ফিলিপীয়দের প্রতি চিঠি
১ খ্রিস্ট যিশুর দাস আমি পৌল ও তীমথিয়, আমরা ফিলিপীতে খ্রিস্ট যিশুর শিষ্য এমন সমস্ত পবিত্র ব্যক্তির প্রতি আর সেইসঙ্গে অধ্যক্ষ এবং পরিচারক দাসদের প্রতি লিখছি:
২ আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যিশু খ্রিস্ট যেন তোমাদের প্রতি মহাদয়া দেখান এবং তোমাদের শান্তি দান করেন।
৩ আমি যখন তোমাদের কথা স্মরণ করি, তখন সবসময় আমার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। ৪ তোমাদের সকলের জন্য আমি সবসময় আনন্দ সহকারে বিনতি করি। ৫ কারণ যে-দিন থেকে তোমরা সুসমাচার গ্রহণ করেছ, সেই দিন থেকে এখন পর্যন্ত তোমরা সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে সাহায্য করে আসছ। ৬ কারণ আমার এই আস্থা রয়েছে, ঈশ্বর, যিনি তোমাদের মধ্যে ভালো কাজ শুরু করেছেন, তিনি খ্রিস্টের দিন না আসা পর্যন্ত এই কাজ সম্পন্ন করতে তোমাদের সাহায্য করবেন। ৭ তোমাদের সকলের বিষয়ে এইরকম চিন্তা করা উপযুক্ত, কারণ তোমরা আমার হৃদয়ে রয়েছ। আমি কারাগারে থাকার সময় এবং সুসমাচারের পক্ষসমর্থন করার আর তা প্রচার করার বৈধ অধিকার লাভ করার সময়, তোমরা আমার সঙ্গে ঈশ্বরের মহাদয়ার অংশী হয়েছ।
৮ খ্রিস্ট যিশুর যে-কোমল স্নেহ রয়েছে, সেই একই কোমল স্নেহ সহকারে তোমাদের দেখার জন্য আমি যে কতটা আকাঙ্ক্ষী হয়ে আছি, সেই বিষয়ে ঈশ্বর আমার সাক্ষি। ৯ আর আমি ক্রমাগত প্রার্থনা করি, তোমাদের প্রেম যেন সঠিক জ্ঞান এবং সম্পূর্ণ বিচক্ষণতা সহকারে দিন দিন বৃদ্ধি লাভ করে; ১০ তোমরা যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ণয় করতে পার, যাতে তোমরা খ্রিস্টের দিন পর্যন্ত শুদ্ধ থাকতে পার এবং পরস্পরের বিশ্বাস হারানোর* কারণ না হও; ১১ আর তোমরা যেন যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে ধার্মিকতার ফলে পূর্ণ হও, যাতে ঈশ্বরের গৌরব ও প্রশংসা হয়।
১২ ভাইয়েরা, আমি চাই তোমরা জান যে, আমার পরিস্থিতি আসলে সুসমাচার ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে, ১৩ কারণ প্রাইতোরিয়ার রক্ষী* এবং অন্য সকলে জানতে পেরেছে যে, খ্রিস্টের জন্য আমাকে বন্দি করা হয়েছে। ১৪ আমার এই বন্দিত্বের কারণে প্রভুর সেবা করে এমন অধিকাংশ ভাই আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এবং নির্ভয়ে আরও বেশি করে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করতে পারছে।
১৫ এটা ঠিক, কেউ কেউ ঈর্ষার ও বিবাদের মনোভাব নিয়ে খ্রিস্ট সম্বন্ধে প্রচার করছে, কিন্তু অন্যেরা আবার ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার করছে। ১৬ যারা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে খ্রিস্ট সম্বন্ধে প্রচার করছে, তারা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়ে প্রচার করছে, কারণ তারা জানে, আমাকে সুসমাচারের পক্ষসমর্থন করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে; ১৭ কিন্তু অন্যেরা সরল মনোভাব নিয়ে নয়, বরং ঝগড়া করার মনোভাব নিয়ে প্রচার করছে, কারণ তারা মনে করে, আমার বন্দি অবস্থায় তারা আমাকে আরও কষ্ট দিতে পারবে। ১৮ এতে কী হল? মনোভাব ভুল বা সঠিক, যা-ই হোক না কেন, খ্রিস্টের বিষয়ই প্রচারিত হচ্ছে আর এতেই আমি আনন্দ করছি। আর আমি আনন্দ করে চলব, ১৯ কারণ আমি জানি, তোমাদের বিনতির কারণে এবং যিশু খ্রিস্ট আমাদের যে-পবিত্র শক্তি দান করেন, সেটার সাহায্যে আমি পরিত্রাণ লাভ করব। ২০ আমার এই আস্থা রয়েছে এবং আমি এই প্রত্যাশা করি যে, আমি কোনো বিষয়ে লজ্জা বোধ করব না। বরং আমি নির্ভয়ে কথা বলব এবং আমি বেঁচে থাকি কিংবা মৃত্যুবরণ করি, যা-ই হোক না কেন, আমার দেহের মাধ্যমে* খ্রিস্ট আগের মতো এখনও গৌরবান্বিত হবেন।
২১ আমার ক্ষেত্রে, আমি যদি বেঁচে থাকি, তা হলে আমি খ্রিস্টের জন্য আমার জীবন ব্যবহার করব আর যদি মৃত্যুবরণ করি, তা হলে সেটা আমার জন্য লাভ। ২২ কিন্তু, আমাকে যদি এখনও এই মাংসিক দেহে বেঁচে থাকতে হয়, তা হলে আমি খ্রিস্টের জন্য আরও কাজ করতে পারব। তবে, আমি কোনটা বাছাই করব, তা আমি বলতে পারছি না। ২৩ আমি এই দুটোর মধ্যে কোনটা বাছাই করব, সেটা নিয়ে দ্বিধার মধ্যে রয়েছি; আমি তো চাই, যেন মুক্ত হয়ে খ্রিস্টের সঙ্গে থাকি, কারণ নিশ্চিতভাবেই সেটা আরও উত্তম বিষয়। ২৪ তবে, তোমাদের জন্য আমার পক্ষে এই মাংসিক দেহে বেঁচে থাকা আরও বেশি প্রয়োজন। ২৫ আমার এই ব্যাপারে আস্থা রয়েছে বলে আমি জানি যে, আমি বেঁচে থাকব এবং তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকব, যেন তোমরা উন্নতি করতে এবং তোমাদের বিশ্বাসে আনন্দ করতে পার। ২৬ এর ফলে আমি যখন আবার তোমাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকব, তখন খ্রিস্ট যিশুর শিষ্য হিসেবে তোমাদের আনন্দ বৃদ্ধি পাবে।
২৭ আমি কেবল চাই, তোমরা যেন খ্রিস্ট সম্বন্ধীয় সুসমাচারের সঙ্গে মিল রেখে আচরণ কর। আমি এসে তোমাদের দেখি কিংবা আমি তোমাদের কাছ থেকে দূরে থাকি, আমি যেন তোমাদের বিষয়ে শুনতে পাই এবং জানতে পারি যে, তোমরা একমনে দৃঢ় আছ, একতাবদ্ধ আছ, সুসমাচারের প্রতি তোমাদের বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য একযোগে প্রচেষ্টা করছ ২৮ এবং কোনোভাবেই বিরোধীদের দ্বারা আতঙ্কগ্রস্ত হচ্ছ না। এই বিষয়গুলো তাদের ক্ষেত্রে প্রমাণ দেয়, তারা ধ্বংস হবে, কিন্তু তোমাদের ক্ষেত্রে প্রমাণ দেয়, তোমরা পরিত্রাণ লাভ করবে; আর এই প্রমাণ ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে। ২৯ কারণ খ্রিস্টের জন্য তোমাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন তোমরা শুধু তাঁর উপর বিশ্বাস কর, তা নয় কিন্তু সেইসঙ্গে তাঁর জন্য কষ্টও ভোগ কর। ৩০ কারণ তোমরাও সেই একই লড়াই করছ, যেমনটা আমাকে করতে দেখেছ আর তোমরা যেমন শুনেছ যে, এখনও আমি লড়াই করছি।
২ যদি তোমরা খ্রিস্টের মাধ্যমে পরস্পরকে উৎসাহ দিয়ে থাক, যদি প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়ে পরস্পরকে সান্ত্বনা দিয়ে থাক, যদি পরস্পরের প্রতি চিন্তা দেখিয়ে থাক, যদি তোমাদের মধ্যে কোমল স্নেহ ও সমবেদনা থাকে, ২ তা হলে একমনা হওয়ার, একই প্রেম রাখার, পুরোপুরিভাবে একতাবদ্ধ হওয়ার এবং একই চিন্তা করার মাধ্যমে আমার আনন্দ পূর্ণ করো। ৩ ঝগড়া করার মনোভাব কিংবা আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব নিয়ে কিছুই কোরো না, বরং নম্রতা সহকারে অন্যকে নিজেদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করো ৪ এবং কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।
৫ খ্রিস্ট যিশুর যে-মনোভাব ছিল, তোমাদের মধ্যেও সেই একই মনোভাব রাখো। ৬ ঈশ্বরের মতো হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কখনো ঈশ্বরের পদ নিতে চাওয়ার মাধ্যমে ঈশ্বরের সমান হওয়ার কথা চিন্তা করেননি। ৭ বরং তিনি নিজের সমস্ত কিছু ত্যাগ* করেছিলেন, দাসের মতো হয়েছিলেন এবং মানুষ হিসেবে জন্মেছিলেন।* ৮ এ ছাড়া, তিনি যখন মানুষ হিসেবে এসেছিলেন, তখন নিজেকে নত করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত, হ্যাঁ, যাতনাদণ্ডে* মৃত্যু পর্যন্ত, বাধ্যতা দেখিয়েছিলেন। ৯ এইজন্য ঈশ্বর তাঁকে আগের চেয়ে আরও উচ্চ এক পদ দিলেন এবং সদয়ভাবে তাঁকে সেই নাম দিলেন, যা অন্য সমস্ত নামের চেয়ে মহৎ, ১০ যেন যিশুর নামে প্রত্যেকে অর্থাৎ যারা স্বর্গে রয়েছে, যারা পৃথিবীতে রয়েছে এবং যারা ভূমির নীচে রয়েছে,* তারা হাঁটু পাতে ১১ এবং প্রত্যেকে প্রকাশ্যে স্বীকার করে যে, যিশু খ্রিস্টই হলেন প্রভু আর এভাবে যেন পিতা ঈশ্বরের গৌরব হয়।
১২ আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তোমরা সবসময়ই বাধ্যতা দেখিয়েছ, যখন আমি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনও দেখিয়েছ এবং এখন আমি তোমাদের সঙ্গে না থাকার সময়ও আরও বেশি দেখাচ্ছ। একইভাবে, তোমরা প্রত্যেকে আরও সম্মান ও ভয় সহকারে প্রচেষ্টা করে চলো, যেন পরিত্রাণ লাভ করতে পার। ১৩ কারণ ঈশ্বরই তাঁর আকাঙ্ক্ষা অনুসারে তোমাদের শক্তি দেন এবং তোমাদের মধ্যে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতা, উভয়ই দেন। ১৪ তোমরা বচসা ও তর্কবিতর্ক ছাড়াই সমস্ত কাজ করে চলো, ১৫ যেন তোমরা নির্দোষ ও শুদ্ধ হও, এই পাপী ও কুটিল প্রজন্মের লোকদের মধ্যে ঈশ্বরের এমন নিষ্কলঙ্ক সন্তান হও, যাদের মধ্যে তোমরা এই জগতে জ্যোতির মতো আলো ছড়িয়ে দিচ্ছ ১৬ এবং জীবনের বাক্য দৃঢ়ভাবে ধরে রাখছ। এর ফলে, খ্রিস্টের দিনে এটা জেনে আমার আনন্দ করার কারণ থাকবে যে, আমি বৃথা দৌড়াইনি বা বৃথা পরিশ্রম করিনি। ১৭ কিন্তু, তোমাদের বিশ্বাস তোমাদের যে-পবিত্র সেবা* করতে অনুপ্রাণিত করেছে, সেটার উদ্দেশ্যে আমাকে যদি দ্রাক্ষারস* উৎসর্গ করার মতো* ঢেলে দেওয়া হয়, তবুও আমি খুশি এবং তোমাদের সকলের সঙ্গে আমি আনন্দ করি। ১৮ একইভাবে, তোমরাও খুশি হও এবং আমার সঙ্গে আনন্দ করো।
১৯ আমি আশা করছি, যদি প্রভু যিশুর ইচ্ছা হয়, তা হলে আমি শীঘ্রই তীমথিয়কে তোমাদের কাছে পাঠাব, যাতে তোমাদের খবরাখবর শোনার পর আমি উৎসাহিত হই। ২০ কারণ তোমাদের কাছে পাঠানোর জন্য তীমথিয়ের মতো এমন আর কেউ নেই, যে প্রকৃতই তোমাদের জন্য চিন্তা করবে। ২১ কারণ অন্য সকলে যিশু খ্রিস্টের বিষয় নয়, বরং নিজেদের বিষয় নিয়েই চিন্তা করে। ২২ কিন্তু, তোমরা তীমথিয়ের উত্তম উদাহরণের কথা জান যে, বাবার সঙ্গে সন্তান যেমন কাজ করে, তেমনই তিনি সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে দাসত্ব করেছেন। ২৩ আমার প্রতি কী ঘটে, তা জানার সঙ্গেসঙ্গে আমি তাকেই তোমাদের কাছে পাঠাব বলে আশা করছি। ২৪ আর যদি প্রভুর ইচ্ছা হয়, তা হলে আমি নিজেও শীঘ্রই তোমাদের কাছে আসব।
২৫ কিন্তু, এখন আমি আমার সহবিশ্বাসী ভাই, সহকর্মী ও সহসেনা এবং যাকে তোমরা আমার প্রয়োজনগুলোর দেখাশোনা করার জন্য পাঠিয়েছিলে, সেই ইপাফ্রদীতকে তোমাদের কাছে পাঠানোর দরকার বলে মনে করছি। ২৬ কারণ তিনি তোমাদের সকলকে দেখার জন্য উৎসুক হয়ে আছেন আর তোমরা তার অসুস্থতার কথা শুনেছ বলে তিনি মন খারাপ করেছেন। ২৭ সত্যিই, তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে, তার মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল; কিন্তু ঈশ্বর তার প্রতি করুণা দেখিয়েছেন, তবে শুধু তার প্রতিই নয় কিন্তু আমার প্রতিও দেখিয়েছেন, যেন ইতিমধ্যেই আমি যে-দুঃখ ভোগ করছি, সেটার চেয়ে আরও বেশি দুঃখ ভোগ করতে না হয়। ২৮ এইজন্য আমি দ্রুত তাকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি, যেন তাকে দেখে তোমরা আবার আনন্দিত হও এবং আমার চিন্তাও কিছুটা কম হয়। ২৯ তাই, প্রভুর অনুসারীদের তোমরা যেভাবে গ্রহণ করে থাক, তেমনই তোমরা তাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করো এবং তার মতো ভাইদের সমাদর করো, ৩০ কারণ খ্রিস্টের* কাজের জন্য তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। তোমরা এখানে ছিলে না বলে, তোমাদের পরিবর্তে তিনি নিজে আমার প্রয়োজনগুলোর দেখাশোনা করতে গিয়ে তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন।
৩ অতএব হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা প্রভুর সঙ্গে একতাবদ্ধ রয়েছ বলে সবসময় আনন্দ করো। তোমাদের আবারও একই কথা লিখতে আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না আর এটা তোমাদের সুরক্ষার জন্য।
২ তোমরা অশুচি লোকদের* কাছ থেকে সাবধান থেকো; যারা অন্যদের ক্ষতি করে, তাদের কাছ থেকে সাবধান থেকো; যারা তোমাদের ত্বকচ্ছেদ* করার জন্য জোর করে,* তাদের কাছ থেকে সাবধান থেকো। ৩ আমরাই তো প্রকৃত ছিন্নত্বক* লোক, কারণ আমরা ঈশ্বরের পবিত্র শক্তির মাধ্যমে পবিত্র সেবা প্রদান করি এবং খ্রিস্ট যিশুকে নিয়ে গর্ব করি এবং আমরা মানুষের বিষয়গুলোর উপর আস্থা রাখি না। ৪ কেউ যদি মানুষের বিষয়গুলোর উপর আস্থা রাখার কারণে গর্ব করতে চায়, তা হলে আমি তো তার চেয়ে আরও বেশি গর্ব করতে পারি। ৫ অষ্টম দিনে আমার ত্বকচ্ছেদ করানো হয়েছিল; আমি জাতিতে ইজরায়েলীয়, বিন্যামীন বংশের লোক, ইব্রীয় পরিবারের একজন ইব্রীয় সন্তান; ব্যবস্থা* পালনের দিক থেকে একজন ফরীশী। ৬ আমি মণ্ডলীকে তাড়না করার ব্যাপারে খুবই উদ্যোগী ছিলাম এবং আইন অনুযায়ী যা সঠিক, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতাম। ৭ কিন্তু, যে-বিষয়গুলোকে আমি অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে দেখতাম, খ্রিস্টের কারণে সেগুলোকে আমি মূল্যহীন বলে গণ্য* করেছি। ৮ আমার প্রভু খ্রিস্ট যিশু সম্বন্ধীয় জ্ঞান এতটাই শ্রেষ্ঠ যে, এরজন্য আমি শুধু এগুলোকেই নয়, বরং সমস্ত কিছুকেই মূল্যহীন বলে গণ্য করি। তাঁর জন্যই আমি সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করেছি এবং সেগুলোকে আবর্জনা বলে গণ্য করি, যেন খ্রিস্টের অনুগ্রহ লাভ করতে পারি ৯ এবং তাঁর অনুসারী হিসেবে গণ্য হতে পারি। কিন্তু, ব্যবস্থা পালন করি বলে আমি ধার্মিক বলে গণ্য হইনি, বরং আমি খ্রিস্টের উপর বিশ্বাস করি বলে আমাকে ধার্মিক বলে গণ্য করা হয়েছে। সত্যিই, যারা খ্রিস্টের উপর বিশ্বাস করে, তাদেরই ঈশ্বর ধার্মিক বলে গণ্য করেন। ১০ আমি খ্রিস্টকে এবং যিনি তাঁকে পুনরুত্থিত* করেছেন, তাঁর শক্তি সম্বন্ধে জানতে চাই। আমি খ্রিস্টের মতো কষ্ট ভোগ করতে চাই এবং তাঁরই মতো নিজেকে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করতে চাই, ১১ যেন আমি যেকোনোভাবে হোক, প্রথম পুনরুত্থান লাভ করতে পারি।
১২ আমি যে ইতিমধ্যে সেই পুরস্কার লাভ করেছি কিংবা ইতিমধ্যে আমার লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছি,* এমন নয়, বরং আমি ক্রমাগত প্রচেষ্টা করছি, যেন যেকোনোভাবে হোক, সেই পুরস্কার লাভ করতে পারি, যেটার জন্য খ্রিস্ট যিশু আমাকে বাছাই করেছেন।* ১৩ ভাইয়েরা, আমি নিজের বেলায় এইরকম মনে করি না যে, আমি ইতিমধ্যে সেই পুরস্কার লাভ করেছি; কিন্তু আমি এই কাজটা করছি: আমি পিছনের বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে প্রাণপণ এগিয়ে চলেছি, যেন সামনের বিষয়গুলো লাভ করতে পারি। ১৪ খ্রিস্ট যিশুর মাধ্যমে ঈশ্বর যে-স্বর্গীয় আহ্বান জানিয়েছেন, সেই পুরস্কার লাভ করার লক্ষ্য নিয়ে আমি দৌড়াচ্ছি। ১৫ তাই এসো, আমরা যারা ইতিমধ্যেই বিশ্বাসে দৃঢ়, আমাদের সবার চিন্তা ও মনোভাব যেন এইরকমই হয়। আর কোনো বিষয়ে যদি তোমাদের অন্যরকম চিন্তা ও মনোভাব থাকে, তা হলে সঠিক চিন্তা ও মনোভাব কী, তা ঈশ্বর তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন। ১৬ আর সেইসঙ্গে আমরা যতটা উন্নতি করেছি, এসো, আমরা ক্রমাগত সেই একই ধারায় চলি।
১৭ ভাইয়েরা, তোমরা সকলে মিলে আমার অনুকারী হও আর আমরা তোমাদের জন্য যেমন উদাহরণ স্থাপন করেছি, সেইমতো যারা চলে, তাদের প্রতি মনোযোগ দাও। ১৮ কারণ এমন অনেকে রয়েছে, যারা যাতনাদণ্ডে* খ্রিস্টের মৃত্যুকে তুচ্ছ করে। তাদের বিষয়ে আমি তোমাদের বার বার বলেছি, কিন্তু এখন চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলছি। ১৯ তাদের পরিণতি হল ধ্বংস আর পেটই* হল তাদের ঈশ্বর এবং যে-বিষয়গুলোর জন্য তাদের লজ্জা বোধ করার কথা, সেগুলো নিয়েই তারা গর্ব করে এবং তারা কেবল পার্থিব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে। ২০ কিন্তু, আমরা তো স্বর্গের নাগরিক আর সেখান থেকে আমরা একজন ত্রাণকর্তার অর্থাৎ প্রভু যিশু খ্রিস্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি। ২১ তিনি আমাদের দুর্বল দেহকে পরিবর্তন করে তাঁর প্রতাপান্বিত দেহের মতো করে তুলবেন। যে-মহাক্ষমতার মাধ্যমে তিনি সমস্ত কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন করেন, সেই মহাক্ষমতা ব্যবহার করেই তিনি তা করবেন।
৪ অতএব, হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা যারা আমার আনন্দ ও মুকুটস্বরূপ আর যাদের দেখার জন্য আমি আকুল আকাঙ্ক্ষী হয়ে আছি, প্রভুর অনুসারী হিসেবে তোমরা ঠিক এভাবেই দৃঢ় থেকো।
২ আমি ইবদিয়া ও সুন্তুখীকে অনুরোধ করছি, তোমরা প্রভুর সেবা করার সময় একই মনোভাব বজায় রাখো। ৩ হ্যাঁ, আমার প্রকৃত সহকর্মী, আমি তোমাকেও অনুরোধ করছি, তুমি আমাদের এই বোনদের সাহায্য করো। কারণ এই বোনেরা সুসমাচার ঘোষণা করার জন্য আমার সঙ্গে এবং ক্লীমেন্ত আর আমার অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এদের সবার নাম জীবনপুস্তকে লেখা রয়েছে।
৪ তোমরা প্রভুর সেবায় সবসময় আনন্দ করো। আমি আবারও বলছি, আনন্দ করো! ৫ তোমাদের যুক্তিবাদিতা* যেন সবার কাছে প্রকাশ পায়। প্রভু কাছেই রয়েছেন। ৬ তোমরা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন হোয়ো না, বরং সমস্ত বিষয়ে প্রার্থনা ও বিনতি দ্বারা আর সেইসঙ্গে ধন্যবাদ সহকারে তোমাদের অনুরোধ ঈশ্বরকে জানাও; ৭ এতে ঈশ্বরের সেই শান্তি খ্রিস্ট যিশুর মাধ্যমে তোমাদের হৃদয় ও মনকে* রক্ষা করবে, যে-শান্তির কথা মানুষ চিন্তাও করতে পারে না।
৮ অতএব ভাইয়েরা, যা-কিছু সত্য, যা-কিছু গুরুত্বপূর্ণ,* যা-কিছু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সঠিক,* যা-কিছু শুদ্ধ,* যা-কিছু প্রীতিজনক, যা-কিছু সুখ্যাতিযুক্ত, যা-কিছু সদ্গুণসম্পন্ন এবং যা-কিছু প্রশংসনীয়, সেগুলো বিবেচনা* করো। ৯ তোমরা আমার কাছ থেকে যা-কিছু শিখেছ আর সেইসঙ্গে যে-বিষয়গুলো গ্রহণ করেছ এবং আমাকে যা-কিছু বলতে শুনেছ এবং করতে দেখেছ, সেগুলো করো। এতে শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে থাকবেন।
১০ প্রভুর দাস হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত, কারণ তোমরা আবারও দেখাচ্ছ যে, তোমরা আমার জন্য চিন্তা কর। অবশ্য, তোমরা সবসময়ই আমার জন্য চিন্তা করতে, কিন্তু কিছু সময়ের জন্য তা দেখানোর সুযোগ তোমরা পাওনি। ১১ আমি অভাবের মধ্যে রয়েছি বলে যে এই কথা বলছি, তা নয়। কারণ যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি সন্তুষ্ট থাকতে* শিখেছি। ১২ আমি জানি, কীভাবে অভাবের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়, আবার কীভাবে প্রাচুর্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়। সমস্ত বিষয়ে এবং সমস্ত পরিস্থিতিতে, ভরা পেটে হোক কিংবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় হোক, প্রাচুর্যের মধ্যে হোক কিংবা অনটনের মধ্যে হোক, আমি সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছি। ১৩ যিনি আমাকে শক্তি দেন, তাঁর মাধ্যমে আমি সব কিছুই করতে পারি।
১৪ যাই হোক, তোমরা আমার ক্লেশের সময়ে আমাকে সাহায্য করে ভালোই করেছ। ১৫ হে ফিলিপীয়েরা, তোমরাও জান যে, তোমরা যখন প্রথম সুসমাচার সম্বন্ধে জেনেছিলে এবং আমি ম্যাসিডোনিয়া থেকে চলে গিয়েছিলাম, তখন তোমরা ছাড়া আর কোনো মণ্ডলীই আমাকে সাহায্য করেনি কিংবা আমার সাহায্য গ্রহণ করেনি; ১৬ কারণ আমি যখন থিষলনীকীতে ছিলাম, তখন তোমরা এক বার নয়, বরং দু-বার আমার প্রয়োজনীয় বিষয় পাঠিয়েছিলে। ১৭ আমি যে কোনো উপহার পেতে চাইছি, তা নয়, কিন্তু আমি চাই যেন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তোমাদের ভালো কাজগুলো আরও বৃদ্ধি পায়। ১৮ আমার যা-কিছু প্রয়োজন, সেই সমস্ত কিছুই আমার রয়েছে, এমনকী বেশিই রয়েছে। আমার কোনো কিছুরই অভাব নেই, কারণ ইপাফ্রদীতের মাধ্যমে তোমরা যা যা পাঠিয়েছ, সেগুলো আমি পেয়েছি আর সেগুলো ঈশ্বরের কাছে এক সুগন্ধি, গ্রহণযোগ্য ও প্রীতিজনক বলির মতো। ১৯ আর এর প্রতিদানে অশেষ সম্পদের অধিকারী আমার ঈশ্বর, খ্রিস্ট যিশুর মাধ্যমে তোমাদের সমস্ত প্রয়োজন মেটাবেন। ২০ যুগে যুগে চিরকাল আমাদের ঈশ্বর ও পিতার গৌরব হোক। আমেন।
২১ খ্রিস্ট যিশুর শিষ্য এমন প্রত্যেক পবিত্র ব্যক্তিকে আমার শুভেচ্ছা জানিয়ো। আমার সঙ্গে থাকা ভাইয়েরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ২২ সমস্ত পবিত্র ব্যক্তি, বিশেষ করে কৈসরের* রাজপ্রাসাদের লোকেরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
২৩ তোমরা যে-ভালো মনোভাব দেখিয়ে থাক, সেটার উপর প্রভু যিশু খ্রিস্টের মহাদয়া থাকুক।
বা “পরস্পরের হোঁচট খাওয়ার।”
রোমীয় সম্রাটদের দেহরক্ষী।
বা “আমার মাধ্যমে।”
আক্ষ., “তিনি নিজেকে শূন্য।”
আক্ষ., “মানুষের মতো হয়েছিলেন।”
শব্দকোষ দেখুন।
অর্থাৎ যে-মৃত ব্যক্তিরা পুনরুত্থিত হবে।
বা “যে-জনসেবা।”
বা “ওয়াইন।”
বা “যদি পেয় নৈবেদ্য হিসেবে।”
বা সম্ভবত, “প্রভুর।”
আক্ষ., “তোমরা কুকুরদের।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “যারা দেহে কাটাছেঁড়া করে।”
শব্দকোষ দেখুন।
মথি ৫:১৭ পদের পাদটীকা দেখুন।
বা সম্ভবত, “সেগুলোকে স্বেচ্ছায় ত্যাগ।”
শব্দকোষ দেখুন।
আক্ষ., “ইতিমধ্যে পূর্ণতা লাভ করেছি।”
আক্ষ., “আমাকে ধরেছেন।”
শব্দকোষ দেখুন।
বা “দেহের আকাঙ্ক্ষাই।”
আক্ষ., “মেনে নেওয়ার মনোভাব, নমনীয়তা।”
বা “চিন্তাভাবনাকে।”
বা “গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করার বিষয়।”
বা “যা-কিছু ন্যায্য।”
বা “শুচি।”
বা “সেগুলো নিয়ে চিন্তা; সেগুলো নিয়ে ধ্যান।”
বা “আমি স্বনির্ভরশীল হতে।”
বা “রোমের সম্রাটের।”