্রদান করেছেন।* ১২ খ্রিস্ট যিশুর একজন দাস ইপাফ্রা, যিনি তোমাদের এলাকারই একজন, তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি সবসময় তোমাদের জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন, যেন তোমরা পরিপক্ব ব্যক্তি হিসেবে দৃঢ় থাকতে পার এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সমস্ত বিষয়ে দৃঢ়নিশ্চিত থাকতে পার। ১৩ তার বিষয়ে আমি তোমাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, তিনি তোমাদের জন্য এবং লায়দিকেয়া ও হিয়রাপলির ভাই-বোনদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন।
১৪ প্রিয় চিকিৎসক লূক আর সেইসঙ্গে দীমা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ১৫ লায়দিকেয়ার ভাই-বোনদের এবং নুম্ফাকে এবং তার বাড়িতে যে-মণ্ডলী মিলিত হয়, তাদের আমার শুভেচ্ছা দিয়ো। ১৬ এই চিঠি পড়া শেষ হলে পর তোমরা এটা লায়দিকেয়ার মণ্ডলীতে পাঠিয়ে দিয়ো, যেন তারা এটা পড়তে পারে। আর তাদের কাছে আমি যে-চিঠি দিয়েছি, সেটা তোমাদের কাছে পাঠাতে বোলো, যেন তোমরা সেটা পড়তে পার। ১৭ আর আর্খিপ্পকে বোলো: “প্রভুর কাছ থেকে তুমি সেবা করার যে-দায়িত্ব পেয়েছ, তা সম্পন্ন করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করে চলো।”
১৮ আমি পৌল, নিজ হাতে লিখে আমার শুভেচ্ছা তোমাদের জানাচ্ছি। আমি যে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আছি, সেই কথা মনে রেখো। ঈশ্বরের মহাদয়া তোমাদের সঙ্গে থাকুক।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “যুগগুলোর।” শব্দকোষ দেখুন।
বা “যারা আমার মুখ।”
বা “তোমাদের তার শিকার হিসেবে ধরে।”
অর্থাৎ খ্রিস্ট।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
মথি ৫:১৭ পদের পাদটীকা দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “স্বর্গদূতদের মতো উপাসনা।”
গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “মানুষকে।”
এটা স্পষ্টতই সেই ন-যিহুদিদের নির্দেশ করে, যারা গ্রিক ভাষায় কথা বলত।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
এটা সেই লোকদের নির্দেশ করে, যাদের আচার-আচরণ ও রীতিনীতির কারণে তাদের নীচু চোখে দেখা হতো।
শব্দকোষ দেখুন।
বা “তোমাদের হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ।”
বা “এবং পরামর্শ দাও।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “প্রতি রূঢ় আচরণ।”
বা “সন্তানদের ক্ষেপিয়ে; সন্তানদের বিরক্ত করে।”
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “তোমরা নিরূপিত সময় কিনে নাও।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “তারা আমার জন্য শক্তিবর্ধক হয়েছেন।”